শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে আইনজীবী সনদ প্রদানের দাবি সংসদে

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২:২৫ অপরাহ্ণ

করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন ২৬ সেপ্টেম্বরের লিখিত পরীক্ষা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা গ্রহণ করে আইনজীবী সনদ প্রদানের দাবি উত্থাপন করা হয়েছে সংসদে।

আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ সংসদে এ দাবি জানান।

সংসদে এই আইন প্রণেতা বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি বিবেচনা করে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ২০১৭ ও ২০২০ সালে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষানবিশদের আইনজীবী সনদ প্রদান করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে জেলা জজের কাছে সনদ প্রার্থীদের মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা দিতে হবে। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই কেবল আইনজীবী হিসেবে বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত হবে।

এদিকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর করোনা পরিস্থিতির কারণে দ্রুততম সময়ে নিবন্ধন পেতে লিখিত পরীক্ষা বাদ দিয়ে সরাসরি ভাইবা থেকে আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্টের সুযোগ পেতে আন্দোলন করছেন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা। সনদ ও বার কাউন্সিলে নিবন্ধের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দুই মাসের বেশী সময় ধরে ‘মানবিক প্রতীকী অনশন কর্মসূচি’ পালন করছেন তারা।

বিগত ৭ জুলাই প্রিলি উত্তীর্ণ ১২ হাজার ৮৭৮ জন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে একটানা তিন বছর কোনো লিখিত পরীক্ষা হয়নি। মহামারি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এরপরেও পরীক্ষা শুরু হলে চূড়ান্ত তালিকাভুক্তি পর্ব শেষ হতে হতে আরও দুই থেকে আড়াই বছর সময় লেগে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যারা প্রিলিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন বিশেষ বিবেচনায় তাদের লিখিত পরীক্ষা না নিয়ে সরাসরি ভাইবার মাধ্যমে অ্যাডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানাচ্ছি আমরা।

অন্যদিকে, আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রিলিমিনারী (এমসিকিউ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আইন শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরই নেওয়ার প্রশ্নে অনড় বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ।

বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষার তারিখ ঠিক রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।