ঢাকা , ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং , ৬ই আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
প্রচ্ছদ » বিদেশের আইন আদালত » সমকামিতাকে বৈধতা দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

সমকামিতাকে বৈধতা দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

সমকামিতা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল ভারতের শীর্ষ আদালত। রায়ে সমকামিতার অধিকার বৈধ হল ভারতে।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সমকামিতাকে বৈধতা দেয়।

ভারতে সমকামিতাকে অপরাধ বলেই গণ্য করা হত। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী যদি একই লিঙ্গের মানুষ যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের যাবজ্জীবন বা ১০ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। সেই সঙ্গে জরিমানাও হতে পারে।

কিন্তু শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, ৩৭৭ ধারায় সমকামিতার অধিকার খর্ব করা অযৌক্তিক এবং অপ্রাসঙ্গিক। দু’জন সমলিঙ্গের মানুষ যদি ব্যক্তিগত পরিসরে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়, তাহলে তা কোনও অপরাধ নয়। এলজিবিটি সমাজের মানুষদের অন্যান্য নাগরিকের মতোই সমান অধিকার রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে ব্যক্তিগত পরিসরের অধিকার একটি মৌলিক অধিকারের অঙ্গ বলে স্বীকৃত হওয়ার পরেই সমকামিতা নিয়ে আন্দোলনকারীদের মনে আশার আলো জেগেছিল। সেই রায়ের আলোতেই সমকামিতার অধিকার বৈধ হল ভারতে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র তাঁর রায়ে এই কথাই উল্লেখ করেছেন।

১৮৬০ সালে ব্রিটিশ আমলে তৈরি হয়েছিল এই আইন। ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট রায় দেয় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ নম্বর ধারা সংবিধানের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করছে।

তবে কিছু ধর্মীয় সংগঠন এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়। ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট সমকামিতার অধিকার নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে খারিজ করে দেয়। আবার সমকামিতাকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করে। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, এই আইন বাতিল করা সংসদের কাজ।

যদিও ৩৭৭ ধারায় খুব কম লোকই শাস্তি পেয়েছেন, তবু শীর্ষ আদালতের এই রায় সমকামিতার অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের কাছে একটি ধাক্কা ছিল। কারণ এই আইনের অজুহাত দিয়ে সমকামী ও এলজিবিটিদের হেনস্তা করে বলেই দীর্ঘদিনের অভিযোগ।

এর পরেই শীর্ষ আদালতে নাজ ফাউন্ডেশন নামে একটি এনজিও-সহ আরও কয়েকজন ২০১৩ সালের রায়কে পুনর্বিবেচনার আর্জি জানায়।

সূত্র: এবেলা