পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ৭ বছরের কারাদণ্ড

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ৫:০৪ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ

আল আজিজিয়া দুর্নীতি মামলায় পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে ফ্ল্যাগশিপ দুর্নীতি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের অ্যাকাউন্টেবিলিটি আদালত এ দুই মামলায় নওয়াজের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে।

রায় ঘোষণার সময় ভাতিজা হামজা শাহবাজসহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন নওয়াজ শরিফ।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

লন্ডনে কেনা বিলাসবহুল চারটি ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধে দেওয়া অর্থের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার দায়ে (অ্যাভেনফিল্ড দুর্নীতি মামলা) ৬ জুলাই নওয়াজ শরিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় পাকিস্তানের আদালত। তার মেয়ে মরিয়মকে দেওয়া হয় ৭ বছরের কারাদণ্ড। মরিয়মের স্বামী ও নওয়াজের মেয়ের জামাই অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ সফদরকেও আদালত এক বছরের সাজা দেয়। গত সেপ্টেম্বরে নিম্ন আদালতের দেওয়া এ রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ। মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ৫ লাখ রুপিতে নওয়াজ ও তার পরিবারের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

অ্যাভেনফিল্ড মামলার রায় ঝুলে থাকলেও সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) নওয়াজের বিরুদ্ধে অন্য দুই দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে আল আজিজিয়া দুর্নিত মামলায় নওয়াজকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর ফ্ল্যাগশিপ দুর্নীতি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি।

ডনের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ফ্ল্যাগশিপ ও আল আজিজিয়া দুর্নীতি মামলায় নওয়াজের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে তা বিলম্বিত হয়। রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে রবিবারই নওয়াজ লাহোর থেকে ইসলামাবাদে পৌঁছান। দুপুর ২টার পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন তিনি। তার পৌঁছানোর পর পরই রায় ঘোষণা করে আদালত।

দলের শীর্ষ নেতা নওয়াজের প্রতি সমর্থন জানাতে সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে ভীড় জমান পিএমএল-এন কর্মীরা। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আদালতের দিকে যাওয়ার রাস্তায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও রেঞ্জারের সদস্যদের।অ্যাকাউন্টেবিলিটি আদালতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। রেজিস্ট্রারের অনুমতি না পাওয়া ব্যক্তিদের কেউই সোমবার শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি। পিএমএল-এন নেতা আহসান ইকবাল,মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হাশমিকে সোমবার শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসিসহ অন্য নেতারা প্রবেশের অনুমতি পাননি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল দুনিয়ার প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং রাঘববোয়ালদের আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস করে সাড়া ফেলে দেয় আলোচিত ‘পানামা পেপারস’। ফাঁস হওয়া ওই গোপন নথিতে অর্থ পাচারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছেলের নাম উঠে আসায় নিজ দেশে চাপের মুখে পড়েন তিনি। বিরোধী দলগুলো থেকে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়। ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশে অবৈধ বিনিয়োগের অভিযোগ তদন্তে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। পানামা পেপারস প্রকাশের পর বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), জামায়াতে ইসলামিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত দেয় আদালত। ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেন নওয়াজ শরিফ। আর ওই বছরের সেপ্টেম্বরে নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের সমস্ত সম্পত্তি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার সুপারিশ করা হয়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে নওয়াজ শরিফের পরিবারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করে ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো। এর মধ্যে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে অ্যাভেনফিল্ড দুর্নীতি মামলায় রায় প্রদান করলেও অন্য দুই মামলার শুনানি থেকে নিজেকে বিরত রাখেন বিচারপতি মোহাম্মদ বশির। পরে এ দুই মামলা বিচারপতি আরশাদ মালিকের আদালতে পাঠানো হয়।

অ্যাকাউন্টেবিলিটি আদালতে ওঠা আল আজিজিয়া ও ফ্ল্যাগশিপ দুর্নীতি মামলার উৎস মূলত নওয়াজের দুই ছেলে হুসেইন ও হাসান। সৌদি আরবে আল-আজিজিয়া ও হিল মেটাল কোম্পানি এবং যুক্তরাজ্যে ফ্ল্যাগশিপ ইনভেস্টমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেছেন তারা। এ কোম্পানিগুলো কিভাবে গড়ে উঠেছে এবং কোন সম্পদ ব্যবহার করে তা গড়ে তোলা হয়েছে তা খুঁজে বের করতেই মামলাটি ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো। পরিবারের দাবি ছিল, নওয়াজ নির্বাসনে থাকা অবস্থায় তার বাবা মিঞা শরিফ দুই নাতি হুসেইন ও হাসানকে ওই অর্থ দিয়েছেন। তবে প্রসিকিউটরদের দাবি, নওয়াজের পরিবার ওই তহবিলের উৎসের বৈধতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালতে অব্যাহতভাবে অনুপস্থিত হাসান ও হুসেইন। তাদেরকে আদালত পলাতক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে আগেই।