ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে দুই মাসে আড়াই লাখ মামলা, ১৭ কোটি টাকা জরিমানা

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:২৬ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা

ট্রাফিক আইন ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা কীভাবে আনতে হয়, তা চোখে আঙুল দিয়েই দেখিয়েছিল খুদে শিক্ষার্থীরা। লাইসেন্স, হেলমেটের ব্যবহার, লেন মেনে চলা থেকে পুরো সড়কের নিয়ন্ত্রণ ছিল ওদের হাতে। তবে শিক্ষার্থীদের সেই নিরাপদ সড়ক চাই

আন্দোলনের পরও অসচেতনতা ও নিয়ম না মানার প্রবণতা এখনো কমেনি।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের একটি বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। আহত হয় বেশ কয়েকজন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সারা দেশের স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করে। নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় প্রশাসন। এরপর রাজধানীতে ট্রাফিক সপ্তাহের সময় বাড়িয়ে তা সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চলে। সড়কে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে রোভার স্কাউট, বিএনসিসিসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সদস্যরা সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে আড়াই লাখের বেশি। জরিমানা আদায় হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা।

গত কয়েক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে দেখা যায়, যানবাহনের এলোমেলো চলাচল, পদচারী–সেতু ব্যবহারে অনীহাসহ নানান অনিয়ম এখনো চলছে সড়কে। রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ে একটি পদচারী–সেতু রয়েছে। সেখানে সুযোগ পেলেই পথচারীরা চলন্ত গাড়ির ফাঁকফোকর দিয়ে দৌড়ে সড়ক পার হচ্ছেন। শাহীন আহমেদ নামের এক পথচারীও এভাবে দৌড়ে পার হচ্ছিলেন। পদচারী–সেতু রেখে বা সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা না করে ঝুঁকি নিয়ে পার হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, তাড়া থাকার জন্য তিনি এভাবে পার হয়েছেন।

আবার অনেকেই নিরাপদ পারাপারের জন্য পদচারী সেতুও ব্যবহার করেন। সেতু ব্যবহারকারী কেয়া আক্তার বলেন, ‘একটু কষ্ট হয়, সময় লাগে বেশি, কিন্তু সেইফ।’

পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের পাশে একটি পদচারী–সেতু আছে। তবে অনেকেরই তা নজর এড়িয়ে যায়। শপিং মলটিতে ঢোকার জন্য অনেকেই সড়ক দিয়ে পার হন। ঝুঁকির পাশাপাশি এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলো গতি কম রাখতেও বাধ্য হয়। এভাবে পার হওয়া নিয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন পথচারী জানান, তাঁদের ভুল হয়েছে বা তাড়া থাকায় এমনটা করেছেন।

অনেক সড়কেই জেব্রা ক্রসিং রয়েছে। তবে এর ব্যবহার এখনো ঠিকমতো হয় না। গাড়িগুলো বেশির ভাগই ক্রসিংয়ের ওপর বা ক্রসিং পার হয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। কোনো পথচারী সিগন্যালের সময় ক্রসিং দিয়ে পার হতে চাইলেও তা সম্ভব হয় না। বাংলামোটরে ক্রসিং পার হয়ে সামনে দাঁড়ানো এক সিএনজিচালক জানান, ক্রসিংয়ের নিয়ম তিনি জানেন, কিন্তু দ্রুত চলে আসায় ক্রসিং পার হয়ে গিয়েছেন। তবে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা এখন চেষ্টা করেন, গাড়িগুলোকে ক্রসিংয়ের নির্দিষ্ট দাগের পেছনে দাঁড়াতে। তবে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা জানান, এ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলগুলো সহজে ক্রসিংয়ের নিয়ম মানতে চায় না।

রাজধানীর সিগন্যালে বাতিগুলো অকেজো রয়েছে দীর্ঘদিন। হাতের ইশারা ও রশি বেঁধে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রাজধানীর সড়কগুলোতে নতুন করে বাস স্টপেজ লেখা সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। এ ছাড়া সড়কের ওপর সাদা–হলুদ রঙে বাস থামানোর সংকেত–সংবলিত দাগও দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট জায়গা করে দিলেও বাস সেখানে থামে না। পাল্লা দিয়ে ও চলন্ত অবস্থায় যাত্রী তোলার অভ্যাস এখনো যায়নি।

কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউর সড়ক বিভাজকের ওপর কাঁটাতার দেওয়া হয়েছে। যাতে পথচারীরা কেউ পার না হয়। ফার্মগেট থেকে সার্ক ফোয়ারা মোড় পর্যন্ত তিনটি পদচারী–সেতু ও একটি আন্ডারপাস রয়েছে। কিন্তু এরপরও যাত্রীরা কাঁটাতার ডিঙিয়ে ঝুঁকি নিয়ে দৌড়ে সড়ক পার হয়।