দুর্নীতির উৎস বন্ধে দুদকের ৯৮ সুপারিশ

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০১৮ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) - এর প্রধান কার্যালয়

দুর্নীতির উৎস বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৯৮ টি সুপারিশ করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে গত রোববার পেশ করা দুদকের গত বছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে দুর্নীতির উৎস বন্ধে এসব কঠোর কার্যক্রম গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির কাছে এ প্রতিবেদন পেশ করেন।

বার্ষিক ওই প্রতিবেদনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক ও জনপথ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, আয়কর বিভাগ, কাস্টমস, ভ্যাট বিভাগসহ মোট নয়টি খাতে দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে মোট ৯৮টি সুপারিশ করা হয়।

এতে বলা হয়, দুর্নীতির উৎস বন্ধে আরও কঠোর হবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকল্প বাস্তবায়ন, বন্দর কার্যক্রম, ট্যাক্স, ভ্যাট, সরকারি জমি বেহাত, সেবার নামে জনগণকে জিম্মি করে লাগামহীন দুর্নীতি, ব্যাংকিং খাতে জালিয়াতি, দুর্নীতিসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দুর্নীতির আগাম খবর সংগ্রহ করবে কমিশন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাঁদ পেতে ঘুষখোর ধরার পরিসর আরও বিস্তৃত হচ্ছে। অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অন্য কোনো পরিচয় বিবেচনা করা হয় না।

দুদক সূত্র জানায়, গত বছর মামলা দায়েরের হার কমলেও আদালতে আসামিদের সাজার হার বেড়েছে। এই বছরে এক হাজার ৪৪৫টি অভিযোগ অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানের পর মামলা করা হয় ২৭৩টি। এর আগের বছর ২০১৬-তে মামলা হয়েছিল ৩৫৯টি। ২০১৫ সালে হয়েছিল ৫২৭টি।

এদিকে গত বছর দুর্নীতি মামলায় সাজার হার বেড়ে ৬৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর আগে সাজার হার ছিল ২০১৬ সালে ৫৪ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৩৭ শতাংশ ও ২০১৪ সালে ৪৬ শতাংশ।

প্রতিবেদনে শিক্ষা খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁস বন্ধে জোর দেওয়া হয়েছে। যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর এতে সংশ্নিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে মামলা করা হবে।

কমিশন সুপারিশ করেছে, বিশেষ লক সংবলিত বাক্সের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রতিটি ট্রেজারিতে প্রশ্নপত্র পাঠাতে হবে। যা জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে খুলতে হবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা যতদূর সম্ভব কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও বেতন-ভাতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।