ঢাকা , ২৪শে জুন ২০১৮ ইং , ১০ই আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
প্রচ্ছদ » জাতীয় » একরামের স্ত্রীর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে র‍্যাব

একরামের স্ত্রীর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে র‍্যাব

দুই মেয়ের সাথে টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক

মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, র‍্যাব ও একটি সংস্থার লোকেরা তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করেছেন। গতকাল বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এদিকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একরামুল নিহত হওয়ার আগ মুহূর্তের কথোপকথন ও ওই সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে একটি অডিও টেপ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান গণমাধ্যমকে বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত অডিও টেপটি তাঁদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তাঁরা খতিয়ে দেখছেন।

একরামুল হকের স্ত্রী আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমি হলফ করে বলতে পারি, একরামুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিলেন না। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একরামুল ১২ বছর টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।’

মাদকবিরোধী অভিযানে গত ২৬ মে দিবাগত রাতে টেকনাফে গুলিতে নিহত হন একরামুল হক। এ ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও পরিবার দাবি করে আসছে, বিভিন্ন তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও একরামুল ইয়াবা ব্যবসায়ী ছিলেন না। একরামুলের স্ত্রী গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেও একই কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে একরামুল হকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের রেকর্ড সাংবাদিকদের শোনানো হয়। এতে গুলির শব্দ, লোকজনের চিৎকার ও বাঁশির আওয়াজ শোনা যায়।

একরাম নিহত হওয়ার পর তাঁর পরিবার আর টেকনাফে নেই। স্ত্রী আয়েশা বেগম দুই কিশোরী মেয়ে তাহিয়াত ও নাহিয়ানকে নিয়ে চট্টগ্রামে বাবার বাড়িতে চলে গেছেন। তাহিয়াত অষ্টম ও নাহিয়ান ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে আয়েশা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কী অন্যায় করেছিল আমার স্বামী? ইয়াবা তালিকায় নাম থাকলেই কি একটা মানুষকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করতে হবে? তাঁর জনপ্রিয়তা কি একটুকুও যাচাই করা হবে না। তিনি যদি খারাপ লোক হতেন, তাহলে টেকনাফ পৌরসভার তিন-তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন কী করে?’

আয়েশা বলেন, একরামকে ধরে নেওয়ার সময় তিন দফা মুঠোফোনে কথা হয়। তখন তিনি কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে মেয়ে ও তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। রাত ১১টা ১৪ মিনিটে ফোন করলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি ইউএনও অফিসে যাচ্ছি। কাজ শেষে ইনশা আল্লাহ ফিরে আসব। এরপর সর্বশেষ রাত ১১টা ৩২ মিনিটে আবারও ফোন করলে ফোন রিসিভ হয়। কিন্তু এ সময় তিনি আর কথা বলছিলেন না। অপরিচিত একটি কণ্ঠের কথা বলতে শোনা যায়। সেই অপরিচিত কণ্ঠ তাঁকে বলছেন, “তাহলে তুমি জড়িত নও।” আমার স্বামী উত্তর দেন, “না, আমি জড়িত নই।” এরপরই গুলির আওয়াজ ও স্বামীর আর্তচিৎকার শুনতে পাই।’

আয়েশা বিবিসিকে বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে র‍্যাব-৭-এর গাড়ি দেখে তাদের বললাম, আপনারা কেন আমার স্বামীকে খুন করছেন? তখন ওনারা বলেছেন, ওপর থেকে অর্ডার এসেছে। আল্লাহর কাছে বিচার দেন। আমরা কাজ করার মানুষ। আমরা শুধু অর্ডার পালন করছি।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিজানুর রহমান গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এত দিন আমাদের বলা হচ্ছিল বন্দুকযুদ্ধে তারা নিহত হচ্ছে। কিন্তু অডিও ক্লিপটা শুনে এটা স্পষ্ট যে সেখানে বন্দুকযুদ্ধের ধারেকাছেরও কোনো ঘটনা ঘটেনি। যুদ্ধের লেশমাত্রও নেই। যা হয়েছে সেটা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।’

তিনি বলেন, যদি আইনকে উপেক্ষা করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়, তারা যদি মনে করে বিচারবহির্ভূতভাবে তারা এসব নির্মূল করবে, তাহলে ভালো মানুষের প্রাণ যাবে। এ ব্যবস্থা একটি সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজে কখনো কাম্য হতে পারে না। প্রথম আলো

ডেইলি স্টারের সৌজন্যে অডিও টেপটি প্রকাশ করা হলো: