মামলা জট নিরসনে বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বয় থাকা উচিৎ


প্রকাশিত :০৬.১০.২০১৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ

deputy-atorny-general-sajuঅ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

মামলা জট নিরসনে বিচারক ও আইনজীবীদের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিৎ, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলা জট নিরসনে বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বয় থাকা উচিৎ। কারণ অনেক সময় অনেক বিচারক একটা মামলায় অর্ডার দিলেন তিন মাসের জন্য; যদি ইচ্ছে করেন যে, না এই মামলা সিম্পল মামলা, অভিযোগ যেটা এসেছে সেটা যদি আনলিমিটেড পিরিয়ডের জন্য জামিন বা আনলিমিটেড পিরিয়ডের জন্য স্টে দিয়ে দেন; তাহলে দীর্ঘদিন বারবার কজলিস্টে মামলাটি না আসলে এতোটা কেস জটিলতার মধ্যে পড়ে না। বরং এখানে যে বারবার সময় এক্সটেনশন করতে হয় সে সময়কালে অনেক মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

আর একটা বিষয় অনেক ক্ষেত্রে মামলা কজলিস্টে এসেছে কিন্তু অনেক আইনজীবী বিশেষ করে বিধিবদ্ধ সংস্থা মামলা করে সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন হাজিরা ভিত্তিতে বিল করতে পারে, এধরনের প্রবণতাও কিছু কিছু আইনজীবীর আছে। এটা যদি কোর্ট গ্রহণ না করে অর্থাৎ এখন কোর্ট যদি মনে করে এই মামলাটা আজকে লিস্টে এসেছে কাল আসবে না, সাতদিন পরে বা পনের দিন পরে যে তারিখে দেয়া হবে ঐদিন তার শুনানি করতে হবে, দুই পক্ষেরই আইনজীবীর নাম দিয়ে সেটা কজলিস্টে উপস্থাপন হবে এবং সেদিন কোর্টে যদি শুনানি না করে তাহলে কোর্ট মামলাটা ডিসমিস বা ডিসচার্জ করে দিবে তাহলে অবশ্যই আইনজীবী আসতে বাধ্য হবে। সেক্ষেত্রে অনেক জটিলতা কমে যেতে পারে।

এখন যেটা স্টে বা জামিন দিচ্ছে ৩ মাস বা ছয় মাসের জন্যে, সেটা কিন্তু আনলিমিটেড পিরিয়ডের জন্যে জামিন বা আনলিমিটেড পিরিয়ডের জন্যে স্টে অর্ডার দেওয়া যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক টাকার প্রোপার্টি এটা যদি আনলিমিটেড পিরিয়ডের জন্য দিয়ে দেন তাহলে হয়তো পাঁচ/ দশ বছর আর শুনানি হবে না, পড়ে থাকবে। তবে কোর্ট যদি বলে দেন এটা এক বছরের জন্য জামিন বা স্টে দিয়ে দিলাম এখন এক বছর পর অটোম্যাটিক্যালি মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে অনেক জটিলতা কমে যাবে। এখানে কোর্টের যেমন সহযোগিতার ভাব নিয়ে আসা দরকার, পাশাপাশি আইনজীবীকেও সহযোগিতা করতে হবে। কারণ আইনজীবীর যদি মনে করেন মক্কেলকে ধরে রেখে একের পর এক ফি নিতে থাকবো তাহলে সেটা এককথা; অন্যদিকে জজ যদি মনে করেন যে না আমার তো ডিসপোজ করতে হবে প্রতিমাসে পাঁচটা, আমি পাঁচটার জায়গায় বিশটা করবো না।

আর আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক বিচারপতি ঠিক টাইমে কোর্টে থাকেন না। কোর্ট যদি থাকে সাড়ে নয়টায়, তবে তাঁকে কোর্টে সাড়ে নয়টায়ই উঠতে হবে। কিন্তু দেখা যায় তিনি সাড়ে দশটায় উঠছেন আবার এগারোটায় নেমে যাচ্ছেন বা এগারোটায় উঠে ফার্স্ট হাফটা করলেন দ্বিতীয়টা না করেই নেমে গেলেন। অথবা সেকেন্ড হাফে এক ঘণ্টা করে নেমে যান। সঠিক সময়ে কোর্টে এসে দায়িত্ব পালনটা ইবাদতের মতো পালন করতে হবে। বিচারক, বেঞ্চ অফিসার এবং আইনজীবীর সমন্বয়ের মাধ্যমে মামলা জট নিরসন করতে হবে।

 

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ল’’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কম সম্পাদক, ড. বদরুল হাসান কচি। 



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon