গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির আইনি অধিকার


প্রকাশিত :০৭.০১.২০১৭, ১:৫০ অপরাহ্ণ

adv-soyeb-rahmanসোয়েব রহমান

ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা ব্যবসায়িক, সামাজিক সহিংসতার পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকান্ড সহ নানা কারনে গ্রেফতার শব্দটা আমাদের জীবনে প্রতিদিনকার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। আত্বীয়- স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী- পরিচিতজন কিংবা আপনি নিজে গ্রেফতার হতে পারেন যে কোন সময়। একজন ব্যক্তিকে যে কারণেই গ্রেফতার করা হউক না কেন সে আইনগতভাবেই অনেক অধিকার পাবেন।

কিন্তু বাস্তবতা হল আইন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ ছাড়া অনেকই এই অধিকার সমূহ সম্পর্কে তেমন কিছু সঠিকভাবে জানেন না বললেই চলে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ যাদের আইন সম্পর্কিত ধারণা কম। যার ফলে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন এবং বিভিন্ন ঝক্কিঝামেলা, হয়রানি, বিড়ম্বনা নির্যাতন, নিপীড়ন, আত্যাচার, জুলুমের স্বীকার হন। আশা করি এই আলোচনাটি নানানরকম ধোয়াঁশা কাটিয়ে অন্তত কিছুটা হলেও সেইসব অধিকার সম্পর্কে জানতে পারবেন এখানে শুধুমাত্র গ্রেফতারের পর গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির আইনি অধিকার সমূহ নিয়ে আলোচনা করব।

আমাদের দেশের বিদ্যমান আইন সমূহে গ্রেফতার সংক্রান্ত বিধানগুলো বিশ্লেষন করলে দেখতে পায় যে, কোন ব্যক্তিকে তার স্বাধীনভাবে চলাফেরার ক্ষমতাসহ কতিপয় অধিকার হরণ করে আটক করার মাধ্যমে আইনের হেফাজতে বা আওতায় নেওয়াকে গ্রেফতার বলে। এই আটক বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন- শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কায়, কৃত অপরাধের শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে অথবা নিরাপত্তা দানের উদ্দেশ্যে। একজন ব্যক্তিকে যে কারণেই গ্রেফতার করা হউক না কেন গ্রেফতারের পর গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে কোনভাবেই নিম্মোক্ত অধিকারসমূহ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এইগুলো আইনগত ভাবেই তার প্রাপ্য। দেশের পবিত্র সংবিধান, ফৌজদারি কার্যবিধি, পিআরবি, সাক্ষ্য আইন, দন্ডবিধিসহ বেশ কিছু আইনে এই অধিকারসমূহ সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে।

আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার:
আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহার লাভ যে কোন স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষত আইনানুযায়ী ছাড়া এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না যাতে কোন ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।[সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৩১]

জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ :
আইনানুযায়ী ছাড়া জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হতে কোন ব্যক্তিকে বঞ্চিত করা যাবে না।[সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৩২]

বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ:
অপরাধের দায়মুক্ত কার্য সংগঠনকালে বলবৎ ছিল, এমন আইন ভঙ্গ করার অপরাধ ছাড়া কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না এবং অপরাধ সংঘটনকালে বলবৎ সেই আইনবলে দন্ড দেয়া যেত তাকে তার অধিক বা তা থেকে ভিন্ন দন্ড দেয়া যাবে না। এক অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে একাধিক বার ফৌজদারীতে সোপর্দ ও দন্ডিত করা যাবে না। ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার লাভের অধিকারী হবে। কোন অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না। কোন ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেয়া যাবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনার দন্ড দেয়া যাবে না কিংবা কারো সাথে অনুরূপ ব্যবহার করা যাবে না। [সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ]

গ্রেফতারের আগে ও পরে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে তার অপরাধ সম্পর্কে কারণ অবহিত করতে হবে:

গ্রেফতারকৃত কোন ব্যক্তির যথাসম্ভব শিগগির গ্রেফতারের কারণ জ্ঞাপন না করে প্রহরায় আটক রাখা যাবে না এবং উক্ত ব্যক্তিকে তার মনোনীত আইনজীবীর সাথে পরামর্শের ও তাকে দিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুবিধা হতে বঞ্চিত করা যাবে না। গ্রেফতারকৃত ও প্রহরায় আটক প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিকটতম ম্যাজিষ্ট্রেট-এর সম্মুখে গ্রেফতারের চবিবশ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের স্থান হতে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আনয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ব্যতিরেকে হাজির করা হবে এবং ম্যাজিষ্ট্রেটের আদেশ ছাড়া তাকে এর অতিরিক্ত সময় প্রহরায় আটক রাখা যাবে না। [অনুচ্ছেদ-৩৩ সংবিধান, ধারাঃ ৬১ ফৌঃকাঃবিঃ ]

১। গ্রেফতারের পূর্বে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে পুলিশ নিজের পরিচয় দিবেন এবং কারণ দর্শাবেন অর্থাৎ গ্রেফতারের সময় ধৃত ব্যক্তির এ অধিকার আছে যে, কোন কারণে তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং তার গ্রেফতারের জন্য কোনো ওয়ারেন্ট আছে কিনা প্রভৃতি। তার মানে এই নয় যে, গ্রেফতার করতে হলে অবশ্যই ওয়ারেন্ট লাগবে। কারন ফৌজদারি কার্যবিধি বলা হয়েছে যে, পুলিশের যুক্তিসংগত সন্দেহ হলে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করা যাবে। [ধারা- ৫৪, ৫৬, ৮০ ফৌঃকাঃবিঃ]

– গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তি যদি বাসস্থান বা কর্মস্থল ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে তাহলে থানায় আনার পরবর্তী ১ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী আত্মীয় ও বন্ধুদেরকে টেলিফোনে বা বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে গ্রেফতার সম্পর্কে জানাতে হবে।

– পুলিশ অফিসার কোনো ব্যক্তির গ্রেফতার কার্যকর করার জন্য গ্রেফতার হওয়ার পরপরই একটি মেমো তৈরী করা এবং উক্ত মেমো তে গ্রেফতারের সময় তারিখ এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর গ্রহন করা।

– যার সংবাদ বা অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে তার নাম ঠিকানা কেস ডাইরিতে উল্লেখ করা।

২। জামিনযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন পাওয়া আসামীর অপ্রতিরোধ্য অধিকার। [ধারা-৪৯৬ ফৌঃকাঃবিঃ, এবং ১৫ ডিএলআর (এসসি) ৪২৯]

৩। জামিনযোগ্য অপরাধে শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি শাস্তির বিরুদ্ধে আপীল করলে জামিন অধিকার হিসেবে পাওয়ার যোগ্য। [২০ ডিএলআর ৭ ডব্লিউপি, হাটা বনাম রাষ্ট্র]

৪। আসামী ১৬ বছরের কম বয়স্ক বা মহিলা বা পীড়িত বা অক্ষম হলে জামিন অযোগ্য অপরাধে বিশেষ কিছু শর্তে আদালত জামিন দিতে পারেন। [ধারা- ৪৯৭(১) ফৌঃকাঃবিঃ]

৫। যদি কোনো কিশোর আসামীকে কোনো জামিনঅযোগ্য মামলায় গ্রেফতার করা হয় তাহলে থানার ওসি তাকে জামিন দিতে পারেন। [ধারা- ৭৪,৪৮ শিশু আইন, ১৯৭৪]

৬। গ্রেফতারকৃত কোনো আসামীকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তকালীন সময়ে কোনো প্রকার খারাপ আচরণ, অপব্যবহার বা শারীরিক/মানসিক নির্যাতন থেকে মুক্ত রাখা। [অনুঃ ৩৫(৫) সংবিধান]

৭। অপ্রয়োজনীয় এবং খামখেয়ালীপনা বশতঃ গ্রেফতার পরিহার করতে হবে। [রুল- ৩১৭ পি আর বি]

৮। কোনো অবস্থায় মহিলাদের হাতকড়া লাগানো যাবে না। বয়স বা দুর্বলতার কারণে আসামীদের ক্ষেত্রেও হাতকড়া লাগানো উচিত হবে না। ফৌঃকাঃবিঃ ১৭১ ধারা অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত সাক্ষীকে কোনো অবস্থায় হাতকড়া পরানো যাবে না। জামিনযোগ্য মামলার আসামীর ক্ষেত্রে হাতকড়া ব্যবহার করা যাবে না। তবে উক্ত আসামী আক্রমণাত্মক হলে থানার ভারপ্রাপ্ত আদেশ মোতাবেক হাতকড়া পরানো যেতে পারে।

জামিনঅযোগ্য মামলার আসামীর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হাতকড়ির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অফিসারের এখতিয়ারের উপর ছেড়ে দিতে হবে।

দুইজন বন্দির ক্ষেত্রে হাতকড়া লাগাবার প্রয়োজন হলে বন্দি দুইজনের একত্রে হাতকড়া লাগাতে হবে- একজনের ডান হাতের সংঙ্গে অন্যজনের বাম হাত। কোনো অবস্থায় দুইজনের বেশি বন্দীকে একত্রে হাতকড়া লাগানো যাবে না।[রুল- ৩৩০ (ক), (খ) পি আর বি]

৯। গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তি যদি একজন মহিলা হয় তাহলে অবশ্যই যথেষ্ট শোভনতার সাথে অপর কোন একজন মহিলা দ্বারা তার দেহ তল্লাশী করতে হবে।[ধারা- ৫২, ১০২(৩) ফৌঃকাঃবিঃ]

১০। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি যদি একজন মহিলা হয় তাহলে অবশ্যই থানায় আলাদা লক আপে রাখতে হবে। যেখানে পুরুষ হাজত রয়েছে সেখানে কোনোভাবেই মহিলা হাজতিদের রাখা যাবে না।

– সূর্যাস্তের পরে এবং সূর্যোদয়ের আগে কোনও মহিলাকে গ্রেফতার করা যায় না।

১১। গ্রেফতারকৃত আসামির দেহ তল্লাসির পর পরিধেয় বস্ত্র ব্যতীত প্রাপ্ত ব্যক্তিগত দ্রব্যাদি সমুহ জিডিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং এর এক কপি আসামিকে এবং এক কপি আদালতের মালখানায় রেজিষ্টারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চার্জশীটের সাথে কোর্টে দিতে হবে। [রুল- ৩২২ পি আর বি]

– গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির দেহ তল্লাসির পর তার পরিধেয় বস্ত্র ব্যতীত তার প্রাপ্ত ব্যাক্তিগত দ্রব্যাদি সমুহ পুলিশ অফিসার নিরাপদ হেফাজতে রাখবেন। [ধারা- ৫১ ফৌঃকাঃবিঃ]

১২। থানায় নেওয়ার আগে বা পরে কোনো আসামির শরীরে কোনো ক্ষত বা আঘাতের চিহ্ন থাকলে ইহার কারণসহ তা জিডিতে লিপিবদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ২ জন নিরপেক্ষ স্বাক্ষীর সম্মুখে ইহা করতে হবে। [রুল- ৩২৮ পিআর বি]

১৩। থানায় নেওয়ার আগে বা পরে কোনো রকম আহত বা অসুস্থ হলে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। [রুল- ৩২১ পিআর বি]

১৪। কোনো গ্রেফতারকৃত আসামিকে ৩৬ বর্গ ফুটের হাজতখানায় রাখতে হবে। [রুল- ৩২৭ পিআর বি](ক)

১৫। থানায় আসামির জন্য খাবারের ব্যাবস্থা করতে হবে। [রুল- ৩৩৩ পিআর বি]

১৬। কোনো নিষিদ্ধ খাদ্য হাজতখানায় দেয়া যাবে না। [রুল- ৭২০ পিআর বি]

১৭। আদালতের হাজতে আসামিকে পানি সরবরাহ করা যাবে। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে খাবার সরবরাহ করা যেতে পারে। [রুল- ৪৮৭ পিআরবি]

১৮। কোনো আসামিকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা প্রলোভন দেখানো যাবে না [ধারা- ১৬৩(১) ফৌঃকাঃবিঃ]

১৯। কোনো আসামি সেচ্ছায় বক্তব্য প্রদান করতে চাইলে তাকে বাধাঁ দেওয়া যাবে না [ধারা: ১৬৩(২) ফৌঃকাঃবিঃ]

২০। ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক দোষ স্বীকারোক্তি রেকর্ডকরণের পুর্বে আসামীকে বুঝিয়ে দিবেন যে, কোনো আসামি দোষস্বীকার করতে বাধ্য নয়। ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক দোষ স্বীকারোক্তি রেকর্ডকরণের পুর্বে আসামীকে গভীরভাবে চিন্তা করার জন্য কমপক্ষে ৩ ঘন্টা সময় দিতে হবে। [ধারা ১৬৪(৩) ফৌঃকাঃবিঃ]

২১। আসামীর দোষ সম্পর্কিতঃ ফৌজদারি নীতি বিজ্ঞানের মূল কথা যে, প্রসিকিউশন তার কেস প্রমাণ করবে। আসামীর দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আসামী নির্দোষ বলে ধরা হবে। [পিএলডি ১৯৫৭ (এসসি) ২৯৭, ৭ বিএলডি ০১]

২২। কোনো আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমানের দায়িত্ব অভিযোগ আনয়নকারীর ওপর বর্তায়। [ধারা- ১০১ সাক্ষ্য আইন]

২৩। কোনো একটি মামলায় কোনো আসামীকে ১৫ দিনের বেশী পুলিশ রিমান্ড দেয়া যাবে না। [ধারা- ১৬৭(২) ফৌঃকাঃবিঃ, রুল- ৩২৪ পিআরবি]

২৪। একজন আসামি তার মামলা পরিচালনার জন্য তার পছন্দমতো একজন আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। [ধারা-১২৬ সাক্ষ্য আইন]

২৫। একজন আসামীর মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়ার অধিকার রয়েছে। [ধারা- ১৭৩(৪) ফৌঃকাঃবিঃ]

২৬। ফৌঃকাঃবিঃ ১৬১ ধারার নকল পাওয়ার আসামীর আইনগত অধিকার আছে। যদি বিচারামলে দেওয়া না হয় এবং সাক্ষ্য উহা প্রমাণিত হইলে বিচার কার্যক্রম পন্ড হইয়া যাইবে। [১ বিএলডি (এডি) ২৯৬]

২৭। যখন কোনো অপরাধী আদালতের রায় বা আদেশের কপি পেতে চায় তখন আদালত তাকে তা প্রদানের জন্য অনুমতি প্রদান করবে। [ধারা- ৩৭১ ফৌঃকাঃবিঃ]

২৮। বিচারাধীন আসামী ক ও খ এই দুই শ্রেনীর। একজন ক শ্রেণীর আসামীকে হ্যান্ডকাফ পড়ানো বা দড়ি দিয়ে বাঁধা যাবে না। [রুল ৪৭৮(১) এবং ৪৭৮(২) পিআরবি]

২৯। ১৬ বছরের নীচের বয়সের একজন আসামিকে বয়স্ক আসামীর সাথে একত্রে বিচার করা যাবে না। [ধারা- ৬ শিশু আইন,১৯৭৪]

৩০। একজন কিশোর আসামিকে বিচারে শাস্তি প্রদান না করে আদালত তাকে কিশোর সংশোধনী স্থানে প্রেরণের আদেশ প্রদান করতে পারে। [ধারা- ৫১ শিশু আইন ১৯৭৪, ধারা ৩৯৯ ফৌঃকাঃবিঃ]

৩১। একজন সহযোগী আসামী কোন শর্তে মামলায় রাজসাক্ষী হতে চাইলে তা অনুমোদন করা যেতে পারে। [ধারা-৩৩৭(১) ফৌঃকাঃ, রুল ৪৫৯ পি আর বি]

৩২। একজন আসামিকে কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপরাধী বলা যাবে না। [অনুঃ১১ মানবাধিকার ঘোষণা]

৩৩। কোনো আসামিকে একই অপরাধের জন্য দুই বার শাস্তি দেওয়া যাবে না। [অনুঃ ৩৫(২) সংবিধান, ধারা- ৪০৩(১) ফৌঃকাঃবিঃ এবং জেনারেল ক্লজেজ অ্যাক্ট ১৮৯৭ এর ২৬ ধারা, ১২ এমএলআর (এডি) ৩৫২]

৩৪। হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে না। [ধারা- ৩৭৪ ফৌঃকাঃবিঃ]

৩৫। অধস্তন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আসামি আপীল দায়ের করতে পারবে এবং আপীল সাপেক্ষে দন্ড স্থগিত রেখে জামিন দিতে পারেন। [ধারা- ৪০৭,৪০৮,৪১০, ৪২৬ ফৌঃকাঃবিঃ]

৩৬। যত দ্রুতগতিতে সম্ভব মামলার বিচার সম্পন্ন করতে হবে। [অনুঃ ৩৫(৩) সংবিধান]

৩৭। বিচার চলাকালে আসামীপক্ষ এবং বাদী পক্ষ উভয়ই সাক্ষ্য সম্পর্কে জানার অধিকারী। [৫১ ডিএলআর ২৬৮]

৩৮। দঃবি ৩০২ ধারার অপরাধের জন্য আসামী আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য একজন আইনজীবী পাইবে। [৬০ ডিএলআর(এইচ সি) ২৪]

৩৯। আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রমাণের দায় দায়িত্ব আসামী পক্ষের উপর বর্তায়। [৪৮ ডিএলআর (এইচ সি) ৬১]

৪০। ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মতে রেকর্ডকৃত বিবৃতির উপর ভিত্তি করে কোনো দন্ডাদেশ দেয়া যায় না। [৫ বিএলডি ৩১৮]

৪১। কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশ অফিসারের নিকট কিংবা পুলিশ হেফাজত থাকাকালে কোনো দোষ স্বীকারোক্তি করে থাকলে তা ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ করা যাবে না। [ধারা- ২৫,২৬ সাক্ষ্য আইন, ৯ ডিএলআর (এসসি)]

৪২। বে-আইনীভাবে তল্লাশী বা তল্লাশী কালে কাউকে হয়রাণী ও বিরক্ত করা যাবে না।

জনসাধারণের প্রতি হয়রানিমূলক আচরণ না করে পুলিশ অফিসার মামলার তদন্তকার্য পরিচালনা করবেন। তদন্তকারী অফিসার সাক্ষীর বাড়ীতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং যতদূর সম্ভব ঘরোয়া পরিবেশে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। প্রশ্নের ধরন যেন কোনো প্রকারের হয়রানিমূলক না হয়। [রুল- ২৬০ পি আর বি]

৪৩। কোনো গর্ভবতী মহিলা আসামীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ দন্ড স্থগিত রাখার আদেশ দিবেন কিংবা উপযুক্ত মনে করলে দন্ড হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন। [ধারা-৩৮২ ফৌঃকাঃবিঃ]

সর্বশেষে বলব, আসুন সবাই আমরা আমাদের আইনগত অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হই এবং দেশের বিদ্যমান আইনকানুন মেনে চলি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তথা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে অগ্রসর ভূমিকা রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই।

 

 

লেখক: আইনজীবী ও ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম’র আদালত প্রতিনিধি, কুমিল্লা



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon