ভোটার ১০ কোটি, ভোটকেন্দ্র ৪০ হাজার, ভোটকক্ষ প্রায় ২ লাখ

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০১৮ ১২:০৬ অপরাহ্ণ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্র থাকছে। যা বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে ৩ হাজার কেন্দ্র বেশি। ৩শ’ সংসদীয় আসনের সমতল এলাকায় ৩৯ হাজার ৩৮৭টি এবং পার্বত্য এলাকায় ৬১৩টি ভোটকেন্দ্র থাকছে। এবার ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটারের জন্য এই ভোটকেন্দ্র থাকছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোও চিহ্নিত করছে কমিশন। ভোটকক্ষ হবে প্রায় ২ লাখ।

ইসির একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্র খসড়া ভোটকেন্দ্র। চূড়ান্ত তালিকায় কমবেশি হতে পারে। ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে ‘ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা’ পাঠানো হয়েছে।’

সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে কমিশন বৈঠকে ভোটকেন্দ্রের এ তালিকা অনুমোদন দেয়া হয়। এ-সংক্রান্ত নীতিমালাও চূড়ান্ত করা হয়। এরপরই কর্মকর্তাদের কাছে তা পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন আসনভিত্তিক ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এরপর খসড়া তালিকা করা হবে। আপত্তি-নিষ্পত্তি শেষ করে সেই তালিকা কমিশনের কাছে পাঠাবেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। পরে তা চূড়ান্ত করবে কমিশন।

ভোটকেন্দ্রের নীতিমালায় বলা হয়েছে, গড়ে আড়াই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র এবং গড়ে ৬০০ পুরুষের জন্য ও ৫০০ নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ নির্ধারণ করতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভোটকেন্দ্র স্থাপনে যতদূর সম্ভব বিরত থাকতে হবে।

জানা যায়, যাতায়াত-ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা বিবেচনায় কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়। তবে বরাবরই অভিযোগ ওঠে ক্ষমতাসীন দল কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়। এবার এ ব্যাপারে ইসি সতর্ক থাকবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান।

তবে ইসির উপসচিব ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সাধারণত আগের নির্বাচনে যেসব কেন্দ্রে ভোট হয়েছিল, সেগুলো অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে নদীভাঙন ও দুর্যোগে ভোটকেন্দ্র বিলুপ্ত হলে নতুন ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেইসঙ্গে কিছু এলাকায় ভোটার বাড়ায় সেখানে নতুন কেন্দ্র করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে ভোটকেন্দ্রের তালিকা করবে। তফসিল ঘোষণার পর ভোটকেন্দ্রের কোনো প্রার্থীর বাড়ির কাছে বা প্রভাব বলয়ের মধ্যে পড়ছে বলে প্রমাণিত হলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা যাবে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মিললে ইসি তা পরিবর্তন করতে পারবে।’

বিগত নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নবম সংসদে ৮ কোটি ১০ লাখের বেশি ভোটারের জন্য ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৫ হাজার ২৬৩টি। আর ভোটকক্ষ ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৭টি। সর্বশেষ দশম সংসদ নির্বাচনে ৯ কোটি ১৯ লাখ ভোটারের বিপরীতে ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৭ হাজার ৭০৭। এ সময় ৩০০ আসনে ভোটকক্ষ ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮টি। জাগোনিউজ