সিলেটে ১৮ দিনে একই কৌশলে পাঁচ হত্যাকাণ্ড

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৬ মার্চ, ২০১৯ ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
হত্যাকাণ্ড (প্রতীকী ছবি)

রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন। সিলেটে ১৮ দিনে এই কৌশলে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ওসমানীনগর উপজেলার। সেখানে গত বৃহস্পতিবার রাতে এক কিশোরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার ‘বন্ধুরা’। মাথা ও মুখের একাংশ থেঁতলানো অবস্থায় গতকাল শুক্রবার তার লাশ উদ্ধার হয়।

নিহত কিশোরের নাম মোস্তাফিজুর রহমান (১৫)। সে ওসমানীনগর উপজেলার মান্দারুকা গ্রামের আবদুল মছব্বিরের ছেলে। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে কয়েকজন বন্ধু মোস্তাফিজুরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। রাতে আর বাড়ি ফেরেনি সে। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। গতকাল শুক্রবার (১৫ মার্চ) সকালে মান্দারুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তার লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা–পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

বাবা মছব্বির বলেন, মোস্তাফিজুরকে যারা ডেকে নিয়ে যায়, তারা সংখ্যায় চার-পাঁচজন ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে তিনি চিনতে পারেন। গতকাল লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ ওই কিশোরকে আটক করেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর পরিবারের সন্তান মোস্তাফিজুর। শিশুদের খেলনা ফেরি করে বিক্রি করত সে। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে সে ছিল পঞ্চম।

ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম আল মামুন বলেন, ইট অথবা ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে মোস্তাফিজুরকে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পরপরই মোস্তাফিজুরের এক বন্ধুকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ওই কিশোরের মাধ্যমে খুনের কারণ ও জড়িত অন্যদের নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে।

একইভাবে আরও চার খুন
সিলেটে গত ১৮ দিনে একই কৌশলে আরও ৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনাতেই রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২৩ ফেব্রুয়ারি, গোয়াইনঘাট উপজেলার সাকরপুর গ্রামে। ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পরদিন সকালে লাশ উদ্ধার হয় সাবুল নম (২৪) নামের এক তরুণের। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সিলেট নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকায়। স্কুলছাত্র শাহেদ আহমদকে (১৬) তার বন্ধুরা বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর হাউজিং এস্টেট এলাকায় সমবয়সী একদল কিশোরের অতর্কিত হামলায় সে ছুরিকাহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে শাহেদ মারা যায়। এ ঘটনায় শাহেদের সমবয়সী ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করার পর পুলিশ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর নগরে তৃতীয় হত্যাকাণ্ড ঘটে ১২ মার্চ রাতে মদিনা মার্কেট এলাকায়। ছাব্বির আহমদ (২২) নামের এক তরুণকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরের মজুমদারি এলাকার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান তাঁর বন্ধুরা। অতর্কিত হামলায় রাত আটটার দিকে ছুরিকাহত হয়ে নিহত হন ছাব্বির। এ ঘটনায়ও ছব্বিরের বন্ধু ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে। পুলিশ দুজন কলেজছাত্রসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নগরের বাইরে ১৩ মার্চ কোম্পানীগঞ্জের দরাকুল এলাকায় বদরুল আমিন (২০) নামের এক তরুণকে রাতে ডেকে নেওয়ার পর সকালবেলা পাওয়া যায় গলাকাটা লাশ। কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটের হত্যাকাণ্ডে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে।