ঢাকা , ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং , ৬ই আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
প্রচ্ছদ » জাতীয় » দুদককে ‘হাইকোর্ট দেখালেন’ বিএনপি নেতা আমীর খসরু

দুদককে ‘হাইকোর্ট দেখালেন’ বিএনপি নেতা আমীর খসরু

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ডাকে সাড়া দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এজন্য তিনি আদালতে করা রিট আবেদনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

আজ সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে এ অভিমত প্রকাশ করেন চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী।

চিঠিতে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী লেখেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিবেচ্য আছে এবং এরইমধ্যে রিট আবেদনের মাধ্যমে সুরাহার জন্য তোলা হয়েছে, তাই আদালতে বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ না নিতে আবেদন করছি।

গত ২৮ আগস্ট দুদকে হাজিরের কথা থাকলেও গর হাজির থাকেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। পরে ওইদিনই ১০ সেপ্টেম্বর হাজির হতে নির্দেশ দেয় দুদক। ১৬ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাটির পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা কাজী শফিকুল ইসলাম প্রথমে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় হাজির হতে তলবি নোটিশ দেন।

বেনামে পাঁচ তারকা হোটেল ব্যবসা, কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারের অভিযোগে আমির খসরু মাহমুদকে তলব করেছিলো দুদক।

কিন্তু আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী হাজির না হয়ে ঈদের ছুটি ও নথিপত্র সংগ্রহ করতে না পারায় এক মাসের সময় চেয়ে আবেদন করে দুদকে চিঠি পাঠান।

দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক মাসের সময় চেয়ে আবেদন করলেও দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাকে সোমবার পর্যন্ত সময় দিয়ে দুদকে এসে বক্তব্য দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে দুদক জানায়, বিএনপি নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের প্রাক্তন সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে বেনামে পাঁচ তারকা হোটেল ব্যবসা, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনসহ মানিলন্ডারিং করে বিভিন্ন দেশে পাচার অর্থপাচার এবং নিজ, স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে শেয়ারসহ জ্ঞাত আয় বহিভূর্ত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের ১৩ আগস্ট সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

এদিকে ৩ সেপ্টেম্বর আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ এ রিট করেন।

৫ সেপ্টেম্বর রিট আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আমির খসরুর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মওদুদ আহমদ। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

পরে খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, আমির খসরুর আইনজীবীর আবেদনে আদালত বিষয়টি ‘আউট অব লিস্ট’ করেছেন। তারা এখন অন্য বেঞ্চে এ আবেদন নিয়ে যেতে পারবেন।

যদিও আমির খসরু তার সোমবারের চিঠিতে জানিয়েছেন বর্তমানে রিট আবেদনটি আদালতের কার্যতালিকায় রয়েছে।

দুদককে দেওয়া চিঠিতে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও জানান, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেল এর আদালতে শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে। যার তালিকা নম্বর ৩২।

এদিকে আদালত সূত্র জানিয়েছেন, দুদকে লেখা চিঠিতে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শুনানির তথ্য জানালেও আদালতে তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে ‘নট টু ডে’ আবেদন করে তা সোমবারের কার্যতালিকা থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।