বিচারপতি সৈয়দ এ. বি. মাহমুদ হোসেন


প্রকাশিত :১৬.১১.২০১৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ

chief-justice-biography-2বিচারপতি সৈয়দ এ. বি. মাহমুদ হোসেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আইনবিদ এবং দ্বিতীয় প্রধান বিচারপতি।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি
সৈয়দ এ. বি. মাহমুদ হোসেন ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের হবিগঞ্জ জেলার লস্করপুর ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ আব্দুল মোতাকাব্বির আবুল হোসেন। পিতা-মাতার সূত্রে তিনি হজরত আলী (রা.) ও হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) উভয়েরই ধারাবাহিকতার গৌরব বহন করতেন। বৈবাহিকসূত্রে তিনি মুসুরীখোলার প্রখ্যাত পীর শাহ আহসান উল্লাহর (রহ.) নাতজামাই ছিলেন এবং নারিন্দার শাহ সাহেব লেনে পীর সাহেবদের হুজরাকেন্দ্রিক আবাসনে বসবাস করতেন।
কর্মজীবন
শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকা জেলা আদালতে আইন ব্যবসা শুরু করেন। তিনি কিছু সময়ের জন্য দারুল আলম আহসানিয়া মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪২ সালে তিনি হবিগঞ্জ মহকুমা আদালতে যোগ দেন এবং ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত সেখানে সহকারি সরকারি উকিল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সৈয়দ এ.বি মাহমুদ হোসাইন ১৯৪৮ সালে ঢাকা হাইকোর্টে আইন ব্যবসায়ে যোগ দেন। তিনি পাকিস্তানের ফেডারেল কোর্টের এটর্নি (১৯৫১) ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট হিসেবে (১৯৫৮) তালিকাভুক্ত হন। ১৯৬৫ সালে তিনি হাইকোর্টের বিচার বিভাগীয় বেঞ্চে বিচারক পদে আসীন হন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর মাহমুদ হোসাইন ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে যোগদান করেন। একই বছর তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারক নিযুক্ত হন। বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের অবসর গ্রহণের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের ২য় প্রধান বিচারপতি হিসাবে সৈয়দ এ. বি. মাহমুদ হোসেনকে নিয়োগ প্রদান করেন এবং তিনি ১৯৭৫ সালের ১৮ নভেম্বর তারিখে প্রধান বিচারপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন ও ১৯৭৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তারিখে উক্ত পদ হতে অবসর গ্রহণ করেন।

বিচারক হিসেবে সৈয়দ এ.বি মাহমুদ হোসাইন আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যখ্যাসহ অনেকগুলি সুস্পষ্ট রায় প্রদান করেন। যেমন, মাহবুব হোসেনের মামলায় তিনি রায় প্রদান করেন যে, সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মচারীরা যেমন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে গণ্য নয় তেমনি এই দুই পক্ষকে প্রভূ-ভৃত্যের সাধারণ সম্পর্কেরও অন্তর্ভূক্ত করা যায় না। তবে তাদের চাকুরি সরকারি কর্মচারীর বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সংবিধিবদ্ধ পদ্ধতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাদের চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা যায় না।

রচনাবলী
সৈয়দ এ.বি মাহমুদ হোসাইন হযরত আব্দুল কাদের জিলানীর (রঃ) ফার্সি ভাষায় লিখিত দিওয়ান-এ-গওসিয়া নামক বিখ্যাত গ্রন্থটি ইংরেজি ও বাংলায় অনুবাদ করেন।

মৃত্যু
বিচারপতি মাহমুদ ১৯৮২ সালের ২ আগস্ট বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

 

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon