যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর জিহ্বা কেটে দিয়েছে পাষণ্ড স্বামী


প্রকাশিত :২০.১২.২০১৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ

suma‘জিহ্বা নাড়াইতো পারের না। কুছতা খাইতোও পারের না (কিছু খেতেও পারছে না)। পিঠো ছুরির কয়েকটা ঘা থাকায় চিত অইয়া ঘুমাইতোও পারে না (পিঠে একাধিক ছুরিকাঘাত থাকায় চিত হয়ে ঘুমাতেও পারছে না।) ডাক্তর সাবে কইছইন হায়াত থাকলে বাঁচবো। আল্লাহ আল্লাহ করুকা (ডাক্তার বলেছেন, যদি হায়াত থাকে, তবে বাঁচবে)। আল্লাহ আল্লাহ করুন।’

সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে কথাগুলো বলেন স্বামীর নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার সুমা বেগমের ভাবি রুমা বেগম। সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার পশ্চিম দর্শা গ্রামের মৃত আবদুল আলীর মেয়ে সুমা বেগম গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী বেলাল আহমদের নির্মমতার শিকার হয়ে বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালের ৪র্থ তলার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাতরাচ্ছেন।

সুমার জিহ্বা দ্বিখণ্ডিত করে দেয়া ছাড়াও তার পায়ের রগ কেটে দিয়েছে স্বামী বেলাল। এছাড়া ধারালো চাকু দিয়ে পিঠ ও কোমরে কুপিয়েছে।

সুমার ভাবি রুমা বেগম যখন এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন তখন সুমা বেগমের চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। ভাবি রুমা বেগম বলেন, তার অবস্থা এখনো খারাপ। মুখ দিয়ে কথা বলা তো দূরের থাক, কিছু খেতেই পারছে না। পাইপ দিয়ে দু-একটা ফোঁটা করে পানি ও জুস ওর মুখে দেওয়া হচ্ছে।

সুমার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট শহরতলির জালালাবাদ থানার পশ্চিম দর্শা গ্রামের মৃত আবদুল আলীর মেয়ে সুমার ২০০৮ সালে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী মোগলাবাজার খানুয়া গ্রামের মৃত ইছমত আলীর ছেলে বেলাল আহমদের সঙ্গে। বিয়ের পর কিছুদিন সুমা স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করেন। কিন্তু বেলালের সঙ্গে তার মায়ের বিরোধের কারণে সুমা তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। প্রায় তিন বছর আগে সুমাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন বেলাল।

গত কয়েক মাস ধরে বেলাল ৫ লাখ টাকা সুমার কাছে যৌতুক দাবিতে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ধারকর্জ করে বেলালকে ৩ লাখ টাকা দেন সুমা। কিন্তু বাকি ২ লাখ টাকার জন্য সুমাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল বেলাল।

suma-2এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে দুই সঙ্গীসহ সুমাদের বাড়িতে যান বেলাল। সুমাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে লাকড়ি রাখার ঘরে ঢুকিয়ে সঙ্গীদের সহযোগিতায় সুমার জিহ্বা কেটে ফেলেন বেলাল আহমদ। সুমার বা পায়ের রগ কেটে দেয়া ছাড়াও চাকু দিয়ে দু’পাশের ঘুচি, কোমর ও পিঠে আঘাত করেন।

এসময় সুমার আর্তনাদে ঘর থেকে দৌড়ে আসেন তার মা আয়না বিবি। তাকে দেখেই বেলাল ও অপর দুই যুবক পালিয়ে যান। গুরুতর আহত সুমাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে নেয়ার ২৪ ঘণ্টা পর সুমার জ্ঞান ফিরেছে জানিয়ে রুমা বেগম বলেন, এ পর্যন্ত তাকে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো সুমার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।

এ ঘটনায় গত শুক্রবার তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে সুমার স্বামী বেলাল আহমদকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরদিনই পুলিশ বেলালের মা জয়বুন বেগমকে আটক করে। এরপর গত রোববার ভোরে বেলালের মামাতো ভাই ফয়েজ মিয়া এবং ভাগনে রেদওয়ান আহমদকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে জালালাবাদ থানা পুলিশ। তবে এখনো বেলালকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

যে কোনো সময় বেলাল আটক হবে জানিয়ে মহানগরীর জালালাবাদ থানা পুলিশের ওসি আখতার হোসেন বলেন, মামলার ছয় আসামির তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেলালসহ বাকিদের ধরতে অন্তত ৫টি অভিযান চালানো হয়েছে।

 

 

 

সিলেট প্রতিনিধি/ল’ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon