মরহুম মাহবুবে আলম স্যারের স্মরণে একটি স্মরণ সভার প্রয়োজনীয়তা

প্রতিবেদক : বার্তা কক্ষ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২০ ১:০৮ অপরাহ্ণ
ব্যারিস্টার গাজী ফরহাদ রেজা

ব্যারিস্টার গাজী ফরহাদ রেজা: অনেক ধন্যবাদ সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসসিয়েশনের বর্তমান কার্যকরী কমিটিকে গত মঙ্গলবার একটি সুন্দর শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য। মাননীয় বিচারপতি জনাব শেখ হাসান আরিফ অনেক সুন্দর উপস্থাপনায় ফৌজদারী আইনের ১৬৪ ধারা ব্যাখা করলেন সাবলীল এবং শিক্ষণীয়ভাবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান মাননীয় অ্যাটর্নি জেনারেল বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী আমিন উদ্দিন স্যার, পরিচালনায় ছিলেন সুপ্রীম কোর্টে আমাদের প্রিয় সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিশেষ অতিথি ছিলেন ফৌজদারী আইন বিশেষজ্ঞ শাহজাহান স্যার। বর্তমান সময়ের বিবেচনায় এই ধরনের শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে সেমিনার আরো হওয়া উচিত। সেই জন্য এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

কিন্তু ঠিক এখানেই একটা চিন্তা, কিছুদিন আগেই মারা গেলেন আমাদের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল। সুপ্রীম কোর্ট বার তাঁর স্মরণে কোনো অনুষ্ঠান এখনো করে নাই! সবারই সময় একদিন শেষ হবে। সকল পদ-পদবীতে নতুন মুখ আসবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। সেখানে নতুনকে স্বাগত জানানোর যেমন প্রয়োজনীয়তা আছে একই সাথে বিগত যিনি হয়েছেন তাকে স্মরণ করাও আমাদের দায়িত্বের ভেতর পড়ে। জীবন চলবে স্বাভাবিক জীবনের নিয়মে। যিনি বিগত হয়েছেন তিনি আর কখনো আসবেন না আমাদের মাঝে আমাদের ভালো-মন্দের খোঁজ নিতে। সকল আলোচনা-সমালোচনার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি এখন এক অজানা দেশে। যেখানে একদিন সবাইকে যেতে হবে। তাই তাঁর স্মরণে একটা অনুষ্ঠান সুপ্রীম কোর্ট বার করবে এটাই কাম্য এবং স্বাভাবিক।

জনাব মরহুম মাহবুবে আলম বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে প্রায় এগারো বছরের বেশি সময়ে বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে বহু বিষয়ে তিনি হয়েছেন আলোচিত-সমালোচিত। বহুলোকের বিরাগভাজন হয়েছেন। এই বিষয়টি আমাদের সকলের জন্য প্রযোজ্য। কাজ করলে আলোচনা এবং সমালোচনা দুইটাই থাকবে। কিন্তু একজন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর বিশেষ করে মাহবুবে আলম স্যারের মত বিজ্ঞ আইনজীবী চলে যাওয়ার পর সব কিছু ছাড়িয়ে তার জীবন নিয়ে আলোচনা করা উচিত আমাদের মত নতুন আইনজীবীদের প্রয়োজনেই।

উনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে থাকা অ্যাটর্নি জেনারেল। উনি নিশ্চয়ই সাধারণ একজন আইনজীবীর থেকে কিছু আলাদা না হলে এই সুযোগ তিনি পেতেন কিনা জানি না। তবে একজন দেওয়ানী মামলার বিশেষজ্ঞ হিসেবে ওনার বিজ্ঞতা, প্রাজ্ঞতা এবং যোগ্যতার সুনাম আইন অঙ্গনে সর্বজন বিদিত। তাই উনার স্মরণে সুপ্রীম কোর্ট বার স্মরণ সভার আয়োজন করে তার জীবনকর্ম এবং পেশাগত উৎকর্ষতার বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে, তার সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে আমাদের মত নবীন সাধারণ আইনজীবীরা অনেক উপকৃত হবেন বলে আমি মনে করি।

আমার বাবার অনেকগুলি মামলায় স্যারকে সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে সহযোগিতা করার সুযোগ হয়েছিল। বহুবার পেছন থেকে স্যারকে কোর্টের সামনে হেয়ারিং করতে শুনেছি। আমার এখনো মনে আছে ব্যারিস্টার সারা হোসেইন আলোকচিত্রী শহীদুল আলম সাহেবের মামলায় অনেক শক্ত শক্ত কথা বলছিলেন মাহবুবে আলম স্যারকে উদ্দেশ্য করে, কিন্ত তিনি কি সাবলীলভাবে সেই কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে মামলা সম্পর্কিত ওনার যে বক্তব্য সেটি দিলেন। ব্যারিস্টার সারা হোসেনকে কোনরূপ ব্যক্তিগত আক্রমণ করলেন না! রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি প্রায়ই এই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হতেন কিন্তু আমি নিজে যতবার দেখেছি উনি কোর্টের সামনে সর্বদা বিনয় নিয়ে কথা বলতেন। বিষয়টি আমাদের মত উচ্চ আদালতে আইনজীবী হিসেবে কর্মরত নবীন আইনজীবীদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় এবং প্রতিপালনীয়।

সর্বশেষে আমার এই সংক্ষিপ্ত লেখায় যে আবেদনটি আমাদের সিনিয়রদের কাছে করতে চাই, সেটি হল বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময়ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল থাকা জনাব মরহুম মাহবুবে আলমের কর্মময় জীবনের উপর আমরা নবীন আইনজীবীরা একটি সেমিনার আশা করি যেখানে ওনার সহকর্মীরা ওনার কর্মময় জীবনের স্মৃতি চারণ করবেন। এক্ষেত্রে সুপ্রীম কোর্ট বারের ডাইনামিক সভাপতি ও সম্পাদকসহ বর্তমান কার্যকরী কমিটির সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবার জন্যে। আমি মনে করি জনাব মরহুম মাহবুবে আলম স্যারের জীবন একজন আইনজীবীর জন্য অনেক অনুকরণীয়। তিনি এখন সকল ভুল-ত্রুটি আলোচনা-সমালোচনার ঊর্ধ্বে। আমাদের দায়িত্ববোধের প্রয়োজনেই বলেন আর ওনার কর্মময় জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনেই বলেন সুপ্রীম কোর্ট বার একটি স্মরণ সভার আয়োজন করলে আমরা তরুণ আইনজীবীসহ সাধারণ আইনজীবীরা উপকৃত হবেন। মনোযোগ ও ধৈয্যসহকারে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

ব্যারিস্টার গাজী ফরহাদ রেজা: আইনজীবী; বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং প্রেসিডেন্ট, লিগ্যাল ভয়েস ফাউন্ডেশন।