কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে বিচারপতি সিনহার আবেদন

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০১৯ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
বিচারপতি এস কে সিনহা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছেন। এ আবেদনের উপর আগামী মাসে (আগস্ট) শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আশ্রয় চেয়েছেন তার স্ত্রী সুষমা সিনহাও। এর আগে এস কে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেও তার স্ত্রী সুষমা সে আবেদন করেননি।

গত ৪ জুলাই সড়ক পথে কানাডায় এসে নায়াগ্রায় রাজনৈতিক আশ্রয় চান বিচারপতি সিনহা ও তাঁর স্ত্রী। তারপর থেকে তিনি টরন্টো বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।

কানাডার অনলাইন গণমাধ্যম নতুন দেশ সূত্রে জানা গেছে, বিচারপতি সিনহার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনটি ঝুলে যাওয়ার পর তিনি কানাডায় এসে আশ্রয় চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিজে গাড়ি চালিয়ে কানাডা আসেন। স্কারবোরো এলাকায় একটি কন্ডোমিনিয়াম ভাড়া নিয়ে আপাতত সেখানেই তিনি স্ত্রী ও কন্যাসহ থাকছেন।

নিউইয়র্কের সূত্রগুলো জানায়, আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে বিচারপতি সিনহা তেমন একটা ইতিবাচক সাড়া পাননি। তরুন এক ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা তার সাক্ষাতকার নিয়েছেন এবং বিচারপতি সিনহার বক্তব্যে ‘সন্তোষজনক নয়’ জানিয়ে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়ার জন্য রিফিউজি বিষয়ক আদালতে পাঠিয়ে দেন। তারপর আর তার আবেদনের কোনো অগ্রগতি হয় নি। এরই মধ্যে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি কানাডাকে পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে বেছে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি হিসেবে এবং তাকে ঘিরে ঘটনাপ্রবাহের কারণে কানাডায় আবেদন করার সাথে সাথে রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যাপারে ‘টেবল ডিসিশন’ হয়ে যাবে, অনেকে এমন ধারণা করলেও বিচারপতি সিনহার ক্ষেত্রে সেটি ঘটেনি। এক মাস পর শুনানির তারিখ দেয়া হয়েছে তাকে।

কানাডার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, তৃতীয় নিরাপদ কোনো দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করা হলে তিনি কানাডায় প্রবেশের অনুপুযুক্ত হবেন- মর্মে একটি নতুন আইন হয়েছে। সেই আইনের বিধিতে বিচারপতি সিনহা রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য নন। কিন্তু তার আবেদনপত্র গ্রহণ করে শুনানির সুযোগ দেয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিচারপতির সিনহার ঘনিষ্ঠজনরা।

টরন্টোয় বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করলেও বিচারপতি সিনহা খানিকটা নিরিবিলিই থাকছেন। এর মধ্যে তিনি স্থানীয় একটি মন্দিরে গিয়েছেন এবং বাংলাদেশ সরকারের সাথে টানাপড়েন চলাকালে বিশেষভাবে আলোচনায় আসা একজন ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াতেও গেছেন। ওই দাওয়াতে নিউইয়র্ক থেকে তার কয়েকজন বন্ধুও যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।