ঢাকা , ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং , ৬ই আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
প্রচ্ছদ » জাতীয় » আইনজীবী ছাড়াই দাখিল করা যাবে আয়কর রিটার্ন

আইনজীবী ছাড়াই দাখিল করা যাবে আয়কর রিটার্ন

আয়কর

রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে ঝুট-ঝামেলা আর থাকছে না। আইজীবীর ওপরও আর নির্ভর করতে হচ্ছে না। আয়কর প্রদানে জটিলতামুক্ত হওয়ার সময় এসে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান ‘ডিকে টেকনোলোজি’-ইলেকট্রনিক্যালি ‘বিডি ট্যাক্স’ নামক রিটার্ন দাখিলের জন্য একটি সফটওয়্যার রয়েছে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে করদাতারা আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল করতে পারছেন। প্রযুক্তিভিত্তিক এ উদ্যোগটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। করদাতাদের আইনী ও প্রশাসনিক যেসব ঝামেলা পোহাতে হয় তা লাঘব করার লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে সফটওয়্যারটি। একই সঙ্গে রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা ডিজিটাল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারকে সহায়তা করাও এর লক্ষ্য।

এই পদ্ধতির একটি সুবিধা হলো, আগে থেকেই নিবন্ধিত থাকার কারণে ক্লায়েন্টকে দ্বিতীয়বার কর নথিভুক্তিকরণ তথ্য পূরণ করতে হচ্ছে না। এছাড়া ক্লায়েন্টের ক্লাউড সার্ভারে করদাতার তথ্য সংরক্ষিত থাকায় আগের তথ্য বা ডাটা ফিরে পেতে সক্ষম হচ্ছেন। এমনকি আগের তথ্য সম্পর্কে জানা, ট্যাক্স পরিমাণ অথবা অন্য কিছু সম্পর্কে ব্যবহারকারীরা সহজেই তথ্য দেখতে পারছেন। এছাড়া ডাটা-রিকভারি সিস্টেম নিশ্চিত থাকায় এবং ক্লায়েন্ট যে কোন জায়গায় যে কোন সময় তাদের ফরম পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছেন।

২০১৫ সালের অক্টোবরে সফটওয়্যারটি চালু হয়। ইতোমধ্যে ১০০টি ‘ল’ ফার্ম এবং ৩০০টিরও বেশি কর্পোরেট ক্লায়েন্ট এবং ২৫ হাজার ব্যক্তি এই সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

বিডি ট্যাক্স ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জুলফিকার আলী বলেন, কাগজভিত্তিক নথিপত্র দাখিল করা সময়সাপেক্ষ। আর এতে সংবেদনশীল ক্লায়েন্টের তথ্য হারিয়ে যাওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা চুরি যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে ডিকে টেকনোলজি দল এ সফটওয়্যারের ধারণা নিয়ে এসেছে এ্যাকাউন্টেট এবং আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই। গুরুত্বপূর্ণ ট্যাক্স-সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করতে পারে এবং দ্রুত ঝামেলা ছাড়াই রিটার্ন দাখিলে করদাতাদের সহায়তা করা যায়।

তিনি আরও বলেন, এতে কোন আইনী সমস্যা নেই। কেননা এনবিআর ফর্মের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এটা তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছে ট্যাক্স আইনজীবীদের সঙ্গেও।

উন্নত বিশ্বে ট্যাক্সের অবস্থান ও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে জুলফিকার আলী বলেন, যে দেশ যত বেশি ট্যাক্স আহরণ করে, সে দেশ ততবেশী উন্নয়ন করতে পারে। উন্নত বিশ্বে ট্যাক্স আহরণের পদ্ধতি আমাদের দেশের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। তারা বেশি ট্যাক্স আহরণ করে তাই তারা বেশি উন্নয়ন করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, ২০১৮ সালে ইউএস বাজেটে আয়করের রাজস্ব ছিল ৬.২ ট্রিলিয়ন ডলার।

সেখানকার ৫৩ শতাংশ লোক আয়কর দেয়, আর বাংলাদেশে ২ থেকে ২.৫ শতাংশ লোক নিয়মিত কর দেয়। মার্কিন সর্বনিম্ন বাৎসরিক আয় সীমা ১৫০০০ ডলার, আর বাংলাদেশে ২,৫০০০০ টাকা। এই পার্থক্যই বলে দেয় আমাদের অবস্থান। তাই কর দাতাদের সংখ্যা বাড়ানো জরুরী।

উল্লেখ্য, ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু মাত্র ৩৫ লাখ মানুষের ই-টিআইএন আছে। এর মধ্যে মাত্র ২৫ লাখ লোক কর দেয়।