গুণীজনঃ অ্যাডভোকেট সুধাংশু শেখর হালদার


প্রকাশিত :১৪.১০.২০১৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ

shudhangshu

১৯৩৬ সালে তৎকালীন খুলনা জেলায় বর্তমানে বাগেরহাট জেলার অন্তর্গত মোরেলগঞ্জ উপজেলাধীন হোগলাপাশা ইউনিয়নের শুলাখালী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে সুধাংশু শেখর হালদারের জন্ম।

আইন শাস্ত্রে এল.এল.বি ডিগ্রি লাভের পর সুধাংশু শেখর হালদার ১৯৬৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে আইন পেশাই নিযুক্ত হন। প্রথমে তিনি বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী বীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী এবং পরবর্তীতে তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত আইনজীবী সবিতা রঞ্জন পালের (এস.আর.পাল) জুনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করেন.১২-০৯-১৯৬৩ তারিখে তিনি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে এনরোন্ড হন।

তিনি বাংলাদেশের বার কাউন্সিলের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি পর পর তিনবার বাংলাদেশের বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ফিন্যান্স কমিটি, এনরোলমেন্ট কমিটি এবং এডুকেশন কমিটির সভাপতি ও নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি কয়েকবার অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষায় পরিক্ষক ও পরিক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ত পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি তার নির্বাচনী এলাকা পিরোজপুর-১ এর পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন। তিনি আইন জগতে একজন আলোচিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।

১৯৮১ সাল থেকে আমৃত্যু ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি কোশাধ্যক্ষ পদে আওয়ামী লীগ কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।২০০২ সালে তিনি পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি মাননীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য হয়ে সংসদে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮০ সালে শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিলের দাবিতে মহান জাতীয় সংসদে তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিবিসি তাঁকে উপমহাদেশের প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

পবিত্র সংসদের অভ্যন্তরে দেয়াল লিখনে কোরআনের আয়াতের বানান ভুল দেখিয়ে দেয়ায় তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান সংসদে প্রস্তাব গ্রহনের মাধ্যমে তাঁকে ‘মাওলানা’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের আমন্ত্রনে একজন প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে সেই দেশ সফর করেন এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার কর্তৃক প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় ভোজে আপ্যায়িত হন।

মহান জাতীয় সংসদে – রাষ্ট্রপতি জিয়ার ব্যবহৃত ছেড়া গেঞ্জি, ভাঙ্গা স্যুটকেস ও পার্কার কলমের বিষয় বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন- ছেঁড়া গেঞ্জি ত্যাগের প্রতীক স্বদেশ প্রেমের নিয়ামক। কিন্তু ছেঁড়া গেঞ্জি্র সাথে হাজারো মূল্যবান বিদেশে তৈরী সাফারি স্যুট,রঙ্গিন চশমার কথা স্মরন করিয়ে দিতে চাই। কলম সম্পর্কে বলেন- এই কলম দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ৪১১ জন সৈনিকের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে। পবিত্র সংবিধান থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে কেটে দেওয়া হয়েছে। দেশে ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ ও গণতন্ত্রের বিকাশে সংসদে সব সময় বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখেছেন। ১৯৯১ সালে দ্বিতীয় বার পিরোজপুর আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নর্বাচিত হন।

১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী বিলের তিনি অন্যতম প্রণেতা এবং যা সংসদে সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি হৃৎপিন্ডের অসুখে ভুগছিলেন। প্রথমে তিনি সোহরাওয়ারদী হাসপাতালে ভর্তি হন। এখান থেকে ভারতের দিল্লিটে  চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে আমেরিকা যান। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় তাঁর যকৃতের মধ্যে ক্যান্সার ধরা পরে এবং ৯ মাস চিকিৎসার পর ২০০৪ সালের আগস্ট মাসে দেশে ফিরে আবার বিদেশে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসায় যান কেমোথেরাপি নিতে। সেখান থেকে সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ফিরে ঢাকা বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ২৯ সেপ্টেম্বর ২০০৪-এ রাত ৮:৩০ মিনিটে মৃত্যুর সাথে দীর্ঘদিন যুদ্ধ করে পরলোক গমন করেন।

লিখেছেন- ড. বদরুল হাসান কচি, সম্পাদক- ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কম।



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon