ঢাকা , ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং , ৭ই আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
প্রচ্ছদ » জাতীয় » শিক্ষার্থী রাজীবের হাত বিচ্ছিন্ন: দুই বাসচালক রিমান্ডে

শিক্ষার্থী রাজীবের হাত বিচ্ছিন্ন: দুই বাসচালক রিমান্ডে

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেপরোয়া দুই বাসের চাপায় তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের হাত বিচ্ছিন্নের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার উভয় বাসের চালককে দুই দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর হাকিম আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এ আদেশ দেন।

এ দিন সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজির করে শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিন দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

দুই চালক হলেন- বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ ও স্বজন পরিবহনের বাসের চালক মো. খোরশেদ। এদের দুজনকে বুধবার গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর আগে, মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছলে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসি বাসটির গা ঘেঁষে অতিক্রম করে। দুই বাসের প্রবল চাপে গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ওই ঘটনার পর পথচারীরা রাজীবকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাজীবের ডান হাত কুনইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তবে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক আফতাব আলী জানান, ঘটনার পরপরই স্বজন পরিবহনের চালক বাস রেখে পালিয়ে যায়। পরে বুধবার দোতালা বাসের চালক ওয়াহিদ ও স্বজন পরিবহনের বাসের চালক মো. খোরশেদকে গ্রেফতার করা হয়।

রাজীবের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। পড়ালেখার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার টাইপ করে তিনি নিজের এবং ছোট দুই ভাইয়ের খরচ চালাতেন বলে রাজীবের মামা জাহিদুল জানিয়েছেন।

ওই ঘটনায় রাজিব হোসেনকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বুধবার রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন এবং তার কৃত্রিম হাত প্রতিস্থাপন করা হলে তার খরচও দুই বাসমালিক কর্তৃপক্ষকে বহন করতে আদেশ দেন আদালত।