আর্থিক স্বচ্ছলতা নারীকে অনেকাংশ মুক্তি দেয়


প্রকাশিত :২৬.১২.২০১৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

adv-nahrin-taniaনাহরিন তানিয়া
বিংশ শতাব্দীতে যখন বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে বিস্ময়কর হারে সেই সময় নারীদের নির্যাতন দেখে কেবল মনে হচ্ছে অর্ধেক নারী সমাজ হয়েও আজও এসিডে দগ্ধ হতে হয় নারীকে, আজও ইচ্ছার বিরুদ্ধে মন না দিলে প্রকাশ্য দিবালোকে জীবন নিতে চায় সেই পুরুষসমাজ। আজও আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিচ্ছে অনেক অভিমান বুকে নিয়ে, আজও কামলালসা চরিতার্থ করতে সেই সব পশুরা এতোটুকু লজ্জা পাচ্ছে না নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে, আজও মুখ বুজে সংসার করতে হচ্ছে সমাজের ভয়ে। যৌতুকের দায়ে আজও দরিদ্র পিতার সারাজীবনের সব অর্থ দিয়েও পিতা নিশ্চিত হতে পারছে না তার মেয়ে কি সংসার করতে পারবে? অনেকে এর সমাধান করতে গিয়ে উল্টো নারীদের করেছে নানাভাবে বিতর্কিত। নারীদের নিয়ে কথা বলা খুব সহজ। আমাদের সমাজ ব্যাবস্থাই এমন। সদা মাথা মৃয়মান নারীদের যেন প্রতিবাদের স্বরও রুদ্ধ হয়ে যায় অনেক সময়। চারদেয়ালের বাইরে তাদের তাঁকাতেও যেন মানা। জন্মের পর থেকে কোনটাই যে তার নিজের বাড়ি নয়। সব বাড়িতেই সে যাযাবর। সারাজীবন সে শুধু ঠিকানাই খুঁজে যায়। এ যেন সাপ লুডু খেলা সদা এক অদৃশ্য ভীতি দুমরে মুচকে খায় তাদের। এই বুঝি ঠিকানা বিহীন হতে হবে তাকে। নারীদের অধিকারের কথা বললে ইদানিং নারীবাদী একটা শব্দ ব্যবহার করা হয়। আমি যদি বলি যারা নারীদের কথা বলে তারা মানুষবাদী।মনে হয় অনেকের মেনে নিতে কস্ট হবে। বেগম রোকেয়া নারীদের বের করেছে ঠিকই কিন্তু অনেক নারীরা আজও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। এজন্য তাদের দরকার আর্থিক স্বচ্ছলতা। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল থাকলে একজন নারীর শক্তি দ্বিগুণ হয়ে যায়। তখন সে নিজেকে নিয়ে লড়তে পারে। সত্যকে সত্য ও মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে পারে। এ জন্য প্রতিটি নারীর উচিত আগে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া। কারো কাছে হাত যেন না পাততে হয়। যেহেতু ওতো মসৃন নয় তাদের পথ সেহেতু বসে না থেকে নিজেকে তৈরি করতে হবে। তবেই লড়া যায় এই ধরায়।মেয়েরা যেমন ঘরের ভেতর পরিবার গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে আমার বিশ্বাস বাইরে আরো ভালভাবে তাদের দ্বায়িত্ব পালন করে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।

 

 
লেখক: আইনজীবী ও সংস্কৃতি কর্মী



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon