নারীকে প্রতিনিয়ত টিকে থাকতে হয় স্রোতের বিপরীতে


প্রকাশিত :১১.১০.২০১৬, ২:২১ অপরাহ্ণ

adv-taniaনাহরিন তানিয়া

‘কোনো কালে একা হয়নিকো জয়ী পুরুষের তরবারী,

প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে, বিজয় লক্ষী নারী।’

-কাজী নজরুল ইসলাম

দেশ আমাদের মাতা। দেশের সমৃদ্ধি নির্ভর করে নারীর উপর। এর প্রমান মিলেছে পৃথিবী জুড়ে। নারী দেশের জন্য দিয়েছে অনেক । আজও আমাদের সমাজ আমাদের দেশ সেই নারীকে দিতে পারেনি বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। আজও দিতে পারেনি মাথা উঁচু করে বলতে আমিও মানুষ। আজও পুরুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা বললে চাপাতির আঘাতে মৃত্যুর দিন গুনতে হয় আজও যৌতুকের কষাঘাতে জীবন দিতে হয়, স্বামীর পরকীয়ায় বলি দিতে হয় তার জীবন। আজোও বাবার অক্ষমতার দায় ভার করতে হয় নারীকে। আজোও বিয়ের পর ভোগ্য সামগ্রীরূপে নিজের জীবন কাটাতে হয়। অথচ আজ আমদের দেশ এই পৃথিবীর রসক যোগাচ্ছে এই নারীরাই। আমাদের আইনও কি পেরেছে এই নারীকে? আমার মনে হয় না। আমাদের দেশে যে আইন গুলো আছে নারীর অধিকার গুলোকে সংরক্ষিত করতে তার প্রয়োগ কি আমরা দেখতে পাই? নারী বিষয়ক সেমিনার হয়, র‍্যালি হয় আমাদের দেশে বিভিন্ন সংস্থা আছে নারীদের কি উন্নতি হয়েছে কেন যেন সবচেয়ে অবহেলিত এ জায়গা এক অবহেলা কাজ করে । এর একটা কারনও আছে বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল নারীদের বাইরে বের করেছেন ঠিকই কিন্তু প্রতিবাদের শক্তি দেয়নি।

আজ আমরা যদি উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকাই দেখতে পাই যে দেশ নারীকে মূল্যায়ন করেছে সে দেশ ততই সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। নারীদের পিছেয়ে রেখেছে যে দেশ সে দেশ পিছিয়ে আছে। আমরা থাইল্যান্ড এর কথা চিন্তা করলে কি পাই একটা দেশকে দাঁড় করিয়েছে এই নারীরাই। আমাদের দেশ তথা স্বাধীনতার পেছনো ছায়াঁর মতো কাজ করেছে নারীরাই। বিরঙ্গনাদের নিয়ে কথা বলা হয় এই বিরঙ্গনারা কি কম ত্যাগ করেছে? আজ যার জন্য আমাদের দেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তার প্রধান মানসিক শক্তি দেশমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব ছিলেন।কিন্তু এই নারীদের মেধা থাকলেও আমাদের দেশে পুরুষদের সিঁড়ি পার হতে হয়। প্রতিনিয়ত নিজেকে ধরে রাখতে হয় স্রোতের বিপরিতে। ঘরের বের হলে দিতে হয় হাজারো প্রশ্নের জবাব, সংসার না করতে পারলে সকল গ্লানি নিজের কাঁধে নিতে হয়, ধর্ষনের স্বীকার হলে ধর্ষিত হওয়ার দায় নিতে হয়; ধর্ষক থাকে অন্তরালে। যেন সমাজের সব খারাপ কাজের দায় তারই। বাবা সংসার ভেংগে আরেক সংসার করলেও মা ছেড়ে যেতে পারে না, সন্তানদের মা যদি দ্বিতীয় বিয়ে করে সমাজ তখন ইংগিত উঠায় অথচ পুরুষদের বেলায় সেটা অলিখিত বৈধতা পায়। শ্রমের মূল্যও নারীদের কম পুরুষদের তুলনায়। অথচ নারীরা তাদের কর্ম ক্ষেত্রে সৎ। মেয়েদের অধিকতর বিবেচনা করা হয় ফ্রন্ট ডেস্ক কর্মকর্তা হিসেবে, বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেব অথচ সেই মেয়েরা যে দেশ চালাতে পারে তা প্রমান করেছে আমাদের দুই নেত্রী। আমি সাধুবাদ জানাই এই দুই নেত্রীকে। একদিন ঠিকই আমরা নিজেকে জানবো নিজের ক্ষমতা জানবো আর সেই দিন দূরে না আমাদের দেশে নারীর অধিকার রক্ষিত হবে ও আমরা হবো সমৃদ্ধ জাতি ও দেশ।

 

লেখকঃ আইনজীবী ও সংস্কৃতি কর্মী।

 



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon