চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হামলা, ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভাঙচুর

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০১৯ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর সড়ক দখলমুক্ত করার অভিযানে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা চালিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ব্যবসায়ীরা ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে ভাঙচুর চালান।

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার বাংলাবাজার এলাকায় সোমবার (১৩ মে) দুপুরে এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করে। পরে তিনজনকে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সূত্র জানায়, নগরীর শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকায় সিডিএ’র বাস্তবায়নাধীন বাইপাস সড়কের প্রবেশমুখে প্রায় ১৫০টি ভাসমান দোকান রয়েছে। সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা এসব দোকানের কারণে ওই এলাকায় স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আক্তারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত দোকানগুলো উচ্ছেদ করতে যান।

আধা ঘণ্টার মধ্যে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট সরিয়ে নিয়ে চলে যেতে বলেন ম্যাজিস্ট্রেট। কেউ কেউ দোকান সরিয়ে নেন। তবে অধিকাংশই আদেশ অমান্য করে থেকে যান। বিকেল ৩টার দিকে উচ্ছেদে নামেন ম্যাজিস্ট্রেট। উচ্ছেদ শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যে দোকানিরা দলবেঁধে হামলা শুরু করে। হামলার মুখে প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেটসহ উচ্ছেদ কর্মীরা নিজেদের গুটিয়ে নেন। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি, অভিযানে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি ট্রাক এবং একটি পে-লোডার ভাঙচুর করা হয় বলে জানায় সূত্র।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানসহ তিনজন আহত হন। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ শুরু করে। আটক করা হয় ৬ জনকে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চারটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আমাদের একজন সাব-ইনস্পেকটরের মাথা ফেটে গেছে। আরও দু’জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ছয়জনকে আটকের পর তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। বাকি তিনজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর অবৈধ দোকানগুলো সরিয়ে শেরশাহ থেকে বাংলাবাজার পর্যন্ত এক কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (বায়েজিদ বোস্তামী জোন) পরিত্রাণ তালুকদার।