দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবেদনশীলতা আরও বাড়াতে চায় দুদক

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:০৪ অপরাহ্ণ
দুদক’ লোগো

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গঠিত সততা সংঘের সদস্যদের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হৃদয়ে নৈতিক মূল্যবোধ প্রোথিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সততা সংঘ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রমের ওপর গবেষণার অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের ওপর অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সোমবার (৫ নভেম্বর) দুদক কার্যালয়ে এমন বক্তব্য তুলে ধরলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দেশের প্রতিটি মহানগর, জেলা, উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩ হাজার ৭১৫টি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এবং ২৫ হাজার ৩৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা সংঘ গঠন করলেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নৈতিক মূল্যবোধকে আরও শাণিত করার ঈপ্সিত লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। এ কারণেই কমিশন এ জাতীয় গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করছে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, গবেষণার নির্যাস হতে হবে সুনির্দিষ্ট, দিকনির্দেশনাপূর্ণ, যাতে কমিশন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। সততা সংঘের সদস্য কিংবা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা নিজেদের জীবনে সততা ও নৈতিকতার চর্চা করেন কি না, গবেষণায় তা স্পষ্টভাবে থাকতে হবে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি এবং সততা সংঘের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে সক্রিয় হয়ে নিজ প্রণোদনায় কাজ করলে তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে সামাজিক ওয়াচডগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে।

তিনি বলেন, কমিশন বিশ্বাস করে, এই গবেষণার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের নৈতিক মূল্যবোধের মানদণ্ডের প্রশ্নে তাদের অবস্থান যেমন জানা যাবে, তেমনি তাদের কাছ থেকেও উদ্ভাবনীমূলক অনেক ধারণা পাওয়া যাবে। কমিশন প্রত্যাশা করে, কমিশনের সব গবেষণা কার্যক্রম হবে নির্মোহ ও পক্ষপাতহীন।

এ সময় দুদক কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, দুর্নীতি যে ভয়ংকর অপরাধ, এ বিষয়ে মানুষকে সংবেদনশীল করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা গেলেই দুর্নীতি প্রতিরোধ সহজ হবে। তিনি বলেন, প্রতিরোধ কমিটির সদস্য কিংবা সততা সংঘের সদস্যদের ব্যক্তিজীবনেও সততার দৃষ্টান্ত রাখতে হবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ এবং প্রধান গবেষক শাহজাবীন কবির। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদক মহাপরিচালক (মানি লন্ডারিং) আতিকুর রহমান খান, মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) খান মো. নূরুল আমিন, পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।