জবানবন্দি ও জেরা সম্পর্কে পল ব্রাউনের সোনালী নীতি


প্রকাশিত :১২.০১.২০১৭, ২:১০ অপরাহ্ণ

20161212_110416-1-1মীর আবুল কালাম আজাদ

জবানবন্দি বিচার্য বিষয় এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়ের মধ্যে সীমিত থাকে। জবানবন্দি এমন সকল বিষয়ে গ্রহন করতে হবে, যে বিষয়ে তার জ্ঞান প্রত্যক্ষ।

ফিলাডেলফিয়া বারের ডেভিট পল ব্রাউন জবানবন্দি ও জেরা সম্পর্কে কতিপয় নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশগুলি সর্বজনীনস্বীকৃতি ভাবে অতি মূল্যবান এবং আইনজীবীদের জন্য প্রণীত-

জবানবন্দি সম্পর্কে পল ব্রাউনের সোনালী নীতি

১। সাক্ষী যদি অতি সাহসী হয় তাহলে আপনি গম্ভীর হবেন। এর ফলে সাক্ষীর সাহসিকতা কমে যাবে।
২। সাক্ষী যদি ভীরু হয় তাহলে পরিচিত বিষয় নিয়ে তার জবানবন্দি শুরু করুন। যেমন- আপনার বাড়ি কোথায়? আপনি পক্ষগণকে চিনেন কিনা? এ জাতীয় সাধারণ প্রশ্ন করতে পারেন। যাতে করে সাক্ষীর দূর্বলতা কমে যাবে। সাক্ষী শান্ত ও সংযত হলে তাকে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন করুন, সর্বদা নম্র থাকুন, না হয় সাক্ষী আবার মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়বে।
৩। আপনার সাক্ষীর সাক্ষ্য যদি আপনার অনুকূলে না হয়ে তার প্রতিকূলে হয়ে পড়ে, সেই স্থানেও আপনার চিত্ত্বে যেন নৈরাশ্য না জাগে, আপনার মুখে নৈরাশ্যের প্রভাবের ফলে আপনার মক্কেলের ক্ষতি হতে পারে।
৪। সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করতে গিয়ে আপনি যদি লক্ষ্য করেন যে, সাক্ষীর মন আপনার মক্কেলের প্রতিকূলে তাকে তাড়াতাড়ি সাক্ষীর ডক থেকে বিদায় করুন। মনে রাখবেন ঘরের শত্রু অতিশয় বিপদজনক।
৫। যে সাক্ষীকে আপনার বিরূদ্ধ পক্ষ ডাকতে বাধ্য তাকে কখনই ডাকবেন না। তাকে আপনি জেরা করে দ্বিগুণ ফায়দা উঠাতে পারবেন। বিপক্ষের সাক্ষীর মুখ হতে আপনার মক্কেলের অনুকূলে কোন বক্তব্য পাওয়া গেলে তার মূল্য দ্বিগুণ হয়ে উঠবে।
৬। উদ্দেশ্য ছাড়া প্রশ্ন করবেন না
৭। আপত্তি হলে যে প্রশ্ন টিকবে না তেমন প্রশ্ন সেভাবে কখনই করবেন না।
৮। বিরুদ্ধ পক্ষের আইনজীবী যে প্রশ্ন সাক্ষীকে করতে চান তাকে অনর্থক বাধা দিবেন না।
৯। স্পষ্ট করে ও সজাগভাবে প্রশ্ন করবেন।
১০। প্রশ্নের সময় আপনার কন্ঠস্বর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উঠানামা করবে।
১১। প্রস্তুত না হয়ে জবানবন্দি গ্রহণ শুরু করবেন না। বক্তব্য প্রাপ্ত হলে অযথা সাক্ষীকে হাতে রাখবেন না। বসে পড়বেন।

জবানবন্দীর পর সাক্ষীর জেরা শুরু হয়, সাক্ষীকে জেরা করার অধিকার মৌখিক । জেরা বলতে বুঝায় কাউকে জব্দ করা। জেরা করার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো ৩ টি—

১। প্রতিপক্ষের সাক্ষীকে নশ্চাৎ করা।
২। প্রতিপক্ষের সাক্ষীকে জেরা করে স্বপক্ষের কিছু বক্তব্য আদায় করে নেয়া।
৩। সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে সন্দেহের সৃষ্টি করা। জেরা করার উদ্দেশ্য কেবল বিপক্ষের মামলাকে ধ্বংস করা নয়। নিজ পক্ষের মামলাকে প্রতিষ্ঠিত করা ও বটে।

জেরা সম্পর্কে পল ব্রাউনের সোনালী নীতি

১। সাক্ষীর চোখে চোখ রাখুন।
২। সাক্ষীর কন্ঠস্বরের দিক লক্ষ্য রাখুন।
৩। নম্রের সাথে নম্র দুষ্টুর সাথে চতুর সৎ এর সাথে
৪। ফৌজদারি মোকদ্দমায় বিশেষ করে গুরুতর অপরাধের মোকদ্দমায় সতর্ক হয়ে প্রশ্ন করবেন, অসতর্ক প্রশ্ন বিপদ ডেকে আনতে পারে। ফলে আপনার মক্কেলের ক্ষতি হতে পারে।
৫। দ্ব্যর্থবোধক বা অনিশ্চয়তা বোধক প্রশ্ন করবেন না।
৬। সাক্ষী বেয়াদব হলে তার সাথে প্রথমে হিসাব চুকিয়ে নেন। আপনার শক্তি পরিচয় সাক্ষীকে প্রদান করুন। কিন্তু সাবধান মেজাজ হারাবেন না।
৭। অভিজ্ঞ দাবারুর মত আপনার পদক্ষেপকে এমন উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রণ করুন যাতে সবগুলোর একএিভূত সমাহার আপনার উপকারে আসে।
৮। বিরুদ্ধ পক্ষকে দুর্বল ভাববেন না।
৯। আদালতের প্রতি সন্মান দেখান, সহ-কর্মীর প্রতি স্বহৃদয় হোন, সাথে সাথে নিজ মর্যাদার প্রতি সজাগ থাকুন।

 

 
লেখক: অ্যাডভোকেট, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, কুমিল্লা



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon