ঢাকা , ১৬ই আগস্ট ২০১৮ ইং , ১লা ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ব্রিটিশ কারাবিধি থেকে বের হচ্ছে বাংলাদেশের কারাগার

ব্রিটিশ কারাবিধি থেকে বের হচ্ছে বাংলাদেশের কারাগার

ব্রিটিশ শাসনামলের প্রায় ১২৪ বছরের পুরাতন কারাবিধি থেকে বের হচ্ছে বাংলাদেশের কারাগার। ১৮৯৪ সালে প্রণীত ব্রিটিশ কারাবিধি থেকে বের হয়ে নতুন বিধি প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কারাবিধিতে প্রবেশ করছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন কারাবিধিতে ১৫৯টি আইন রয়েছে। এর মধ্যে ৮০টি আইনের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে। সবগুলো আইনের পর্যালোচনা শেষ হলে এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারপর মন্ত্রিসভা হয়ে আইনটি পাশের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে।

সব প্রক্রিয়া শেষ করার মাধ্যমে চলতি বছরের মধ্যেই নতুন কারাবিধি কার্যকর হওয়ার আশা প্রকাশ করছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।

আজ রোববার (১৮ মার্চ) কারা অধিদফতরে কারা সপ্তাহ-২০১৮ এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন তিনি।

আইজি প্রিজন বলেন, নতুন আইনের পর কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পুরো প্রক্রিয়া চালু সম্ভব হবে। বর্তমানে ১৮৯৪ সালের প্রিজন অ্যাক্ট (কারাবিধি) কার্যকর রয়েছে, আর প্রচলিত জেলকোড প্রবর্তন করা হয় ১৮৬৪ সালে। কিন্তু আমরা আগে প্রিজন অ্যাক্ট প্রণয়ন করছি। প্রিজন অ্যাক্টের আলোকে জেলকোড প্রণয়ন করা হবে।

কারাগারে মাদক প্রবেশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ব্রি. জে. সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, বর্তমানে কারাবন্দিদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৯৭ শতাংশই মাদকাসক্ত। একটি কারাগারে ৭-৮ হাজার বন্দির মধ্যে যদি তিন হাজার বন্দি সবসময়ই চেষ্টা করে মাদক প্রবেশ করানোর জন্য, আর বিভিন্ন শিফট মিলিয়ে যদি ১০০ কারারক্ষী তা ঠেকাতে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে বিষয়টা কষ্টসাধ্য।

শরীরের অভ্যন্তরেসহ বিভিন্ন অভিনব পন্থায় মাদক প্রবেশ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পন্থা ধরতেও আমাদের সময় লাগে। উন্নত দেশের কারাগারেও শতভাগ মাদক প্রবেশ বন্ধ সম্ভব হয়নি। তারপরও এসব প্রতিরোধে বেশ কিছু কারাগারে লাগেজ স্ক্যানার স্থাপন করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো বডি স্ক্যানারও বসানো হচ্ছে কারাগারেই।

মাদকের সঙ্গে কারারক্ষীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলেই বরখাস্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আইজি প্রিজন জানান, ‘সংশোধন ও প্রশিক্ষণ, বন্দির হবে পুনর্বাসন’ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে ২০-২৬ মার্চ কারা সপ্তাহ পালিত হবে। ২০ মার্চ গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে এবারের কারা সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

দেশের ৬৮টি কারাগারে একসঙ্গে ‘কারা সপ্তাহ- ২০১৮’ এবং ‘বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন’ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।