বাংলাদেশের নবম প্রধান বিচারপতি


প্রকাশিত :২২.১২.২০১৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ

chief-justice-biography-9বিচারপতি মোস্তফা কামাল ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আইনবিদ এবং নবম প্রধান বিচারপতি।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি
বিচারপতি মোস্তফা ১৯৩৫ সালে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেন৷ তিনি প্রখ্যাত পল্লীগীতি গায়ক আব্বাস উদ্দীনের ছেলে৷তাঁর বোন ফেরদৌসী রহমান বাংলাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী। তার আরেক ভাই মোস্তফা জামান আব্বাসীও একজন লোকসঙ্গীতশিল্পী। তার পরিবার বঙ্গের বিখ্যাত সঙ্গীত পরিবার হওয়ায় মোস্তফা কামাল এক সাংস্কৃতিক পরিবেশের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছেন।

শিক্ষাজীবন
তিনি ছাত্র জীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন৷ তিনি ১৯৪৮ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৭ম স্থান অধিকার করেন এবং জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯৫০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৫ম স্থান অধিকার করেন৷ পরবর্তীকালে ১৯৫৩ ও ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকার করে বি. এ. (অনার্স) ও এম. এ. ডিগ্রী অর্জন করেন৷ এছাড়া তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকস্ এন্ড পলিটিকাল সাইন্স থেকে পলিটিকাল ইকোনোমিকস্ বিষয়ে এম. এস. সি. ডিগ্রী অর্জন করেন এবং ১৯৫৯ সালে লিংকনস্‌-ইন থেকে বার আ্যট ল’ ডিগ্রী লাভ করেন৷

কর্মজীবন
বার অ্যাট ল শেষ করে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি দেশের অ্যাডভোকেট জেনারেল হন। এরপর ১৯৭৯ সালে হাইকোর্টে বিচারপতি হন। ১৯৮৯ সালে আপিল বিভাগের বিচারপতি হন। প্রধান বিচাপতি হন ১৯৯৯ সালের জুনে। অবসরে যান ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি। তবে দীর্ঘ বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনকালে তিনি মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেই যে এই পদে আসীন হয়েছিলেন, সেটা স্বীকৃত।

দায়িত্ব পালনকালে নানান কারণে বিশেষ করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় ও অসহিষ্ণুতার কারণেই বিচার বিভাগকে বিভিন্ন ধরনের অযাচিত চাপের মধ্যে পড়তে হয়। সেক্ষেত্রে কিছুসংখ্যক বিচারপতি বিচার বিভাগের জন্য আশার পথ দেখিয়ে থাকেন। বিচারপতি মোস্তফা কামাল তাদেরই একজন। তিনি তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড এবং বিচারপতি হিসেবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবেই পালন করেছেন।

এছাড়া তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যানেরও দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

একজন আইনজ্ঞ ও বিচারপতি হিসেবে মোস্তফা কামাল মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন বলেই দেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পদটিও অলংকৃত করতে পেরেছেন। যে সীমিতসংখ্যক বিচারপতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য কাজ করেছেন, বিচারপতি মোস্তফা কামাল তাদের মধ্যে অন্যতম।

রচনাবলী
বিচারপতি মোস্তফা কামাল যে কয়েকটি বই লিখেছেন তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ সংকলন ‘আমার কিছু বলা।’

মৃত্যু
বিচারপতি মোস্তফা কামাল ৫ জানুয়ারি, ২০১৫ সালে ভোর ৩টার দিকে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

 
ল’ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম গুণীজন ডেস্ক



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon