গুপ্তধন ৩ টন স্বর্ণ পেয়ে কারাগারে!


প্রকাশিত :১৭.১২.২০১৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ

1416411824হারানো গুপ্তধনের খোঁজে অনেকেই চষে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর নানা প্রান্তে। কেউ সেই গুপ্তধন পান, কেউ বা পান না। পেশায় ডুবুরি মার্কিন নাগরিক টমি জি. থম্পসনের নেশাও গুপ্তধনের খোঁজ করা। হোক তা জলের তলে কিংবা সমতলে।

সাউথ ক্যারোলাইনা সাগরে বহুদিন আগে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজের খোঁজে সমুদ্রের তলদেশ চষে বেড়িয়েছেন থম্পসন। এর খোঁজে চষে বেড়িয়েছেন অনেকেই। কিন্তু সেই হারানো গুপ্তধন পেয়েছেন থম্পসন। সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে একেবারে তিন টন সোনা তুলে আনেন তিনি। কিন্তু এই সোনাই যেন তাঁর কাল হলো। এই সোনার জন্য তাঁকে কারাগারে যেতে হলো। অভিযোগ, এই সোনা উদ্ধার অভিযানের পৃষ্ঠপোষকদের ঠকিয়ে সোনাগুলো একাই নিতে চেয়েছিলেন টমি। শুধু তাই নয়, সেই সোনাগুলো কোথায় আছে তা এখনো বলতে রাজি হননি তিনি।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনা উদ্ধার অভিযানের পৃষ্ঠপোষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওহাইও কারাগারে রাখা হয়েছে থম্পসনকে। যত দিন না সোনার খোঁজ দেবেন, তত দিন তাঁকে কারাগারে থাকতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮৫৭ সালে এক সামুদ্রিক ঝড়ে সাউথ ক্যারোলাইনা সাগরে ৪২৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি জাহাজ ডুবে যায়। ওই জাহাজে প্রায় তিন টন সোনা ছিল। এরপর ওই সোনা উদ্ধারের জন্য অনেকেই চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু কারও চেষ্টা সফল হয়নি। সবাই যখন হতাশ তখন গুপ্তধন খোঁজের নেশায় বিভোর থম্পসন নেমে পড়েন চেষ্টায়। ডুবে যাওয়া ওই জাহাজটির বিষয়ে তথ্য জোগাড় করতে কয়েক বছর সময় ব্যয় করেন তিনি। জাহাজের গতিপথ জেনে নেন। মোটামুটি গুপ্তধনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি খুঁজতে থাকেন পৃষ্ঠপোষক। কারণ, এই সোনা উদ্ধারে ব্যয় হবে অনেক অর্থ। খুঁজতে খুঁজতে এক এক করে ১৬০ জন পৃষ্ঠপোষক জোগাড় করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পৃষ্ঠপোষক বলেন, ‘থম্পসন বিষয়টি নিয়ে অনেক উদ্যোগী ছিলেন। তিনি মেধাবীও। ওই সোনা উদ্ধারের জন্য ‘নিমো’ নামের একটি ডুবুরি রোবটও তৈরি করেছিলেন। যেটি সমুদ্রের আট হাজার ফুট তলদেশে গিয়ে ওই সোনার খোঁজ করেছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৮৮ সালের দিকে সমুদ্রের নিচে ওই জাহাজের খোঁজ পান থম্পসন। সেখানেই মেলে ওই সোনা ও পুরোনো মুদ্রা। তবে তিনি ওই জাহাজে থাকা সব সোনা উদ্ধার করতে পারেননি। তবুও উদ্ধার হওয়া সোনাগুলোকেই বলা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে পাওয়া সবচেয়ে বেশি পরিমাণের ‘গুপ্তধন’।

২০০০ সালে থম্পসনের বিরুদ্ধে আদালতের যান ওই অভিযানের বড় দুই পৃষ্ঠপোষক। তাঁদের অভিযোগ, থম্পসন পৃষ্ঠপোষকদের কাউকে না জানিয়ে কিছু স্বর্ণ মুদ্রা বিক্রি করে দিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া পুরো সোনা একাই হাতিয়ে নিতে তিনি এই কাজ করেছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের বিচারক ২০১২ সালে থম্পসনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু থম্পসন আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর থেকে থম্পসন নিরুদ্দেশ হয়ে যান। শুরু হয় তাঁর খোঁজ। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে থম্পসনের প্রেমিকার খোঁজ পায় তদন্ত দল। পরে তাঁর মাধ্যমে জানুয়ারি মাসেই গ্রেপ্তার করা হয় থম্পসনকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই পৃষ্ঠপোষক বলেন, সোনা উদ্ধারে থম্পসনের কাছে বিনিয়োগ করার মুনাফা হিসেবে তিনি ১০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা। তিনি বলেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, থম্পসন শত শত সোনার মুদ্রা সরিয়ে ফেলেছেন। তাঁর সন্তানের ট্রাস্ট অ্যাকাউন্টেও রাখতে পারেন।

তবে গ্রেপ্তারের পর থম্পসনের কাছে আদালতে জানতে চাওয়া হয়, ওই সোনা কোথায়। এর কোনো উত্তর দিতে তিনি রাজি হননি। তাঁর আইনজীবী বলেছেন, তিনি কাকে সোনার মুদ্রা দিয়েছেন তা তিনি মনে করতে পারছেন না।

আদালত বলেছেন, টমি স্মৃতি বিভ্রমের ভান করতে পারেন। এ কারণে তাঁকে ওহাইও জেলে বন্দী করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো। এখনো টমি ওই সোনার খোঁজ জানাননি।

 

 

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক/ল’ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon