অভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: 4 February, 2019 12:14 pm

কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবা বড়ি পাচার করতে শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ইয়াবা বড়ির এমন চালানসহ আটজন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হাতে ধরা পড়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-উত্তর) গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহ আলী ও মিরপুর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। তারা ৩০ হাজার ইয়াবা বড়িসহ ওই আটজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার করা আটজনের মধ্যে দুই শিশুর বয়স ১৩ ও ১৪ বছর। অন্য ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক। তাঁরা হলেন মো. লোকমান হোসেন, মো. রঞ্জু, শাহিদা বেগম, ইউনুছ মিয়া, শাহনাজ বেগম ও মারিয়া আক্তার।

ডিবির (উত্তর) উপকমিশনার মশিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিম প্রথমে শাহ আলী থানা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ইয়াবা বড়িসহ পাঁচজনকে ধরা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর ১০-এর একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ইয়াবা বড়ি।

জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি (উত্তর) জানতে পারে, টেপ ও পলিথিনে মুড়ে ইয়াবা বড়ি দিয়ে ক্যাপসুলের মতো বানানো হয়। একেকটি ক্যাপসুলে ৫০ থেকে ৬০টি ইয়াবা বড়ি থাকে। ইয়াবা-ভর্তি এই ক্যাপসুল কলা দিয়ে মেখে শিশুদের গলাধঃকরণ করানো হয়। টেকনাফ থেকে শিশুদের ঢাকায় আনা হয়। পাকস্থলী থেকে ইয়াবা-ভর্তি ক্যাপসুল বের করতে শিশুদের কলা, সিরাপ খাওয়ানো হয়। একপর্যায়ে শিশুদের পায়ুপথে ক্যাপসুলগুলো বের হয়।

ডিবির (উত্তর) উপকমিশনার মশিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বিশেষ অভিযানে আটজন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁরা জানতে পারেন, ১৩-১৪ বছর বয়সী শিশুদের ইয়াবা বড়ি পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছে। একেক জন শিশুকে ২-৩ হাজার ইয়াবা বড়ি গলাধঃকরণ করানো হয়। পাচারকারীরা যে পন্থায় শিশুদের ব্যবহার করছে, তা তাদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

ডিবির (উত্তর) উপকমিশনার মশিউর রহমান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ব্যবহার করে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় মাদক পাচার করছেন।