বাংলাদেশ এখন স্বনির্ভর, স্বপ্ন উন্নত রাষ্ট্রের


প্রকাশিত :১৬.১২.২০১৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

image-7541

ফরিদুন্নাহার লাইলী

১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ নামক নতুন দেশ পৃথিবীর মানচিত্রে অভ্যুদয় হয়। ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে’ পাকিস্তানি হানাদার-দখলদার বাহিনী, তাদের দেশীয় অনুচর রাজাকার-আলবদর বাহিনী ও বিদেশি মদতদাতা, অন্যান্য সাম্রাজ্যবাদী দেশ, সাম্রাজ্যবাদের তাঁবেদার মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিক্রিয়াশীল রাষ্ট্র প্রমুখ শক্তিকে পরাজিত করে বাঙ্গালি জাতি ছিনিয়ে এনেছিল এই বিজয়। বিজাতীয় শাসনের নাগপাশকে ছিন্ন করে সেদিন পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বাধীন রাষ্ট্র, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক এই দিনটি বাঙ্গালী জাতির জন্য গভীর শ্রদ্ধা, ভালবাসার গর্ব ও আনন্দের তাৎপর্য বহন করে।

নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু বলেছেন “শুধু ভিক্ষা করে কখনও স্বাধীনতা লাভ করা যায় না। স্বাধীনতা অর্জন করতে হয় শক্তি দিয়ে, সংগ্রাম করে। স্বাধীনতার মূল্য দিতে হয় রক্ত দিয়ে”। সে সর্বোচ্চ মূল্য আমরা দিয়েছি। ৩০ লাখ তাজা প্রাণের বিনিময়ে আমরা লাল সবুজের পতাকাটি পেয়েছি। পৃথিবীর কোন জাতি এতো রক্ত দিয়ে তাঁর স্বাধীনতা লাভ করেনি।

শোষনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা, একটি উদার ও সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, ধর্ম নিরপেক্ষতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, নারী মুক্তি আন্দোলন, নারী শিক্ষার প্রসার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে নিঃশ্বেস করাসহ ন্যায় ভিত্তিক আদর্শে ১৯৭২ সালে বিজয়ী দেশের বহুল প্রত্যাশিত সংবিধান রচিত হয়।

স্বাধীনতার সাড়ে চার দশকে আমদের প্রাপ্তি কোন অংশে কম নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে সরকারের নানাবিধ উদ্যোগের ফলে দেশে আমূল পরিবর্তন লক্ষণীয়। রোগ ব্যাধির উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠা করে মানুষের গড় আয়ু আরো বেড়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর পদচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে। কমেছে দরিদ্রতা। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া হিসাবে নির্বাচন ব্যবস্থা আরো স্বচ্ছ ও সু-প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্থায়ী হয়েছে বহু দলীয় ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক রাজনীতি বার বার হোঁচট খেলেও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পেরেছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মাধ্যমে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ করা হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার করার মধ্য দিয়ে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করা হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশন বাস্তবায়নের ফলে একটি অন্য বাংলাদেশ সবার চোখে দৃশ্যমান; শিশুমৃত্যুহার, মাতৃত্বকালীন মৃত্যু, সর্বজনীন শিক্ষা, শিক্ষায় নারী-পুরুষ বৈষম্য এসব দিক দিয়ে বাংলাদেশ নিজের অবস্থানের প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিবেশী অনেক রাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে। আমাদের শ্রমিকেরা বিদেশের উৎপাদনে অংশ নিয়ে তাদের ভাগ হিসেবে প্রতিবছর দেশে নিয়ে আসছেন বিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার। সাথে যোগ হচ্ছে আমাদের পোশাক-শ্রমিকদের কর্মফল। অভাবনীয় সাফল্য হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে দেশে সামগ্রিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। মাথাপিছু প্রবৃদ্ধির হার যা সত্তরের দশকে ছিল মাত্র এক শতাংশ। তা আশির দশকে সাড়ে তিন শতাংশ, নব্বইয়ের দশকে সাড়ে চার শতাংশ, তার পরের দশকে তা বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে পাঁচ শতাংশে; বর্তমানে যা সাত শতাংশ। তা আরও সামনে এগুচ্ছে। এতে খুব শিগগিরই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার আশাই জোরালো হচ্ছে; ইতোমধ্যে নিন্ম মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়চিত্তে ঘোষণা করেছেন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে অবস্থান করবে। বিশ্বের নানান পরিসংখ্যানও বর্তমানের গতিধারা পর্যবেক্ষণ করে এই আশাবাদে সহমত পোষণ করেছেন। এমন একটি সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁরই সন্তান সে স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মন্তব্য বইতে এই কথাটিই উচ্চারণ করেছেন।

 

লেখকঃ কৃষি ও সমবায় সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ; সাবেক সংসদ সদস্য এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কম ।
 



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon