এখন থেকে দুদক কার্যালয়েই হবে দুর্নীতির মামলা

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০১৯ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

দুর্নীতির তফসিলভুক্ত অপরাধের মামলা করতে আর থানায় যেতে হবে না। নিজ দফতরেই মামলা করতে পারবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে এখন থেকে থানার পরিবর্তে সংস্থাটির ২২টি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দায়ের করা হবে। তবে সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয় এবং আটটি বিভাগীয় কার্যালয়ে কোনো মামলা দায়ের করা হবে না।

দুদক আইনের সংশোধিত বিধিমালা গতকাল রোববার (২৩ জুন) প্রকাশ হয়। সংশোধিত বিধিমালার গেজেটে এ কথা বলা হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, কেউ যদি থানায় দুর্নীতির অভিযোগ করেন, সেক্ষেত্রে পুলিশ সেটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে রেকর্ড করবে। পরবর্তী সময়ে তা অনুসন্ধানের জন্য দুদকে পাঠাবে। শুধু তাই নয়, দুদক চাইলে গুরুত্ব বিবেচনায় যেকোনও অভিযোগ দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান না করে সরাসরি মামলা করতে পারবে।

সংশোধিত বিধিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়, করদাতার আয়কর রিটার্ন ফাইল ও ব্যাংক হিসাব সরাসরি তলব করতে পারবে দুদক।

এছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হওয়ার আগেও অভিযোগ পাওয়া ‘দুর্নীতিবাজের’ সম্পদ ক্রোক বা জব্দ করা যাবে। আর দুদকের অনুসন্ধান সংক্রান্ত বিদ্যমান সময়সীমা ১৫ দিনের পরিবর্তে ৪৫ দিন করা হয়েছে এই বিধিমালায়।

অন্যদিকে দুর্নীতি মামলার অভিযোগপত্র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে না দিয়ে সরাসরি বিশেষ জজ আদালতে দাখিল করা যাবে।

মামলা, আয়কর ও ব্যাংক হিসাব
বিধিমালা সংশোধনের পর কেউ যদি থানায় দুর্নীতির অভিযোগ করেন, সে ক্ষেত্রে পুলিশ তা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে রেকর্ড করবে। পরে তা অনুসন্ধানের জন্য দুই কার্যদিবসের মধ্যে দুদকে পাঠাবে।

অভিযোগের অনুসন্ধান বা মামলার তদন্তের জন্য তদন্ত বা অনুসন্ধান কর্মকর্তা ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে পারবেন। এমনকি আয়কর অফিস থেকে হিসাব বিবরণীসহ আনুষঙ্গিক সব তথ্য জব্দ বা অনুলিপি তলব করতে পারবেন।

সম্পত্তি ক্রোক
কোনো ব্যক্তির জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পত্তি থাকলে তা ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করতে পারবেন। এই সম্পত্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির নামে বা বেনামে বা দখলে থাকলেও তা ক্রোকের আবেদন করা যাবে। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত বা শনাক্ত করা না গেলে অথবা অন্য কোনো কারণে সম্পত্তি ক্রোক না করা গেলে ওই ব্যক্তির সমমূল্যের অন্য সম্পত্তি ক্রোক করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করতে পারবেন।

স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হলে এর হস্তান্তর বা লেনদেন নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আদালতের আদেশ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে। ভূমি কার্যালয় ও সাবরেজিস্ট্রারকে বিষয়টি অবহিত করা হবে। এ ছাড়া কোনো ব্যাংক হিসাব বা লকার অবরুদ্ধ করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যবস্থাপককে অবহিত করা হবে। শেয়ার বা ডিবেঞ্চার ক্রোক করা হলে তা স্টক এক্সচেঞ্জ, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে জানানো হবে। এ ছাড়া নৌযান, স্থলযান এবং আকাশযান ক্রোক করা যাবে এবং এসব যানবাহন যাতে না চলতে পারে, সে জন্য প্রত্যেক যানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে (বিমান, নৌপরিবহন বা সড়ক পরিবহন) আদালতের নির্দেশ জানিয়ে দেওয়া হবে।

সংশোধিত সেই বিধিমালা অনুযায়ী ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করলো সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে দুদক আইন পাস হওয়ার পর ২০০৭ সালে দুদক বিধিমালা জারি হয়। প্রায় এক যুগ পর বিধিমালাটি সংশোধন করে দুদকের বিদ্যমান ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে।