lawyers club Add Section
ঢাকা || বৃহস্পতিবার , ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং || ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ || ২৬শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী

আইন পেশায় ক্যারিয়ার: প্রতি মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ

মানসিক প্রস্তুতিই হচ্ছে আইন পেশার প্রধান হাতিয়ার। যারা এই মহান পেশায় আসতে চান এবং যাদের স্বপ্ন এই পেশাকে ঘিরে, তাদের সবার আগে মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই এগোতে হবে। কারণ এ পেশা অন্য সেবামূলক পেশা থেকে কিছুটা ভিন্ন।

আইন পেশার শুরুটা একটু চ্যালেঞ্জের, একটু দুর্গম। তাই শুরু থেকে কঠিন পরিশ্রম এবং একাগ্রতা নিয়ে কাজ করার প্রস্তুতি নিতে হবে। তাছাড়া এখানে আসার আগে আপনাকে ‘রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’ কথাটার মর্মবাণীও মাথায় রাখতে হবে। রাজ্যের ধৈর্য নিয়ে আপনাকে বিচারপ্রার্থীদের সমস্যার কথা মন দিয়ে শোনার মানসিকতা রাখতে হবে।

এ পেশার শুরুটা করুন একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে কাজ দিয়ে। প্রথমে আয়-রোজগারের দিকে না তাকিয়ে কাজের প্রতি মনোযোগী হোন। একাডেমিক রেজাল্ট এখানে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ একাডেমিক ফলের চেয়ে আইন পেশায় পেশাজীবনের মেধা, পরিশ্রম ও ধৈর্যই আপনাকে এনে দেবে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

এ পেশার সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করেই এগিয়ে যেতে হবে আগামীর সাফল্য পেতে। চলুন, বিস্তারিত জানা যাক-

যেভাবে শুরু

অন্যান্য পেশার মতো আইন পেশায়ও আপনাকে একটা দেয়াল টপকে আসতে হবে। আইনজীবী হতে হলে আপনাকে আইনের ওপর স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর বার কাউন্সিল থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তাছাড়া সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হতে হলে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত নিম্ন আদালতে কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বার কাউন্সিলের পরীক্ষার দেয়াল টপকাতে হবে। আর বিচারক হতে হলে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সহকারী জজ নিয়োগের পরীক্ষায় বসতে হবে।

বিচারক আর আইনজীবী হিসেবে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে নেওয়া যায় বিচারপতি হওয়ার সুযোগ।

জুনিয়রে নেই বাধা

আইন বিভাগে স্নাতক পাস করে ক্যারিয়ারের শুরুতে তরুণ আইনজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে জুনিয়রশিপ। এ ক্ষেত্রে অনুগত জুনিয়রটি সিনিয়রের সঠিক দিকনির্দেশনায় অনুশীলন বা পথচলা শুরু করলে খুঁটিনাটি বিষয়ে সহজেই অবগত হতে পারবেন, যা এ পেশায় সফলতা পেতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া এ পেশায় সফলতা পেতে একজন জুনিয়রের আচার-আচরণসহ কী কী বিষয়ে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন- সেসবও ধরিয়ে দেন সিনিয়ররা।

প্রচুর পরিশ্রমের পাশাপাশি আপনি শেখার আগ্রহ ধরে রাখতে পারলে ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই অনুশীলন পর্ব শেষ করে কাজে নেমে পড়তে পারেন। তখন অভিজ্ঞতা আপনাকে বড় ধরনের সাপোর্ট দিয়ে যাবে।

কাজের ক্ষেত্র

একজন আইনজীবী আইন পেশার পাশাপাশি যে কোনো কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজর, যে কোনো ব্যাংকের নিজস্ব আইনজীবী অথবা জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার আইন উপদেষ্টা হিসেবে চাকরি করতে পারেন। আইন কমিশনেও চাকরির সুযোগ আছে। এখানে আয় ও সম্মান- উভয়ই ভালোমানের। বর্তমানে ব্যাংক, বীমা ছাড়াও বিভিন্ন মার্কেট ও বিউটি পার্লারসহ ছোট-বড় প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে লিগ্যাল অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে একজন আইনজীবীর কাজের পরিধি সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাছাড়া মানবাধিকার কর্মী হিসেবে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থায় কাজের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিচারক ও আইনজীবী হিসেবে কাজেরও সুযোগ আছে। বিস্তর জায়গা আছে আইন সাংবাদিকতায়ও। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে আদালত প্রতিবেদক হিসেবে সাধারণত আইনজীবীদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়। তাছাড়া আইন একটি মুক্ত পেশা। এখানে রয়েছে রাজ্যের স্বাধীনতা! নিজের পছন্দ অনুযায়ী ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করা যায়। তবে এ পেশায় সামাজিক দায়বদ্ধতা অন্য অনেক পেশার চেয়ে বেশি। এ ক্ষেত্রে একজন আইনজীবীকে বার কাউন্সিল থেকে প্রণীত আচরণবিধি বিশেষভাবে মেনে চলতে হয়। তা না হলে তার বার কাউন্সিল সনদ বাতিল হয়ে যেতে পারে!

আয়-রোজগার

আইন পেশাটা পুরোই আপনার কাজের ওপর নির্ভর করবে। কাজ বলতে মেধা ও অভিজ্ঞতা। আপনি এখানে যতই মাথা খাটাতে পারবেন, ততই ভালো একটা অ্যামাউন্ট পকেটে পুরতে পারবেন। তাছাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা সহকারী জজ পদে নিয়োগ পেলে সর্বোচ্চ সম্মান, রাজ্যের সুবিধাসহ ভালো অঙ্কের বেতন তো আছেই। তবে আইনজীবী হলে আয়-রোজগারের বিষয়টি অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত দক্ষতা, সামাজিক যোগাযোগ ও মামলার ধরনের ওপর নির্ভর করে। হাইকোর্ট অথবা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মাসিক আয় মামলার ধরন অনুযায়ী ৬০ হাজার থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত। আইন পেশায় সদ্য যোগদানকারীরা ভালো টাকা আয় করতে পারেন মাথা খাটিয়ে। একজন নতুন আইনজীবী সাধারণত ৩০-৩৫ হাজার টাকার ওপর আয় করতে পারেন অনায়াসে।

মানুষের জন্য

আমাদের দেশে আত্মনির্ভরকেন্দ্রিক যত পেশার দেখা মেলে, তার মধ্যে আইন পেশা সর্বজন পরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি। এ পেশায় এসে আপনি যেমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন, তেমনি সমাজে সবার কাছে নিজেকে উপস্থাপন করার সুযোগ পাবেন। তাছাড়া সম্মান ও সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য বর্তমান সময়ে আইন পেশার প্রতি সবার আগ্রহ বেড়েই চলছে। এ পেশার সুযোগ প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মাত্রা ও সম্ভাবনা যোগ করছে।

প্রাচীন আমল থেকেই আইনজীবীদের দেখা হয় মর্যাদার চোখে। এক সময় এ পেশায় কেবল ছেলেরা এলেও সেই দেয়াল অনেক আগেই ভেঙে গেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেয়েরা এখন বেশ ভালোভাবেই নিচ্ছেন এ পেশা। আপনিও পারেন আইন পেশায় এসে সফল ক্যারিয়ার গড়তে। এর জন্য প্রস্তুতিটা শুরু করুন আজ থেকেই।

নিশ্চয়ই মানুষের কল্যাণের কথাটাও মাথায় থাকবে আপনার?

(মোহসেনা জয়া/ সমকাল)

বিষয়: