সাইবার অপরাধ বাড়ছে: সবচেয়ে ভুক্তভোগী নারীরা


প্রকাশিত :১৯.১২.২০১৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

vabiরীনা পারভীন মিমি

জীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে ফেলা কোনো বন্ধু বা পরিচিতজনকে খুঁজে দিতেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলোর যাত্রা শুরু। ইন্টারনেট যেমন মানুষের সামনে খুলে দিয়েছে ভার্চুয়াল দুনিয়া, তেমনি এই ইন্টারনেটের মাধ্যমেই সাইবার জগতে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে নানা অপরাধ। সাইবার-অপরাধের কারণে বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। দিন দিন  ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে সাইবার অপরাধীরা।

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে অপরাধ বেড়েই চলছে৷ এই অপরাধের বড় অংশই হচ্ছে কাউকে হেয় করে ছবি, মন্তব্য বা পোস্ট৷

বাংলাদেশে সচরাচর ঘটিত কিছু সাইবার ক্রাইম হল- ফেইসবুকে ফেইক একাউন্ট খোলা; কোনো সাইটের কন্টেন্ট এডিট করা; অনলাইনে প্রতারনা করা।

সাইবার ক্রাইমের কারণে সবচেয়ে ভুক্তভোগী নারীরা। অশালীন কথাবার্তা, অন্তরঙ্গ মুহূর্ত ও নগ্নছবি কিংবা ভিডিও আপলোড করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়।  সংবাদ সূত্রে জেনেছি, সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে একটি ‘সাইবার হেল্প ডেস্ক’ রয়েছে৷ এই হেল্প ডেস্কে গত দু’বছরে ১৭ হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে৷ অভিযোগকারীদের ৭০ ভাগই নারী৷ আরও সুর্দিষ্ট করে বললে, নারীদের অভিযোগের ৬০ ভাগেরও বেশি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুককে কেন্দ্র করে৷

টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিনর গ্রুপ বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোসহ বিভিন্ন এলাকার ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী এক হাজার ৮৯৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ইন্টারনেট বিষয়ক জ্ঞানের ওপর একটি জরিপ চালায়। শিক্ষার্থীদের অনলাইনে কার্যক্রম ও আচরণ বিষয়ক ‘নিরাপদ ইন্টারনেট’ শীর্ষক গবেষণায় জানা যায়, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হওয়া ৪৯ শতাংশই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। এখন প্রতি মিনিটে পাঁচজন করে নতুন ফেসবুক আইডি খুলছেন এই শিক্ষার্থীরা।

আইন ও প্রতিরোধ:

তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে,

যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছে করে ওয়েবসাইট বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে বা যার মাধ্যমে মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়া হয়, তাহলে তার এই কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কোন ব্যক্তি এ ধরনের অপরাধ করলে তিনি অনাধিক ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন এবং অনাধিক এককোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

 

 

 

লেখক: আইনজীবী এবং সহযোগী সম্পাদক- ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কম।



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon