আইন পেশায় সাফল্য অর্জনে বাস্তব জ্ঞান ও মামলা পরিচালনার কলাকৌশল জানা জরুরী

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২৪ মার্চ, ২০১৯ ১:২৩ অপরাহ্ণ

ফিরোজ ল’ একাডেমীর ৪র্থ বর্ষপূর্তি এবং একাডেমীর নবীন আইনজীবীদের পেশাগত দিকনির্দেশনা মূলক আলোচনা এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি আ ক মু গিয়াস উদ্দিন মিলকি অডিটররিয়াম অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় একাডেমীর নবীন আইনজীবীদের ক্রেস্ট বিতরণের সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফিরোজ ল’ একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অ্যাডভোকেট এস এম ফিরোজ।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারে এ কে এম দাউদুর রহমান মিনা, বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা ও ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (এমপি), সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ এবং বাংলাদেশ ডিবেট একাডেমীর পরিচালক শিশির রহমান।

ব্যারিস্টার ফয়সাল আনাবিল এবং ব্যারিস্টার ফারজানার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মিলক কুমার ভঞ্জ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে ডেপুটি এটর্নি জেনারে এ কে এম দাউদুর রহমান মিনা বলেন, “মনে রাখতে হবে আইন পেশায় সাফল্য অর্জনে প্রয়োজন বাস্তব জ্ঞানের পাশাপাশি মামলা পরিচালনার কলাকৌশল জানা একান্ত জরুরী।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সিলেবাসের যে ৭ টি বিষয়ের উল্লেখ আছে কেউ ভালো করে আয়ত্ত করলে সে আইনজীবী হবার প্রথম ধাপ অতিক্রম করতে পারবে। তবে মনে রাখতে হবে শিক্ষার কোন শেষ নেই। শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের যেভাবে গুছিয়ে হাতে কলমে প্রস্তুত করা হচ্ছে তার প্রশংসা করে একাডেমীর সাফল্য কামনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘আইন পেশায় অনেক পরিশ্রম করতে হবে, পাশপাশি আইন শিক্ষার্থীদের সারাজীবন পড়তে হবে, অতি অল্পতেই থেমে গেলে চলবে না।’

তিনি নতুন আইনজীবীদেরকে আদালতে মামলা পরিচালনার পাশাপাশি সিনিয়রের সাথে থেকে কিভাবে মামলা পরিচালনা করতে হয় তার কৌশল রপ্ত করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি ফিরোজ ল’ একাডেমীর প্রশংসা করেন এবং একাডেমীর উন্নতি কামনা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলএম এর প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ বলেন “আইন পেশায় আসতে হলে অনেক কঠিন পথ পারি দিয়ে আসতে হয়- বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে, একমাত্র সঠিক দিকনির্দেশনা একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে অ্যাডভোকেট হতে সাহায্য করে”-

ফিরোজ ল’ একাডেমী সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি একাডেমীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি তার বক্তব্যে স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় তিনি কিভাবে পড়াশুনা করতেন তার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমাদের সময় এতো সুযোগ সুবিধা ছিল না, এখন তোমরা অনেক ভালো ভালো দিকনির্দেশনা পাচ্ছ যা তোমাদের কে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে”।

বাংলাদেশ ডিবেট একাডেমীর মালিক জনাব শিশির বলেন- আইনজীবীরা সমাজের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক তাদের মনে রাখতে হবে মামলা পরিচালনার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাও রয়েছে।তা ভুলে গেলে হবে না। তাই তিনি নৈতিক শিক্ষার উপর জোর দিতে বলেন এবং একাডেমীর উন্নতি কামনা করেন।

ব্যারিস্টার ফয়সাল আনাবিল “পেনাল কোডের ৪৯৭ ধারার ব্যভিচার বা পরকীয়া আইন সংশোধনের প্রয়োজন আছে কি না” তার উপর বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া ব্যারিস্টার ফারজান “বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আগামীর বাংলাদেশে এর প্রয়োজনীয়তা “তুলে ধরেন।

শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের করনীয় শীর্ষক আলোচনায় ফিরোজ ল’ একাডেমীর পরিচালক বলেন- “আমাদের দেশে প্রতিবার হাজার হাজার শিক্ষার্থী আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং অসংখ্য পরীক্ষার্থী এমসিকিউ এবং লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে থাকেন। এতো বেশী সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হবার মূল কারণ সঠিক দিক নির্দেশনার অভাব।”

তিনি বলেন, এলএলবি, এলএলএম করার পরে একজন শিক্ষার্থীর যে পরিমাণ মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং বাস্তব জ্ঞান থাকা প্রয়োজন তা থাকে না। অনেকেই সিনিয়র এর সাথে নিয়মিত আদালতে মামলা পরিচালনা কাছ থেকে দেখেন না যার কারণে আইনের বেসিক ধারনা তাদের মধ্য থাকে না।বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষা হয় সম্পূর্ণ আদালতে প্র্যাকটিস করতে যা প্রয়োজন তার উপর।

ফিরোজ ল’ একাডেমী মূলত আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক কোর্সে তালিকাভুক্তি পরীক্ষার যে ৭ টি বিষয় তা ধারাবাহিকতার মাধ্যমে সম্পূর্ণ হাতে কলমে লেকচারের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয়া হয় এবং শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের তা ক্লাসেই লিখিয়ে দেয়া হয় প্রতিটি বিষয় শেষে তাদের ১০০ নম্বরের মডেল পরীক্ষা নেয়ার মাধ্যমে পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করানোসহ বিভিন্ন কেইস ল এর উপর এডভোকেসি ক্লাসে জেরা, জবানবন্দী, এবং পুনঃ জবানবন্দীর কৌশল শেখানো হয়- সেই সাথে লিগ্যাল ড্রাফটিং এর মাধ্যমে একজন শিক্ষানবিশ কে পরিপূর্ণ ভাবে আদালতে মামলা পরিচালনার উপযুক্ত করে তোলা হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আদালত এবং কারাগার পরিদর্শনে বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় বলেও তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অ্যাডভোকেট এস এম ফিরোজ।

আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে লাখ লাখ টাকা খরচ করে আইন পড়তে চায়- এমন একটা দিন আসবে যেদিন বিদেশীরা বাংলাদেশে আইন পড়তে আসবেন।

এরপর প্রধান অতিথি ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ফিরোজ ল একাডেমী থেকে যারা এবার আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এডভোকেট হয়েছেন তাদের হাতে একাডেমীর পক্ষ থেকে ক্রেস্ট তুলে দেন।

পরে একাডেমীর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর্ব শুরু হয় (মাহামুদ তপু, নওরিন নিম্মী, তাসনিয়া সুমি, তৃষা ও ইতির) উপস্থাপনার মাধ্যমে। প্রথমেই থাকে রেম্প শো তাতে অংশগ্রহণ করেন (তৃষা, মৌসুমি, ইতি, রুমা, সারিনা, প্রজ্ঞা, বেলাল, বাবু, অয়ন ও সনি) এরপর নৃত্য পরিবেশন করেন (মৌসুমি, অন্তরা অণু, সাল ছাবিলা এবং অবন্তী রিফাত)। সবশেষে গান করে স্টেজ মাতান (মৌসুমি, শ্রুতি, জয়, রকি)।

উল্লেখ্য, ফিরোজ ল’ একাডেমীতে বর্তমানে দেশ বিদেশের প্রায় ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় হতে এলএলবি, এলএলএম এবং বার এট ল’ শেষ করে আসা শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

– সংবাদ বিজ্ঞপ্তি