ঢাকা , ২০শে জুন ২০১৮ ইং , ৬ই আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
প্রচ্ছদ » আদালত প্রাঙ্গণ » বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় চায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় চায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

বিচার বিভাগের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয়ের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, আপিল বিভাগের শৃঙ্খলাবিধির মামলা প্রথম উঠে আসে ২০১২ সালের ৩০ মে। ওই সময় থেকে অধনস্ত আদালতে আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বারের সভাপতি আরও বলেন, ২০০৭ সালের পরে আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলা বিধিমালার একটি খসড়া সুপ্রিম কোর্টে পাঠায় এবং সেই বিধিমালার ওপর শুনানি শেষে জানানো হয় যে, বিধিমালাটি মাসদার হোসেন রায়ের পরিপন্থি। পরে আপিল বিভাগ খসড়া সংশোধনী আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠান। সেই খসড়া নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় এবং বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপোড়েন চলে। এ পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে জোর করে ছুটিতে পাঠানো হয় এবং পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এ অবস্থায় সরকারের আইন মন্ত্রণালয় অধনস্ত আদালতের বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলা বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করে যা আপিল বিভাগ বুধবার গ্রহণ করেন।

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। তবে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি বিচার বিভাগের জন্য একটি সতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু এ গেজেটে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাই আমরা আশাকরি সরকার মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করে বিচার বিভাগ পরিচালনায় আইন মন্ত্রণালয়ের প্রভাবমুক্ত একটি বিচার বিভাগীয় সচিবালয় স্থাপন করে পুনরায় গেজেটটি সংশোধিত আকারে প্রকাশ করে আপিল বিভাগে উপস্থাপন করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর নির্ভর করে সংবিধান সুরক্ষা, মানবাধিকার, সুশাসন, গণতন্ত্র এবং নাগরিকদের মৌলিক ভোটের অধিকার। তাই সব মহলকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ সম্পাদক শামীমা সুলতানা দিপ্তী এবং বারের সদস্য তাহসিন আলী।

সুপ্রিমকোর্ট প্রতিনিধি/ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম