কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার ও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

সারদা ও রোজভ্যালি কেলেঙ্কারিতে দায়ের করা মামলায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে আপাতত গ্রেফতার না করার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে রাজীব কুমারকে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। আনন্দবাজার পত্রিকার খবর থেকে জানা গেছে, রাজীব কুমারকে শিলং-এ জেরা করা হতে পারে।

সিবিআই বনাম কলকাতা পুলিশ মামলার শুনানিতে আজ মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশনা দেয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী কলকাতা পুলিশের কমিশনার রাজীব কুমারকে জেরা করার জন্য রবিবার সন্ধ্যায় সিবিআইয়ের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) তথাগত বর্ধনেরনেতৃত্বে কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে তার বাসভবনে যায় ৪০ জনের বেশি একটি সিবিআইয়ের টিম। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ডে রাজীবকুমারের সম্পর্ক ছিল। সেই বিষয়েই তাকে জেরা করতে এদিন সিবিআই কর্মকর্তারা তার বাসভবনে যান। সিবিআইয়ের সদস্যরা পুলিশ কমিশনারের বাড়ির গেটের কাছে যেতেই বাধা দেয় কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী। শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি। পরে সিবিআইয়ের ডিসিপি তথাগত বর্ধনসহ কর্মকর্তাদের জোর করে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি থানায়।

কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে রবিবার কী ঘটনা ঘটেছিল তার বিস্তারিত প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ নিয়ে গতকাল (সোমবার) দিল্লি পৌঁছান সিবিআই-এর দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সিবিআই মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ওই প্রতিবেদন ও ভিডিও ফুটেজ পেশ করে। এদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, শিলংয়ে গিয়ে সিবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেসারদা ও রোজভ্যালি বিষয়ক তথ্য দিতে হবে তাকে।

অন্য দিকে সিবিআই-এর দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলায় কেন্দ্রের তরফে আজ আদালতে বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল। এই পরই আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারিরমধ্যে জবাব দিতে হবে বলে কলকাতা পুলিশের কমিশনার রাজীব কুমার, রাজ্যের মুখ্য সচিব মলয় দে এবং রাজ্যের ডিজিপি বীরেন্দ্রকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই জবাব পাওয়ারপরই শীর্ষ আদালত ঠিক করবে, তাদের আদালতে হাজিরা দিতে বলা হবে কি না। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি।