একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ জানুয়ারি

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
সংসদ অধিবেশন

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী ৩০ জানুয়ারি (বুধবার)। ওই দিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে। সংসদ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংবিধান অনুযায়ী বছরের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন রাষ্ট্রপতি সংসদে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। পরে রাষ্ট্রপতির ওই ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব জানাতে সাধারণ আলোচনা হয়। আবার চলতি সংসদের কোনো এমপি মারা গেলে অধিবেশন শুরুর পর মুলতবি কর হয়। তাই অধিবেশন শুরুর পর মরহুমকে নিয়ে আলোচনার পর সংসদের বৈঠকের কিছুক্ষণ মুলতবি দেয়া হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৭৪ অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হয়। এ জন্য কমপক্ষে এক ঘণ্টা পূর্বে নোটিশ দিতে হয়। একজন প্রস্তাবক, একজন সমর্থক ও প্রার্থীর সম্মতি লাগে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ছাড়াও প্রথম অধিবেশনে সভাপতিমন্ডলি মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব; অধ্যাদেশ উত্থাপন(যদি থাকে), সংসদীয় কমিটি গঠন (যদি থাকে), সংবিধান বা আইন অনুযায়ী কোনো রিপোর্ট উপস্থাপন (যদি থাকে) ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ থাকে। তবে রেওয়াজ অনুযায়ী প্রশ্নকাল থাকে না।

সংসদের শীতকালীন এ অধিবেশন কতদিন চলবে তা কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। অধিবেশন শুরুর একঘণ্টা আগে সংসদ ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কার্য উপদেষ্টা কমিটির ওই বৈঠকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করবেন। এতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেতা উপস্থিত থাকবেন। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে এ অধিবেশন দীর্ঘ হবে।

গত বৃহস্পতিবার (৩ জানয়ারি) সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে চার ধাপে ২৮৯ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন। প্রথমে স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রথমে নিজে শপথ গ্রহণ করেন এবং শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। পরে অন্যদের শপথ বাক্য পাঠান করান। সেদিন অসুস্থ্যতার কারণে আওয়ামী লীগের সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শপথ নিতে পারেননি। পরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ, বিএনপির ৫ জন ও ঐক্যফ্রন্টের ২ জন শপথ নেননি।

এর আগে ৩০ ডিসেম্বর ২৯৯ সংসদীয় আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। আর নির্বাচনের দিন ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত হওয়ায় ওই আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৫৭টি আসন। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। বিএনপি পেয়েছে ৫টি আসন। ওয়ার্কার্স পাটি (বাসদ) পেয়েছে ৩টি আসন, গণফোরাম ২টি (এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোহাম্মদ মনসুর এবং গণফোরাম নিজস্ব প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে মোকাব্বির খান নির্বাচিত হয়েছেন), বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ২টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ২টি, তরিকত ফেডারেশন ১টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয়ী হন।