দেয়াল টপকে বাড়িতে ঢুকে ভারতের সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০১৯ ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম

ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নয়াদিল্লির নিজ বাড়ি থেকে বুধবার (২১ আগস্ট) রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিবিআই ও পুলিশের প্রায় ৩০ জনের একটি দল নয়াদিল্লিতে পি চিদাম্বরমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে মঙ্গলবার সিবিআই ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সাবেক এই মন্ত্রীর বাড়ির সামনে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে নোটিশ টাঙায়।

বর্তমানে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য চিদাম্বরম অতীতে বিভিন্ন সময় অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচিত হয়েছিলেন নিম্নকক্ষ লোকসভার সদস্য হিসেবেও।

আইএনএক্স মিডিয়া কেলেঙ্কারি মামলায় চিদাম্বরমের জামিনের আবেদন দিল্লি হাইকোর্ট নাকচ করে মঙ্গলবার। এর তাঁর আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। আইনজীবীরা চেষ্টার করছিলেন, যেন বুধবার ওই আপিলের শুনানি হয়। কিন্তু তার আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সিবিআইয়ের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

সন্ধ্যার দিকে কংগ্রেসের এই জ্যেষ্ঠ নেতা কংগ্রেস সদর দপ্তরে ছিলেন। তখন থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তারে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। অনেক নাটকীয়তার পর রাতে বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারে সময় দিল্লি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিবিআইয়ের ৩০ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিবিআইয়ের কর্মকর্তারা পি চিদাম্বরমের বাসায় অভিযান চালাতে গিয়ে মূল ফটক খুলে দিতে বলেন। কিন্তু বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা ফটক খুলে দেননি। একপর্যায়ে দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকেন সিবিআই কর্মকর্তারা। কিছু সময় পর চিদাম্বরমকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান তাঁরা।

মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই রাতে সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তদন্তকারী কর্তারা চিদাম্বরমের বাড়ি যান তাঁকে প্রেপ্তার করতে। না পেয়ে চিদাম্বরমকে দুই ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে তাঁর বাড়িতে নোটিশ টাঙানো হয়। বিদেশযাত্রা রুখতে লুক আউট নোটিশও জারি করা হয়।

আইএনএক্স মিডিয়ার পরিচালক ছিলেন পিটার মুখার্জি ও তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী। ইন্দ্রাণীর কন্যা শিনা বোরা হত্যা মামলায় দুজনেই বিচারাধীন বন্দী। আইএনএক্স মামলাটি সেই সময়ের, যখন প্রথম ইউপিএ সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন চিদাম্বরম। অভিযোগ, ২০০৭ সালে চিদাম্বরমের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ও তাঁর পুত্র কার্তির উদ্যোগে আইএনএক্স মিডিয়া ৩০৫ কোটি রুপি বিদেশি বিনিয়োগ আদায় করে। সেই অর্থ আদায়ের ‘উপহার’ হিসেবে কার্তি পাঁচ কোটি রুপির মতো ‘দালালি’ পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সিবিআই এবং ইডির অভিযোগ, অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন বহু অর্থ চিদাম্বরমেরা এভাবে আদায় করেছেন এবং দুজনে নাকি বিদেশে ১২টির বেশি ব্যাংক খাতা খুলেছিলেন।

চিদাম্বরমের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে তাঁর দল কংগ্রেস। দলের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী ও তাঁর বোন সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা টুইট করে গোটা বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।