যুগে যুগে মানুষেরই যেন জয় হয়


প্রকাশিত :১২.১০.২০১৬, ২:০২ অপরাহ্ণ

রিয়াদ সালেহীনricism

আফ্রিকা হইতে হবে কেন?? এই বাংলাদেশেই প্রবল রেসিজম বিদ্যমান। সামান্য ক্লাস নাইনে উঠলেই সাইন্সের পোলাদের ভাব আসমান সমান। কমার্স আর্টসের পোলাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে করতে বড় হয়। আফ্রিকা আমেরিকাতে যেটা কাল সাদাদের বিভেদ সেটাই ভারত-পাকিস্থান-বাংলাদেশে ধর্মের আঙিকে এসেছে। ছোটবেলা থেকে লাল পিঁপড়া কালো পিঁপড়া থিওরি দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আমাদের চোখে খারাপ বানাতে পারেনি সরকার-কাঠ মোল্লারা। বন্ধুত্বে হিন্দু আর মুসলিমের দুই রকম অনুভূতি জাগাতে পারেনি কেউ। বাংলা নামকে হিন্দু নাম আর আরবী নামকে মুসলিম নাম শিখিয়েও বাংলা নামের প্রতি ভালোবাসা কমাতে পারেনি চেষ্টাকারীরা। পাকিস্থান সরকার কত চেষ্টা করল বাংলাকে উর্দুতে লিখাতে পরে রোমান হরফে লিখানোর চেষ্টাও চলল কিছু দিন।বাংলা শব্দ জল কে উর্দু শব্দ পানি বলা শিখাতে সফল হলেও কাব্য সাহিত্যে এখনো আমার বাংলা শব্দ জলই রাজত্ব করে। দুর্গা পূজার সিজনে ঈদ ঈদ আনন্দও হতো মনে।

অনেক ধরনের চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল আমাদের আগের জেনারেশন যাতে হিন্দুদের আমরা যে কোন ভাবে ছোট করে দেখি। কিন্তু পারেনি। কেন জানেন? আমরা যেই সময়টায় বড় হয়েছি সে সময়ে ইন্টারনেট ছিলনা। সাম্প্রদায়িক নোংরামি,পেশাদার প্রতিহিংসা ছড়ানো ওই পরিবার আর আত্মীয়স্বজন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল।

salehinতথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের কারণে সাম্প্রদায়িক বিষে আক্রান্ত বর্তমান প্রজন্ম। এর থেকে এদের বের করে আনার কোনো উপায় নেই যদি না তারা পরিবার থেকে শিখে। এখন যেই প্রজন্মটা হিন্দুদের মালাউন বলতে শিখে বড় হচ্ছে সে তার পরের প্রজন্মকে আরো ভয়ংকর শিক্ষা দেবে এটাই স্বাভাবিক।

ধর্ম যার যার উৎসব সবার এই বাক্যের মাধ্যমে আমরা উদারতা ও সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছি। কাউকে আসতেই হবে বলা হয়নি। এটা জাস্ট একটা ফরমালিটি। শুধুমাত্র পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের খাতিরে বলা হয়েছে। কেহ যদি নিজেদেরকে “সবার” (উৎসব সবার) মাঝে না রাখতে চান, আসতে না চান বা নিজেদেরকে আলাদা রাখতে চান ….. আসবেন না। আসতে বলছে কেডা!!!???? এর জন্য তো অশ্লীল ভাষায় ….. বউ একজনের আনন্দ সবার …. এরকম কিছু বলার প্রয়োজন নেই। তাই না???? সবাই মিলে কিভাবে শান্তিপূর্ণভাবে থাকা যায় এরকম কোন কমেন্ট দেখলাম না। আপাত দৃষ্টিতে শান্তির শুভ্র কপোত উড়ানো ভাইরা শুধু অশান্তি আর উস্কানি তৈরিতে ব্যস্ত!!!! কেউ কাউকে আসতে বাধ্য করছে না। ধরে বেধে এনে আনন্দ ঊৎসব হয়ও না। মানুষের উৎসবে মানুষ আসবে, মনুষ্যত্বের বন্ধন দৃঢ় হবে।

পুজায় এসে দেবীর মুখ দেখতে বা অঞ্জলি দিতে তো কেউ বলেনি!!! প্রসাদ না খাক, অন্য খাবার তো খেতে পারে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে পারে। ঈদে মুসলিমের বাড়ি গেলেই গরু খাইতেই হবে কেন??? অন্যকিছু তো খাওয়া যায়। ধর্ম এত হালকা বিষয় না, চুলকানিতে ভরপুর না। ঈদের সময় ঈদ মোবারক বলি, এতেও আমাদের ধর্ম চলে যায় না। আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী।

মণ্ডপে পাঞ্জাবী-টুপি পরা উপরের ছবিটা দেখে তাই বুকের ভেতর টা একটু নাড়া দিলো। অসাম্প্রদায়িকতা শব্দটি যখনি আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে যায় তখনি এমন সুন্দর এক একটা ছবি চোখের সামনে এসে চোখ ঝাপসা করে। লক্ষ হিন্দু মুসলিমের ভীড়ে এখনো কিছু মানুষ বেঁচে আছে। যুগে যুগে মানুষেরই যেন জয় হয়।

 

লেখক: শিক্ষানবিশ আইনজীবী।



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon