আইনের শিক্ষকরাও এমিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া উচিত


প্রকাশিত :০৫.০৭.২০১৭, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ

debul-kumarকুমার দেবুল দে

Amicus Curiae; Friend of the Court অর্থাৎ আদালতের বন্ধু। আমার ওকালতি জীবনে বা বাস্তব জীবনে অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ মামলা সংক্রান্তে দেখেছি কিছু কিছু মামলায় আদালতকে সিদ্বান্ত গ্রহনে সহায়তা করার জন্য এমিকাস কিউরি নিয়োগ করা দরকার হয় এবং বিচার্য বিষয়ে তাদের মতামত গ্রহন করা হয়ে থাকে।

আদালত সাধারণত বিবাদমান পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে তার সুচিন্তিত রায় প্রদান করে থাকেন। সাধারণত যেইসব মামলায় এমিকাস কিউরি নিয়োগ করা হয় সেইসব মামলায় বিবাদমান পক্ষের আইনজীবীরাও তাদের মামলার পক্ষে বক্তব্য প্রদান করে থাকেন যেহেতু এইসব মামলায় জনগুরুত্বপূর্ন বিষয় বা সংবিধানিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় বা আদালত বিবাদমান পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যের উপর খুব বেশী আস্থাশীল হতে পারেন না তখন আইনের উচ্চমার্গীয় ব্যাখ্যার জন্য সিনিয়র আইনজীবীদের মতামতের উপর নির্ভর করেন।

এমিকাস কিউরিরা আদালতে কি ধরনের বক্তব্য প্রদান করে থাকেন তা ওকালতিতে এসে কাছে থেকে ভাল করে খেয়াল করার চেষ্টা করেছি, আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি দেখার চেষ্টা করেছি, তারা কি ধরনের বক্তব্য আশা করেন তা বুঝার চেষ্টা করেছি আর সিনিয়র আইনজীবীরাও বিচার্য বিষয়ের কি সীমা রেখার উপর বক্তব্য প্রদান করেন তা খেয়াল করেছি, যেকোন আইনগত বিষয়ের উপর আদালত একাডেমীক আলোচনা ( Academic Discussion) আশা করেন আর এমিকাস কিউরিরাও একাডেমিক আলোচনাই করে থাকেন। এমিকাস কিউরিরা অনেক সময় তাদের ওকালতি আর ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করে বা আদালতের শারীরিক ভাষা বুঝে তার স্বাধীন মতামত প্রকাশ না করে কিছুটা বা পুরোটাই পক্ষপাত দুষ্ট বক্তব্য প্রদান করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে কোন কোন এমিকাস কিউরি একই বিষয়ে হাইকোর্টে একধরনের বক্তব্য আর আপীল বিভাগে তার বিপরীত ধরনের বক্তব্যও রেখে থাকেন যা আমরা ষোড়শ সংশোধনী মামলায়ও দেখেছি।

এমিকাস কিউরিরা যেহেতু বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই একাডেমিক আলোচনা করে থাকেন সেহেতু এইক্ষেত্রে একাডেমিশিয়ান বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও বক্তব্য পাশাপাশি শোনা বাঞ্ছনীয় তাই আদালত সিনিয়র আইনজীবীদের পাশাপাশি আইন বিষয়ে পন্ডিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদেরও এমিকাস কিউরি হিসাবে নিয়োগ দিয়ে তাদেরও বক্তব্য শুনতে পারেন যা ন্যায় বিচার প্রদানে আরও ভাল ভুমিকা রাখতে পারে। ষোডশ সংশোধনী মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে, এই মামলায় হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এমিকাস কিউরি নিযুক্ত করা হয়েছিল আবার আপিল বিভাগেও ১২ জন এমিকাস কিউরি নিযুক্ত করা হয় যাদের মধ্যে একজনও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ছিলেন না বা অতীতেও অনেক মামলায় এমিকাস কিউরি নিযুক্ত হয় তাদের মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের খুব একটা দেখিনি। কেন এই অবহেলা? উচ্চ আদালত কি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আইন বিষয়ে পন্ডিত ব্যক্তি মনে করেন না? তাহলে কোথাও ভুল হচ্ছে। আমরা তাদের কাছ থেকেই পড়ে আসছি আমরা জানি তাদের পান্ডিত্য, তাদের ছাত্ররাই তো বিচারপতি হচ্ছেন তাদের তো অবশ্যই জানা উচিত ছিল।

 

লেখক- অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। 



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon