‘রোকেয়া দিবসে’ নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়াকে শ্রদ্ধা


প্রকাশিত :০৯.১২.২০১৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ

mimi-new

রীনা পারভীন মিমি

আজ রোকেয়া দিবস। বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়ার ১৩৬তম জন্ম ও ৮৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। এক শতাব্দী আগে তিনি যে নারী মুক্তির কথা বলে গেছেন, নারীমুক্তির পথ দেখিয়েছেন এবং ‘জাগো গো ভগিনী’ বলে নারীদের জেগে ওঠা ও জেগে থাকার তাগিদ দিয়ে গেছেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক ।

বাংলাদেশের নারীর চিন্তাধারা, জীবনচর্চা, নারী প্রগতির লক্ষ্যে বেগম রোকেয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ, জীবনযুদ্ধ এবং সাফল্য থেকে আমাদের এই যুগের নারী আন্দোলনের শক্তি ও পথ তৈরি করে চলেছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

আমরা বেগম রোকেয়ার কথাগুলোই যেন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বলে যাচ্ছি বছরের পর বছর নতুন যুগের পথ সন্ধানে। তিনি সেই ১৯০৪ সালে মতিচুর বইয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা সমাজেরই অর্ধঅঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কিরূপে? কোনো ব্যক্তির এক পা বাঁধিয়া রাখিলে সে খোঁড়াইয়া কতদূর চলিবে?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শিক্ষাকেন্দ্রে রোকেয়া পাঠ এখন ‘জেন্ডার সচেতনতা’ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর হয়েছে। তাঁর রচনাবলি এখন বাংলাদেশের নারীবাদী তাত্ত্বিক হিসেবে বৈশ্বিক নারীবাদী তাত্ত্বিকদের সমপর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নারী আন্দোলনের এই সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনের ক্ষেত্রে Sultana’s Dream বা সুলতানার স্বপ্ন সর্বশ্রেষ্ঠ দিশারি বললে ভুল হবে না। তবে তাঁর সমগ্র রচনাবলি একই পথের দিশারি হয়ে আছে।

বস্তুত বেগম রোকেয়া আমাদের অনেকের জন্য কেবল দিবসের উপলক্ষ নন, নিত্যদিনের অনুপ্রেরণা। নারীর ক্ষমতায়তনের প্রতীক। আজকে আমরা দেখছি, গত আড়াই দশক ধরে বাংলাদেশ শাসন করছেন নারী প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকারের টানা দুই মেয়াদে নারীর ক্ষমতায়ন আরও সম্প্রসারিত হয়েছে, বহুমাত্রিক হয়েছে। যেমন আমরা প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর পাশাপাশি স্পিকারও পেয়েছি নারী। বেগম রোকেয়ার দেখানো পথ যুগে যুগে আরও প্রশস্ত হবে বলে বিশ্বাস করি।

লেখক: আইনজীবী ও সহযোগী সম্পাদক– ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কম।



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon