ঢাকা , ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং , ৬ই আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
প্রচ্ছদ » জাতীয় » ‘কারা আদালতে’ খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে কিনা জানা যাবে ২০ সেপ্টেম্বর

‘কারা আদালতে’ খালেদার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে কিনা জানা যাবে ২০ সেপ্টেম্বর

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (ফাইল ছবি)

রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে কিনা এ বিষয়ে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর আরও শুনানি করে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন মামলাটির বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

আজ বৃহস্পতিবারও (১৩ সেপ্টেম্বর) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানিতে হাজির হননি কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল বুধবার তিনি আদালতে যেতে পারবেন না বলে কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়ায় আজ মামলাটির শুনানিতে খালেদা জিয়ার না আসার কারণ সম্পর্কে তার আইনজীবীদের কাছে জানতে চান আদালত। এসময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে কারণ ব্যাখ্যা করার আবেদন জানান তার আইনজীবীরা। তবে খালেদা জিয়া আদালতে সশরীরে আসতে না চাইলে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কাজ অব্যাহত রাখার আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর আদালত এ বিষয়ে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর আরও শুনানি করে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টায় রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে মামলাটির বিচারকাজ শুরু হয়। মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন তার দুই আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সানাউল্লাহ মিয়া। আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার পক্ষে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এবং মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে আইনজীবী মো. আক্তারুজ্জামান শুনানিতে ছিলেন। মামলার বাদী ও তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

এ মামলায় গত সাত মাসেও প্রধান আসামি খালেদা জিয়াকে হাজির করতে না পারায় সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরনো ঢাকার বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতটিকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করে। সেখানে গত ৫ সেপ্টেম্বর হওয়া শুনানির দিনে হাজির হলেও গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়া অনুপস্থিত থাকেন। এ বিষয়ে আজ শুনানিতে বিষয়টি খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের কাছে এর আইনি ব্যাখ্যা চান বিচারক ড. আখতারুজ্জামান।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া এবং মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে জানান, খালেদা জিয়া অসুস্থ। তবে তিনি আদালতে আসতে কেন অনিচ্ছুক সেটা জানার জন্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারা দেখা করতে চান এবং তার সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি আদালতকে জানাতে চান।

সানাউল্লাহ মিয়া আদালতকে আরও জানান, খালেদা জিয়া অসুস্থ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসময় আইনজীবীদের দেখা করার বিষয়ে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।

মামলায় খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বিচারককে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘বিচারকের বিরুদ্ধে আমাদের কোনও অনাস্থা বা অভিযোগ নাই। আমরাও চাই বিচার কার্যক্রমে সহযোগিতা করার জন্য। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে এভাবে কারাগারের ভেতরে সংরক্ষিত এলাকায় আদালত স্থাপন আইনসম্মত হয়নি। এছাড়া কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় বিচারকাজ চলাকালে আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকলে বিচারকাজ চলতে পারে কি না সেটা আইনেই আছে এবং আইনে বলা আছে যে এভাবে বিচারকাজ চলতে পারে না।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আগে যেখানে আদালত ছিল সেটা ছিল উন্মুক্ত আদালত। এখন যেখানে আদালত বসানো হয়েছে সেটা উন্মুক্ত আদালত নয়, এই ব্যাখ্যা আমরা আদালতকে দিয়েছি। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়েছে খালেদা জিয়াকে অনুপস্থিত দেখিয়ে বিচারকাজ চালানোর জন্য। তার কোনও ভিত্তি নাই।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেছেন, ‘উনারা জামিন চাইতে পারবেন, অন্যান্য কার্যক্রম চালাতে পারবেন , রুটিন ওয়ার্ক করতে পারবেন। কিন্তু যুক্তিতর্ক চালাতে পারবেন না এটা হতে পারে না। উনারা যদি যুক্তিতর্ক না চালান তাহলে আদালত এই মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া যদি আসতে না পারেন তাহলে তার আইনজীবীরা প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, উনি যদি আদালতের কাস্টডিতে না থাকতো তাহলে সেটা করা যেত। যেহেতু উনি কাস্টডিতে আছেন সেহেতু এটা করা যাবে না।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘খালেদা জিয়া ছাড়া মামলাটির অপর দুই আসামি আদালতে উপস্থিত আছেন। তাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানাই। যদি তারা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে না চান তাহলে এই মামলার রায়ের তারিখ ধার্য করে দেওয়া হোক।’ রায় ধার্য করার ব্যাপারে একটি লিখিত আবেদনও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পরবর্তীতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, না কী এই মামলার বিচারকাজ শেষ করে রায় ঘোষণা করা হবে সে ব্যাপারে ২০ সেপ্টেম্বর আদেশের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এ মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তখনকার একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। মামলার আগে থেকেই হারিছ চৌধুরী পলাতক রয়েছেন।

পুরানো কারাগারে আদালত বসানোর আগে মামলাটির কার্যক্রম রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে চলে আসছিল। এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি অপর আরেকটি মামলা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। রায়ের পর থেকে খালেদা জিয়াকে রাজধানীর পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর এ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ আদালতের কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় সাবেক এই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষে। গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম সেখানে আদালত বসে। ওইদিন খালেদা জিয়া আদালতে গিয়ে বিচারককে বলেন, তিনি অসুস্থ। বার বার তিনি এ আদালতে আসতে পারবেন না। যতদিন ইচ্ছা সাজা দিয়ে দিন। বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) ধার্য তারিখে আবার সেখানে আদালত বসে। কিন্তু সেখানে আসতে অস্বীকৃতি জানান খালেদা জিয়া।