ব্যারিস্টার খোকনের অভিযোগের জবাব দিলেন আইনমন্ত্রী

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৭ আগস্ট, ২০১৯ ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন

জেনেভায় জাতিসংঘের একটি সভায় দেশের বিচার বিভাগ নিয়ে আইনমন্ত্রী মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এমন অভিযোগের জবাব দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

ওই অভিযোগের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার, জেল হত্যা, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার শেষ করেছি। সব মামলার বিচার শেষ করেছি। সেক্ষেত্রে আমি যদি দাবি করি, বাংলাদেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেই পদক্ষেপগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিয়েছে। তাহলে আমি কি মিথ্যা বলেছি?’

রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষায় বিচারিক পদ্ধতির সক্ষমতা নিয়ে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার খোকনের বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের উদ্দেশে আনিসুল হক বলেন, ‘এখানে আমার দুটো কথা। প্রথমত আপনারা সব কিছুই জানেন। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু হত্যার কোনো এজাহার করা যায়নি। এটা কি আইনের শাসন? তারপর জেল হত্যা মামলার একটি এফআইআর হওয়ার পরও কোনো সুরাহা হয়নি। এটা কি আইনের শাসন? ক্লিনহার্ট অপারেশেন কি আইনের শাসন? কোনটাই আইনের শাসন নয়।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যদি জেনেভার সভায় গিয়ে এসব তথ্য তুলে ধরি, তাহলে আপনাদের কাছেই আমি বিচার চাইবো, আমি সত্য বলেছি নাকি মিথ্যা বলেছি।’

আনিসুল হক বলেন, ‘দ্বিতীয়ত তারা বলেছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। উনাদের (বিএনপি) সময় উনাদের মতো করে বিচার পাওয়ার জন্য একজন বিচারপতি যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারেন, সেজন্য সংবিধান পরিবর্তন করেছিলেন।’

এর আগে গত রোববার সুপ্রিম কোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন অভিযোগ করেন, ‘জেনেভায় জাতিসংঘের সভায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে মিথ্যাচার ও গুম-খুনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সঠিত তথ্য দেননি তিনি। আর এ কারণে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং এ কারণে তার স্বপদে থাকার অধিকার নেই।’ ওই বক্তব্যের সত্যতা এবং জেনেভায় আয়োজিত সভার ইতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান গণমাধ্যমকর্মীরা।

এর আগে শিশু সুরক্ষায় বিচারিক পদ্ধতির সক্ষমতা নিয়ে ২০১৩ সালের শিশু আইনের ওপর একটি কর্মশালার উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী। এ সময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আবু সাহেল শেখ মো. জহিরুল হক, যুগ্ম সচিব গোলাম সারওয়ার ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি টমো হোজুমি।