ভোলায় বাল্যবিয়ে থেকে কিশোরীদের রক্ষায় কিশোরীরা


প্রকাশিত :০৪.০১.২০১৭, ৪:১৩ অপরাহ্ণ

child-marriageজেএসসি পরীক্ষার্থী লিজা আক্তার। তার স্বপ্ন উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে চিকিৎসক হবে। চিকিৎসা করবে সাধারণ রোগীদের। তাই পড়ালেখায় বেশ মনযোগী সে। কিন্তু চিকিৎসক হওয়া তো দূরের কথা তার জেএসসি পরীক্ষাই বন্ধের উপক্রম।

পরিবারের লোকজন তার বিয়ের আয়োজন করে। তখন সে কী করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। ঠিক সেই মুহুর্তেই কিশোরী ক্লাবের সহযোগিতা নেয় লিজা। এরপর বাল্যবিয়ে বন্ধ হয় তার। আবার পড়ালেখা শুরু করে সে।

বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে এভাবেই নিজেকে জয় করে লিজা। শুধু লিজা নয়, তার মত বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় জান্নাত, সুমাইয়া, দিনা, রাবেয়া ও সুরাইয়ার মত দেড় শতাধিক কিশোরী। ফিরে পায় পড়াশুনা আর স্বপ্ন গড়ার সুযোগ।

কিশোরী ক্লাব থেকে পরামর্শ নিয়ে এসব কিশোরীরা নিজেদের সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যদেরও সুরক্ষার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে। এতে করে কমে আসছে বাল্যবিয়ে।

দ্বীপজেলা ভোলায় বাল্যবিয়ে ও সুরক্ষায় কিশোরীদের নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) কোস্ট ট্রাস্ট। এ সংস্থার ইন্ডিং চাইল্ড ম্যারেজ (ইসিএম) প্রকল্প ভাগ্য বদল করছে কিশোরীদের।

বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষায় কিশোরীদের আলোচনাজেলা সদর, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার ৪৪টি ইউনিয়নে এক বছর ধরে বাল্যবিয়ে বন্ধসহ শিশু সুরক্ষার ১১টি বিষয় নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। প্রত্যন্ত এলাকার গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর প্রভাব এবং ঝুঁকি থেকে রক্ষার উপায় হিসেবে তারা সচেতন করছে কিশোরীদের। তাই ‘শিশু বিবাহকে না’ বলে নিজেরা যেমনি পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে ঠিক তেমনি অন্যদেরও রক্ষা করছে।

সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছে, কিশোরী ক্লাবের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে গ্রামে উঠান বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বাল্যবিয়ে, হাতধোয়া, নিউমোনিয়া জন্ম নিবন্ধন, শিশু শ্রমসহ ১১টি বিষয়ে সচেতন করে তোলা হচ্ছে শিশু-কিশোরীদের। তবে সবচেয়ে আলোচিত হলো বাল্যবিয়ে। বাল্যবিয়ের সংবাদ পেলেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত ওই বিয়ে বন্ধ করে দেন কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা।

ভোলা সদরের কাচিয়া ইউনিয়নের দোয়েল কিশোরী ক্লাবের হয়ে কাজ করছে মিতু, লিমা, নিপা, রুমা, তানিয়া সুমাইয়া, রাবেয়া ও সুরমাসহ ৩০ কিশোরী। এ পর্যন্ত তাদের প্রচেষ্টায় ৮টি বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে।

বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষায় কিশোরীদের আলোচনাএ টিমের টিম লিডার মিতু বলে, আমি নিজে চারটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছি, আর কেউ যেন বাল্যবিয়ের কবলে না পড়ে সেজন্য সবাইকে বুঝিয়ে থাকি।

সমন্বয়কারী রেশমা আক্তার বলেন, আমাদের কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা কাচিয়া ও বাপ্তা ইউনিয়নে ১৪টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে। আমরা যেভাবে মানুষকে সচেতন করে চলেছি এতে ভবিষ্যতে বাল্যবিয়ের প্রবণতা আরো কমে যাবে।

শিবপুর ও ধনিয়া ইউনিয়নের সমন্বয়কারী আদিল হোসেন তপু বলেন, নানা কারণে গ্রামে গ্রামে বাল্যবিয়ের প্রবণতা ছিলো, কিন্তু এখন সেই প্রবণতা কমে গেছে। কিশোরী ক্লাবের সাহসি কিশোরী সদস্যদের প্রচেষ্টায় বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে কোমলমতী শিক্ষার্থীরা।

কোস্ট ট্রাস্টের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রকল্প সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান বলেন, বছরজুড়ে জেলায় ৩ শতাধিক বাল্যবিয়ের আয়োজন হয়, যার মধ্যে কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা ১৫৭টি বিয়ে বন্ধ করে। এর মধ্যে ভোলা সদরে ৪১টি, লালমোহন উপজেলায় ৪৯ এবং চরফ্যাশন উপজেলায় ৫৭। এখন কিশোরী ক্লাবের কিশোরীরাই রক্ষা করছে কিশোরীদের।

 

 
ভোলায় প্রতিনিধি/ল’ইয়ার্সক্লাববাংলাদেশ.কম



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon