আইনজীবীদের পেশাগত সীমাবদ্ধতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কিছু কথা

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০১৯ ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
গাজী ফরহাদ রেজা, ব্যারিস্টার-এট-ল

গাজী ফরহাদ রেজা:

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে ভেজাল খাদ্য ব্যাপারটা নিয়ে বেশ কথাবার্তা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। ৫২ টি পণ্য BSTI এর গুণগত মান পরীক্ষায় পাস করতে পারেনাই, এবং হাই কোর্ট এই পণ্যগুলো বাজার থেকে তুলে নিতে বলেছে। হটাৎ এর মাঝে একটা নিউজ ফেসবুকের নিউজ ফিড এ ঘুরে বেড়াচ্ছে আর তা হলো আমাদের আইন অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি আইন বিষয়ে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, তিনি খাদ্যে ভেজাল মিশানো কোম্পানির পক্ষে আদালতে দাড়িয়েছেন। অনেকে সেই লেখা পড়ে মন্তব্য করেছেন “ওনার আর কত টাকা লাগবে”! অনেকে হাসিঠাট্টা করেছেন, বিদ্রুপ করেছেন। গতকাল আমার নজরে আসলো আরও একটা নিউজ, যেখানে আমাদের বর্তমান RAB এর চৌকষ ডি জি জনাব বেনজির আহমদ একটি পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন যে, মোট ৫১২ জন আটককৃত জঙ্গীর ভেতর ৩০০ জামিনে আছে। সেই সাথে তিনি আইনজীবীদেরকে টাকার বিনিময়ে জঙ্গিদের হয়ে না দাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছেন। উপরের প্রথম ঘটনাটার সাথে পরের ঘটনাটার মাঝে একটা সংযুক্তি আছে। সেটা হলো, সাধারণ মানুষ মাত্রই মনে করে আইনজীবীকে বেশি টাকা দিলেই সমস্যা শেষ, ইলিগ্যাল কাজ ও লিগ্যাল হোয়ে যায়, ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। আর এর জন্য আইনজীবীদের প্রকৃত কাজ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অবগত না থাকায় বহুদিন ধরে সবার মাঝে একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে। আমার এই লেখার মাধ্যমে আমি আইনজীবীদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করবো যেটি পড়ে যেকোনো সাধারণ সচেতন নাগরিক আইনজীবীদের কাজের সীমাবদ্ধতার ব্যাপারে জানতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে ভুলবোঝাবুঝির কিছুটা হলেও অবসান হবে বলে আমি আশা করি। আর সব কথার পরেও কিছু কথা থাকে, সে কথা গুলাও এখানে বলার চেষ্টা করবো।

প্রথমত: জামিন দেওয়া হবে কি হবে না এই সিদ্ধান্তে আইনজীবীদের কোনো হাত আছে কিনা?বা আদালতের সামনে খাদ্যে ভেজাল মেশানো কোম্পানির পক্ষে কথা বললেই তারা দায়মুক্তি পাওয়ার সিদ্ধান্ত আইনজীবীর কিনা? এই বিষয়ে কথা বলার আগে আমাদের জানতে হবে আইনজীবীদের কাজ কি আসলে। আপনারা যারা জিবনে মামলার চক্করে পড়েছেন তারাই জানবেন বাংলাদেশে মামলা চালানো কি ধকল। কোর্টের এরিয়াতে ঢুকছেন ত আপনার টাকা খরচ শুরু। যাহোক, ধরুন সব খরচ করলেন এবং জামিনের আবেদন করলেন একজন আইনজীবীর মাধ্যমে। এখানে আইনজীবীর কাজ হলো মামলাটা ড্রাফট করে কোর্টের সামনে পেশ করা এবং মামলার মেরিট টা ক্লাইন্টের পক্ষে আদালতের সামনে পেশকরা। এই কাজটা কিন্তু আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে আপনিও করতে পারতেন। অনেক সময় আপনারা নাটক সিনেমায় দেখেন যে আসামি নিজেই নিজের পক্ষে কথা বলে। তো এই কথা কেনো বলছি, এই কারণেই যে মামলার ফলাফলে মাননীয় বিচারক মহোদয় কি বিচার করবেন এই বিষয়ে কিন্তু আইনজীবীদের কোনো হাত নাই! আইনজীবীরা আপনার মামলাটা ভালো করে স্টাডি করেন, এবং যেহেতু তাদের কোর্টের লঙ্গুয়েজ এবং নিয়ম কানুন জানা, তারা আপনাকে সেইভাবে হেল্প করতে পারেন যেটি হয়ত আপনার পক্ষে সম্ভব না। আইনজীবীদের কাজ হলো বিচারকাজে বিজ্ঞ বিচারকদের সহযোগিতা করা। আইনের ব্যাখা দিয়ে আদালতকে সমস্যা সমাধানে সহায়তা করা। তাই এখানে কিন্তু কতজন জামিন পেল বা ভেজাল খাদ্যের মালিকের দায়মুক্তি দায়ভার আইনজীবীদের নয় যেহেতু তারা ডিসিশন দেননা। তারা শুধু কোর্টকে সহায়তা করেন নিজের মক্কেলের কথাগুলা গুছিয়ে আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন। যে কেউ কিন্তু করতে পারে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে। বাদবাকি সিদ্ধান্ত বিজ্ঞ আদালতের, আইনজীবীদের নয়। সে ক্ষেত্রে কি, আইনজীবীদের দোষ দেওয়া কি উচিত? আসামি নিজেই তো নিজের কথা আদালতে বলতে পারে। আদালত যদি মনে করেন জামিন দিবেন অথবা দিবেন না সেটি সম্পূর্ণ উনার এক্তীয়ার। তাহলে বলেন, দোষ কি আইনজীবীদের? শুধু মাত্র ঢালাও ভাবে কোনো পেশার দোষ না দিয়ে সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে কি দোষ দেওয়া মানবিকভাবে শ্রেও না?!

দ্বিতীয়ত, মামলা না নেওয়ার প্রসঙ্গে আসি। আইন পেশাটা হলো অনেকটা ডাক্তারদের মত। কে বড়ো সন্ত্রাসী নাকি সমাজসেবক ডাক্তাররা কিন্তু সেটি দেখেন না। একজন মানুষের জীবন বাঁচানো বড়কথা, তার কুকর্ম সুকর্মের প্রোফাইল দেখা নয়। এইটার কারণ হলো ডাক্তারদের একটা এথিক্যাল কোড আছে যেটি তাদের অবশ্যই ফলো করতে হয়। কোড টির নাম Hypocratic Oath- Doctors original guide to good practice. এইখানে একটা কোড আছে এমন: “I [Doctor] will use treatment to help the sick according to my ability and judgment, but never with a view to injury and wrong-doing. এর মানে তো বুঝতেই পারছেন যে, ডাক্তাররা ‘wrong-doing’ না দেখে ট্রিটমেন্ট দিতে Ethically বাধ্য। Hypocratic Oath সম্পর্কে একটু বলে রাখি, ডাক্তাররা যে অন্য একজন ডাক্তারের ফ্যামিলির কাছ থেকে রোগীহিসেবে দেখার জন্য ফি নেননা সেটিও কিন্তু এই Oath এর কারণেই।

যাহোক, আইনজীবীদের ও কিন্তু এইরকম Ethical Code আছে। সব দেশেই আছে। আমাদের দেশে আইনজীবীদের এথিক্যাল কোড আছে কিন্তু বিস্তারিত না থাকতে ইংল্যান্ডের উদহারন দেওয়া যায়। আর রোকনউদ্দিন স্যার Lincoln’s Inn er Barrister বলে উনি ইংল্যান্ডের এথিক্যাল কোড মানতে বাধ্য। সেখানে নিয়ম আছে (BSB CAB RANK RULE) যে কখন একজন আইনজীবী মামলা না নিতে পারেন। আর সেটি হলো একজন আইনজীবী মামলা নেওয়ার জন্য বাধ্য, তাই সে মক্কেলের পরিচয় যাই হোকনা কেন, মামলার প্রকৃতি যেমনি হোক না কেনো, আর তার যেকোনো বিশ্বাস থাকুক না কেনো মক্কেলের চরিত্র, পরিচিতি, কারণ, কাজ, দোষী অথবা নির্দোষ হাওয়ার ব্যাপারে। তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে, যেমন, ১. মামলাটা নিলে এথিক্যাল কোডের অন্য যেকোনো কোড ভঙ্গ হয়, ২. অথবা পূর্বে অর্থ দেবার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দেওয়া না হলে, অথবা, ৩. মামলাটি নিলে মক্কেলের best interest e মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি। নিচে রুলের অংশ তুলে ধরা হলো:

“you must (subject to the exceptions in rC30) accept those instructions irrespective of: 1. The identity of the client;2. The nature of the case to which the instructions relate; 3. Whether the client is paying privately or is publicly funded; and4. Any belief or opinion which you may have formed as to the character, reputation, cause, conduct, guilt or innocence of the client.”

এই এথিক্যাল কোডের উপর Bar-at-law ডিগ্রীর কোর্সে একটা আলাদা বিষয় ছিল যেখানে আলাদা পরীক্ষা দিয়ে দুইটি পত্রে আলাদা করে ৬০% নম্বর পেয়ে পাস করতে হয়। সেখানে আমাদের আজকের এই আলোচ্য সমস্যাটি প্রশ্ন হিসেবে খুবই কমন। প্রশ্নটি এমন, ধরুন আপনি একজন আইনজীবী। একজন জঘন্য কুখ্যাত হত্যাকারী কাউকে হত্যা করে আপনার কাছে এসে বললো সে খুন করেছে। আপনি এখন কি করবেন? সেখানে উত্তর হলো, CAB RANK RULE অনুযায়ী আপনি আবেগ বা ব্যাক্তিগত পছন্দ অপছন্দের বশবর্তী হয়ে মামলা পরিচালনা করবেন না এমনটি বলা যাবে না যদি না আপনার অন্য কারণ থাকে যে লিগ্যাল কারণটি আবার এথিক্যাল কোডের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। একজন খুনি আপনাকে যদি বলেই ফেলে যে সে খুন করেছে তাহলে আপনি জেনে গেলেন যে সে খুন করেছে তাই আপনি আদালতে মিথ্যা বলতে পারবেন না যে ওই ব্যক্তি খুন করেন নাই। কিন্তু এই দাবি না করেও আপনার মক্কেলের অন্যন্যা মেরিট নিয়ে কোর্টকে সহায়তা করতে পারেন, সাক্ষ্য প্রমাণের আইনগত জটিলতা তুলে ধরতে পারেন কিন্তু কখনোই আপনার মক্কেল যে নির্দোষ এটি দাবি করতে পারবেন না। আর আপনি যখন স্পষ্ট দাবি করবেন না কোর্ট বুঝে যেতে পারে যে আপনার মক্কেল দোষী কিন্তু আপনি তো আর সেটা বলতে পারবেন না কারণ আপনি এবং আপনার মক্কেলের ভেতর যে আলোচনা হোয়েছে তা আইনগতভাবে গোপনীয়। কিন্তু মামলা নেওয়ার আগে একজন আইনজীবী এই পুরা বিষয়ে তার সীমাবদ্ধতার কথা তার মক্কেলকে জানতে হবে। না হলে আপনি এথিক্যাল কোড ভঙ্গ করবেন। কিন্তু তাই বলে যে আইনজীবী মামলা নিবেন না বলবেন এইটা বললেও কোড ভঙ্গ হবে। এমনকি এথিক্যাল কোড অনুযায়ী যদি আপনি যে বারের মেম্বার সেই বার ও যদি বলে যে কোনো বিশেষ ব্যাক্তির মামলা নেওয়া যাবে না সেখানেও একজন আইনজীবী মামলা নিতে পারেন। কোনো বাধা নেই! তবে হ্যা, তিনি বলতেই পারতেন যে মামলাটি নিলে তিনি মক্কেলের best interest e কাজ করতে পারবেন না, এইবলে ছেড়ে দিতে। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন, উনি মামলাটি ছেড়ে না দিয়ে কিন্তু আইনগত এবং বিবেকগত (Ethics) কোনো ভুল করেননি। তাহলে কি উনাকে বা অন্য কোনো আইনজীবীকে দোষ দেওয়া যায়?

তৃতীয়তঃ এইবার আসা যাক জামিনের ক্ষেত্রে আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা জামিনে একজন আইনজীবির ভূমিকা কতটুকু। এই যে একটা প্রচলিত ধারণা যে মামলার মেরিট লাগবে না, শুধুমাত্র বড়ো আইনজীবী দাড়ালেই জামিন পাওয়া যায়, এইটা একদম একটা মোটাদাগে ভুল ধারণা। সিনিওর আইনজীবী অবশ্যই কোর্টের কাছে বেশি মূল্যায়ণ পান তার অভিজ্ঞতার জন্য। কিন্তু নিজের সামনে আমি দেখেছি কোর্টের কাছে মামলার কোনো মেরিট না থাকায় কোর্টের senior আইনজীবীদের অনেকে মক্কেলকে জামিন করতে পারেননি। মেরিট না থাকলে কোর্টকে শুনেছি সিনিওর কে বলতে, অমুক সাহেব, আপনার কি মামলার অভাব যে মেরিট ছাড়া একটা matter নিয়ে আসছেন? তাহলে বলুন, কতজন জামিনে বের হলো তা আইনজীবীদের উপর কিভাবে নির্ভর করে? আমি তো মনে করি মামলার নথি যদি পুলিশের যিনি প্রস্তুত করেন উনি বা উনারা ভালো করে করেন তাহলে অনেক আসামিই জামিন পাবে না। একটি উদহারন দেই। একটি ধর্ষণ মামলার চার্জশিট এ যদি accused er বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধে লিপ্ত হওয়ার বিষয় লিপিবদ্ধ না থাকে আর এই বিষয়টা যদি একজন আইনজীবী আদালতের কাছে তুলে ধরলে আদালত জামিন দিয়ে দেন তাহলে বলেন তো দোষটা আসলেই কার?

চতুর্থত: শেষের অংশটি আইনজীবীর টাকা নেওয়া প্রসঙ্গ। আইনজীবীরা হলেন Officers of the Court। কোর্টের দাপ্তরিক এবং বিচারিক কাজকর্ম করার জন্য নির্দিষ্ট জনবল আছে এবং তারা সকলেই বেতনভুক্ত। কোর্টে একমাত্র হাতেগোনা কয়েক জন সরকারি আইনজীবী ছাড়া কিন্তু সাধারণ আইনজীবীদের কোনো বেতন নাই! আপনি যদি চাকুরীজীবী হন (সরকারি/বেসরকারি) আপনি কি কল্পনা করতে পারেন আপনার চাকুরী আছে কিন্তু কোনো বেতন নাই! না আপনি পারবেন না। কিন্তু আইনজীবীদের ব্যাপারটাই সেইটা যেটা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। দুই ধরনের পেশা আছে যাদের ফি কাজ শুরুর আগেই পরিশোধ করা উচিত। এক নম্বর আইনজীবীর ফি আর দুই নম্বর ডাক্তারের ফি। কারন এদের কাজের ফলাফল অনিশ্চিত। যে সমস্ত কাজের ফলাফল অনিশ্চিত, সেই সমস্ত কাজে পেশাজীবী কে সম্মানজনক ফি পূর্বেই পরিশোধ করলে তারা কাজে পূর্ণ মনোযোগ পায় এবং মক্কেলের জন্য সর্ব্বোচ্চ ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনতে পারে। কিন্তু তারমানে এই না যে ফি দিলেই অন্যায় কাজ জায়েজ করে দেন আইনজীবীরা। তবে হ্যা আইন যদি কাও কে কোনো বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে সেইটা তাকে পাইয়ে দেবার জন্য আমরা কাজ করি আইনের গণ্ডির ভেতর থেকে। আমরা আইন বিষয়ে আমাদের সেবা দিয়ে থাকি, ঠিক যেমনটি ডাক্তাররা মেডিক্যাল সেবা দিয়ে থাকেন। তো আমরা কি সেবার বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিবো না? তাহলে আমাদের পেশা কিভাবে চলবে? আইনজীবীদের পেশাটাই তো এমন।

পরিশেষে, উপরের এতসব কথা বলার উদ্দেশ্য একটাই, সাধারণ জনগন, পুলিশ, RAB, আইনজীবী, আদালত সবই একটা ব্যবস্থার অংশ। একে অন্যের পরিপূরক। আমরা বুঝি এবং দেখেছি, কত কষ্ট করে জীবনের ঝুকি নিয়ে পুলিশ, RAB এবং অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গী, সন্ত্রাসী ধরেন। খাদ্য ভেজাল কিন্তু শুধু কিছু মানুষের সমস্যা না আমাদের সকলেরই সমস্যা। তাই তারা ছাড়া পেলে খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাবস্থার ভেতর যদি কোন ত্রুটি থাকে তাহলে সবাইকে একসাথে মিলেই সেই ত্রুটি সারাতে হবে। আর কোর্টে representation পাওয়া কিন্তু মৌলিক অধিকারের ভেতর পড়ে যা বাংলাদেশের কনস্টিটিউশন দ্বারা guranteed। তাই একে অন্যের দিকে অবিশ্বাসের তীর ছুড়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সমাধান করতে হবে আস্থা দিয়ে, সম্মান দিয়ে, সহযোগিতা করে। আর এতেই আমাদের সবার মঙ্গল। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এত সামাজিক অরাজকতা এবং অস্থিরতা বিরাজ করছে এর মাঝে সবাই কেমন জানি অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছি আমরা। আমাদের সবাই শান্তিতে থাকতে চাই, অপরাধীর শাস্তি হোক সেইটা চাই। সেই সাথে মর্যাদার সাথে নিজের জীবন এবং পেশা পরিচালনা করতে চাই। মানুষের সেবা করতে চাই। আশা করি এই লেখার মাধ্যমে আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে কিছুটা হলেও ভুলবোঝাবুঝির অবসান হবে। আল্লাহ আমাদের সবার মঙ্গল করুন।

লেখক: ব্যারিস্টার-এট-ল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।