জেনে নিন বাটোয়ারা মামলা কি এবং কখন এ মামলা দায়ের করা যায়

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২০ ১:৫৯ অপরাহ্ণ
পার্থ প্রতিম বড়ুয়া সিনহা

দেওয়ানী মোকাদ্দমার সবচেয়ে কৌতুহলউদ্দীপক রোমাঞ্চকর মোকাদ্দমা হল পারটিশান সুট বা বাটোয়ারা মামলা বা বিভাগ মামলা। মূলত পৈত্রিক সম্পত্তি ওয়ারিশদের মাঝে সমবন্টন না হলে পারটিশান সুট হওয়ার কারন উদ্ভব হয়। ঘটনার বিবরন অনুসারে বা আরজি অনুসারে এই মোকাদ্দমায় প্রচুর পক্ষ থাকায় এবং মোকাদ্দমার দীর্ঘসূত্রিতার কারনে একে ‘King of Suit’ বা মোকাদ্দমার রাজা বলা হয়। বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন অ্যাডভোকেট পার্থ প্রতিম বড়ুয়া সিনহা

বাটোয়ারা মোকাদ্দমা
Partition suit এর বাংলা আভিধানিক অর্থ বাটোয়ারা মামলা। যখন কোন পৈত্রিক সম্পত্তি তার ওয়ারিশদের মাঝে সমভাবে বন্টন না হয় তখন পারটিশান সুটের মাধ্যমে প্রতিকার প্রার্থনা করা হয়। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল পারটিশান সুট এর পক্ষ একই ওয়ারিশ কিংবা একই রক্ত হতে সৃষ্ট ব্যক্তিবর্গ হয়। তবে এক্ষেত্রে বলে রাখা ভাল যদি উক্ত নালিশী সম্পত্তি ইতিমধ্যে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে তাহলে রক্তের বাইরেও যে কেউ এই মোকদ্দমার বিবাদীস্বরুপ পক্ষভুক্ত হতে পারে।

বাটোয়ারা মামলা কখন হয়

১. যখন নালিশী সম্পত্তিতে দাবীদার পক্ষ এবং অন্যান্য শরীকরা দখলে থাকে।
২. যদি নালিশী সম্পত্তিতে দাবিদার পক্ষ তার প্রাপ্য থেকে, কম দখলে থাকে।
৩. অন্যান্য পক্ষগণ যদি তার প্রাপ্য থেকে বেশী দখলে থাকে।
৪. যদি অন্যান্য পক্ষ দাবীদারের পক্ষের দাবীকৃত অংশ অস্বীকার করে।

উদাহারণ- ১
রহিম করিম ২ ভাই। আর.এস খতিয়ান অনুসারে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি মোট ১২ শতক। সেক্ষেত্রে রহিম ৬ শতক এবং করিম ৬ শতক প্রাপ্য। কিন্তু রহিমের ৪ শতক এবং করিমের ৮ শতক হিসেবে বি. এস খতিয়ান প্রস্তুত হয়। এক্ষেত্রে রহিম বা রহিমের যেকোন ওয়ারিশ বাদী হয়ে, করিম বা করিমের যেকোনো ওয়ারিশকে বিবাদী করে পারটিশান সুট করতে পারে।

উদাহারণ- ২
হামিদ আলী এবং চেরাগ আলী ২ ভাই। তাদের মোট পৈত্রিক সম্পত্তি ২০ শতক। সে হিসেবে সমবন্টন অনুসারে উক্ত ২ ভ্রাতার প্রাপ্য ১০ শতক করে। কিন্তু আর.এস খতিয়ানে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি হামিদ আলীর ১২ শতক এবং চেরাগ আলীর ৮ শতক লিপিবদ্ধ হয়। হামিদ আলী উক্ত আর এস খতিয়ান অনুসারে ৩ শতক কুদ্দুস আলীর কাছে বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে হামিদ আলীর ৯ শতক এবং চেরাগ আলীর ৮ শতক হিসেবে বি.এস খতিয়ান প্রস্তুত হয়। এক্ষেত্রে চেরাগ আলী বা তার যেকোনো ওয়ারিশ বাদী হয়ে, হামিদ আলী বা তার যেকোন ওয়ারিশকে বিবাদী করে পারটিশান সুট দায়ের করতে পারে। তাছাড়া সম্পত্তি ক্রয় করায় কুদ্দুস আলী বা তার যেকোনো ওয়ারিশকে বিবাদী স্বরুপ মোকাদ্দমার পক্ষভুক্ত করতে হবে।

উদাহারণ- ৩
ভারত এবং সতীশ ২ ভাই। পৈত্রিক সম্পত্তি ২০ শতক আর.এস খতিয়ান অনুসারে ২ ভ্রাতার প্রাপ্য ১০ শতক করে লিপিবদ্ধ হয়। কিন্তু ভারত ইতিমধ্যে ৫ শতক তৃতীয় কোন পক্ষের কাছে দলিল মুলে বিক্রয় করে দেন। সে হিসেবে বি.এস খতিয়ানে ভারতের ৫ শতক এবং সতীশের ১০ শতক হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। এক্ষেত্রে ভারতের কোন ওয়ারিশ সতীশের কোন ওয়ারিশের বিরুদ্ধে Partition suit এ যেতে পারবে না। কেননা ভারত ইতিমধ্যে দলিলমূলে জায়গা বিক্রয় করেছে।

পার্থ প্রতিম বড়ুয়া সিনহা: অ্যাডভোকেট; জজ কোর্ট, চট্টগ্রাম।