বাংলাদেশে লিগ্যাল রিচার্সের ডাটাবেজ এখনো দেখিনি: শামিমা রহমান


প্রকাশিত :০৩.০১.২০১৭, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

15871327_356777418036786_1608254471_nশামিমা রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ সালে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করেন। কিছুদিন জুনিয়র আইনজীবী হিসেবে কাজ করে ঢাকা কোর্টে। তারপর আমেরিকা গিয়ে ‘কম্পারেটিভ জুরিস্প্রুডেন্সে’ মাস্টার্স করেন। ঐ দেশে কয়েক বছর আইন পেশায় ছিলেন। এরপর গবেষণা বিশেষজ্ঞ হিসেবে ফেডারেল সরকারের চাকরীতে প্রবেশ করেন। বর্তমানে ‘গ্লোবাল লিগ্যাল রিচার্স ডিরেক্টরেট’ এ স্পেশালিষ্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ডেভিড এ ক্লার্ক স্কুল অব ল’তে অধ্যাপনা করছেন।

স্বামী ড. মোস্তফা কামাল। ফেডারেল সরকারের ট্রেজারি বিভাগে চাকরি করছেন। বাবা শেখ আতিয়ার রহমান জেলা ও সেশন জজ ছিলেন। গ্রামের বাড়ি খুলনা খালিশপুর।

সম্প্রতি তিনি দেশে এলে তাঁর সাথে যোগাযোগ করেন ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কম সম্পাদক ড. বদরুল হাসান কচি। দুই দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার চুম্বক অংশটি তুলে ধরা হয়েছে ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কমের পাঠকদের জন্য।

আপনি যেহেতু আমেরিকাতে অধ্যাপনা করছেন এবং আপনি এদেশেও আইনে পড়াশুনা করেছেন; তাই আমাদের দেশের আইন শিক্ষা এবং ঐ দেশের আইন শিক্ষায় মৌলিক পার্থক্য কি দেখতে পান?

শামিমা রহমান: আমেরিকাতে ফেডারেল ল এবং স্টেট ল পুরোপুরি ভিন্ন। যদি কোন স্টেট ইস্যু হয় সেগুলো সাধারনত ফেডারেল ল এপ্লিকেবল হয়না। যেমন- পারিবারিক আইন, সম্পত্তি আইন, শিক্ষা আইন, আয়কর আইন ইত্যাদি সবই স্টেট জুরিসডিকশন। তাই স্টেট কোর্ট অব আপিল থেকে না বের হওয়া পর্যন্ত ফেডারেল ল অ্যাপ্লাই করেনা। আবার কিছু কিছু আইন আছে যেমন- ইমিগ্রেশন, ফেডারেল ট্যাক্স ল, ব্যাংকরাপ্সি ল, দুই স্টেট কনপ্লিক্ট বিষয় ইত্যাদি ক্ষেত্রে অরিজিনাল জুরিসডিকশন এপ্লিকেবল।

আমাদের আইনের সাথে ঐ দেশের আইনগুলোতে বেশ পার্থক্য আছে; যেমন- সন্তান থাকুক না থাকুক যদি কারও স্বামী মারা যায় সেক্ষেত্রে ১০০% সম্পত্তি স্ত্রীর পাবে এবং স্ত্রী মারা গেলে সন্তানদের কাছে সম্পত্তি বণ্টন হবে। আবার দেখা গেছে নিউইয়র্কে পেশাজীবী স্ত্রীর ক্ষেত্রে, ধরুন, একজন স্ত্রী বিয়ের পর আইন ডিগ্রী ও ব্যারিস্টার হয়েছে সেক্ষেত্রে স্ত্রী বিয়ের পর যা আয় করবেন তার অর্ধেক মালিকানা হবে স্বামীর। তবে যার যার ঋণ তার তার।

অর্থাৎ বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী যা আয় করবে তার মালিকানা সমান সমান। তবে এক্ষেত্রে একটি সুযোগ আছে, কোন দম্পত্তির মধ্যে যদি তালাক হয় সেক্ষেত্রে কি অর্থ-সম্পদ পাবে তার একটি চুক্তি বিয়ের আগেই করে নিতে পারে।

বিশেষ করে পারসোন্যাল ল গুলোতে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে।

আবার আমাদের দেশে পরীক্ষার উত্তরপত্রে একটি প্রশ্নের উত্তরে বিস্তারিত অনেক কিছু লিখতে হয়, ঐদেশে খুব সংক্ষেপে মূল কথা উল্লেখ করেই উত্তর শেষ করতে হয়।

15871011_1567735153242614_886621658_n

বিচার ব্যবস্থায় কোন বিষয়টি গ্যাপ আছে মনে হচ্ছে?

শামিমা রহমান: আমি ল লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে যখন দেখছি যে বিভিন্ন দেশের সাবস্ক্রিশান ডাটাবেজ আছে, অথচ বাংলাদেশে লিগ্যাল রিচার্সের ডাটাবেজ আমি এখনো দেখি নাই। যেমন-LexisNexis কিংবা West Law তে দেখা যায় কেস ট্রায়াল কোর্ট থেকে আরম্ভ করে কোর্ট অব আপিলে কিভাবে যাচ্ছে।

যেহেতু আমেরিকা কমন ল কান্ট্রি; লোয়ার কোর্ট ডিসিশনটা ওভাররুল্ড হয়েছে কি না হয়েছে সেটা এক মিনিটের মধ্যে রিচার্স হয়ে যাচ্ছে। যেমন ট্রায়াল কোর্টে যদি একটা কেস ডিসাইডেড হয়, তিন বছর পরে ইউ মে নট বি এবল টু ইউস দ্যাট ডিসিশন ইফ দিস সেইম লোয়ার কোর্ট অর হায়ার কোর্ট ওভাররুল্ড দ্যাট। আর এই রিচার্সটা যদি বই ব্যবহার করে করা হয় তাহলে মিনিমাম এক/ দুই সপ্তাহ লাগতে পারে।

15878665_1567733983242731_976111139_n

 ডাটাবেজ কিভাবে কাজ করে?

শামিমা রহমান: ডাটাবেজে বিভিন্ন ট্যাব আছে যেমন রেড ট্যাব, গ্রিন ট্যাব অ্যান্ড ইয়োলো ট্যাব। ট্যাব গুলো কি করে, যেমন একটা কেসে যদি টেন ইস্যুজ ডিসাইডেড হয় তার মধ্যে হায়ার কোর্ট ঐ আউট অব টেন অ্যাফার্ম করছে আটটা অ্যান্ড ওভাররুল্ড করছে দুইটা, ইন দ্যাট কেস ইট উইল বি ইয়োলো ট্যাব আর যদি হায়ার কোর্ট সবগুলো ইস্যুজ অ্যাফার্ম করে তাহলে ইট উইল বি গ্রিন ট্যাব; যদি পুরো কেসটা ওভাররুল্ড করে দেয়া হয় তাহলে হবে রেড ট্যাব। সময় বাঁচানোর জন্য ইট উইল বি হিউজ থিং অর এরিয়া টু ডেভেলোপ ফর বাংলাদেশ এবং এগুলো কিন্তু সম্পূর্ণ প্রাইভেটাইজড। আমাদের টিচিং এর একটা পোরশন-ই ছিল হ্যান্ডস অন ট্রেনিং অন দোস ডিজিটাল রিচার্স।

প্রায় ২৫ বছর পর দেশে এলেন, মৌলিক কি পরিবর্তন চোখে পড়ছে, সেই সাথে স্বদেশে ফেরার অনুভূতি জানতে চাই।

শামিমা রহমান: আমি এতদিন বিদেশে থেকে ভাবছিলাম বাংলাদেশে গিয়ে বোধহয় থাকা যাবেনা। আমি খুব অনিরাপদ বোধ করছিলাম, এমনকি এই বাসাটি আমার ভাইয়ের বাসা, এখানে ওরা মাঝে মাঝে এসে থাকে; ভাবছিলাম এখানে আমি একা থাকতে পারবোনা; কারণ এতদিন বিদেশে থেকে দেশের গণমাধ্যমগুলোতে কেবল খুন, জঙ্গি এসব সংবাদ দেখতাম। তাই খুব ভীত ছিলাম। অথচ এখানে আসার পর দেখলাম এক ট্র্যাফিক জ্যাম ছাড়া আমার মনে হয়না আমি কোন সমস্যা দেখেছি। সত্যি কথা হচ্ছে, আমরা যখন এখানে ছিলাম সেই সময়ের চেয়ে বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তার পরিবেশটি অনেক অনেক উন্নত হয়েছে। মানুষের মানসিকতা, রুচি কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেশ পরিবর্তন এসেছে। এই দিয়ে বুঝা যায়, মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থায় বেশ পরিবর্তন এসেছে।

সময় দেয়ায় ধন্যবাদ আপা।

শামিমা রহমান: ল’ইয়ার্স ক্লাবের পাঠকদের জন্য রইলো আমার শুভেচ্ছা।

 



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon