‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানকে ঘিরে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, হাইকোর্টে মামলা

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০১৯ ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
কলকাতা হাইকোর্ট

‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দমাতে বিভিন্ন জায়গায় এই স্লোগান দেন বিজেপির কর্মী–সমর্থকেরা। এতে খেপে যান মমতা। এই স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে অনেক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।

শেষে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের অধিকার নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন এক আইনজীবী। ওই আইনজীবীর দাবি, তাঁদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এই স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে অনেককে। অথচ এটা মানুষের মৌলিক অধিকার।

পশ্চিমবঙ্গে এখন ঘরে ঘরে পরিচিত ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই স্লোগানকে হাতিয়ার করে মাঠে নামে বিজেপি। নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে এই স্লোগানকে ধীরে ধীরে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসে দলটি। নির্বাচনের আগে আগে মেদিনীপুরে প্রচারসভায় যোগদানের পথে মমতার বহরের সামনে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেন বিজেপি–সমর্থকেরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মমতা গাড়ি থেকে নেমে তেড়ে যান বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের দিকে। ওই ঘটনার পর পুলিশ বিজেপির কর্মী–সমর্থকদের গ্রেপ্তার করে। পরে ভাটপাড়া ও গরিফাতে প্রচারে গেলেও একই ঘটনার মুখোমুখি হন মমতা। সর্বশেষ গত শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া কর্মিসভায় যোগ দিতে গেলে আবার এই স্লোগান শুনতে হয় মমতাকে।

এর আগে মমতা ঘোষণা দেন, এই স্লোগানের পাল্টা জবাবে ‘জয়হিন্দ’ এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেবে তৃণমূল। এতে বন্ধ হয় না বিজেপির মুখ। তৃণমূল সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী এবং রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অভিযোগ করেছেন, এই স্লোগান দিয়ে মন্ত্রী ও সাংসদদের ‘জ্বালাতন’ করছে বিজেপি।

এসব অভিযোগের মুখে এবার ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়ার অধিকার নিয়ে এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন আইনজীবী।

কলকাতার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি বি রাধাকৃষ্ণন ও বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে গত শুক্রবার এই মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাকে আমলে নিতে চাননি। আদালতের যুক্তি ছিল, এই স্লোগান দেওয়ার অপরাধে যদি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, তার বিচার নিম্ন আদালতে চাওয়া উচিত। কিন্তু এই নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হতে পারে না। এরপরে আবেদনকারী আদালতকে জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সামনে ওই স্লোগান দেওয়ায় পুলিশ বেআইনিভাবে নাগরিকদের গ্রেপ্তার করেছে। এরপর চার সপ্তাহ পর এই মামলার শুনানি তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।