বছরজুড়ে ধর্ষণের শিকার ৭২৪ নারী


প্রকাশিত :০১.০১.২০১৭, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ

2016-copy২০১৬ সালে নারী নির্যাতনের সংখ্যাগত দিকের পাশাপাশি এর মাত্রা ও ধরনে ছিল ভয়াবহতা। এ বছর নারী উত্ত্যক্ত, যৌন হয়রানি, নির্যাতন, হত্যা ও সালিসের মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় শিশু নির্যাতনের মাত্রা ও ধরনে ভয়াবহতাও অব্যাহত ছিল।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৬ ও আসকের পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী নির্যাতন বা নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ থাকার পরও কমছে না নারী নির্যাতন। নির্যাতনের অনেক ঘটনায় মামলা হলেও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকে আপস-মীমাংসা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ সালে ৭২৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। এর মধ্যে ধর্ষণের পর ৩৭ জনকে হত্যা করা হয় এবং ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেন ৮ জন। সালিস ও ফতোয়ার মাধ্যমে ১২ জন নারী নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে গ্রামছাড়া, সমাজচ্যুত বা একঘরে করা, মাথার চুল কেটে দেওয়াসহ শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে মাত্র তিনটি। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৩৯ জন নারী, মামলা হয়েছে ৯৫টি। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৯৪ জন, যার মধ্যে থানায় মামলা হয়েছে ১৮৭টি। নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় ৬৪ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৩২টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে বছরটিতে অ্যাসিড–সন্ত্রাসের ঘটনা কম ছিল, অ্যাসিড নিক্ষেপের শিকার হন ৩৪ নারী, এ ঘটনায় একজন মারা যান। এর মধ্যে মাত্র ১২টি ঘটনার ক্ষেত্রে মামলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে যৌন নির্যাতন ও বখাটের উত্ত্যক্তের শিকার হন ২৪৪ জন। এর মধ্যে ৬ জন নারী আত্মহত্যা করেন। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় খুন হন ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ। বখাটেদের প্রতিবাদ করায় লাঞ্ছিত হয়েছেন ১৩৮ জন। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে পাঁচ ছাত্রীর।

প্রতিবেদনে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের খসড়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশের নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিন্দা ও প্রতিবাদের মুখেও ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর রাখা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে ‘সর্বোত্তম স্বার্থে’ আদালতের নির্দেশে এবং মা-বাবার সম্মতিতে ১৮ বছরের নিচে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আসকের তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের হিসাব উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বছরটিতে হত্যার শিকার হয় ৪১৫ শিশু। আত্মহত্যা করে ২২ শিশু এবং রহস্যজনক মৃত্যু হয় ২৮ শিশুর। এসব ঘটনায় ১৭৬টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া শিশুর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, উত্ত্যক্তকরণসহ ১ হাজার ৩৪টি ঘটনা ঘটে এবং মামলা হয় ২৬০টি।

 

 
নগর প্রতিনিধি/ল’ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon