সরকার সর্বোচ্চ আদালতকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে


প্রকাশিত :০৮.১১.২০১৭, ৫:০২ অপরাহ্ণ

সরকার দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে করায়ত্ত এবং ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

আজ বুধবার (৮ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি লক্ষ্য করছি সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির লোকজন বারবার আদালত প্রাঙ্গণে পদচারণা করছেন। যা অতীতে কখনও দেখিনি। আমরা আইনজীবী সমিতি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা অতীতে অনেকবার বলেছি, আমরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিকে সব সময় রাজনীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঊর্ধ্বে রাখতে চাই। এই সমিতি দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় সবসময় ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি আমাদের বিবৃতিতে তা প্রকাশ হচ্ছে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল জনগণের টাকায় বেতনভুক্ত সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত থেকে দেশের সংবিধান, আইনের শাসন, বিচার বিভাগ এবং জনগণের আইনগত অধিকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।’

 

অ্যাডভোকেট জয়নুল বলে, ‘আজ পত্রিকায় দেখলাম, তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিকে একটি রাজনৈতিক দল পরিচালিত করছে।’ যদিও তিনি দলের নাম উল্লেখ করেননি। এই ধরনের সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ আইনজীবী সমিতি আয়োজন করেনি। কাজেই এই বক্তব্য ভিত্তিহীন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম একের পর এক বিচার বিভাগকে ধ্বংসের লক্ষ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।’

এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, সরকার বলেছে, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ক্যান্সারে আক্রান্ত আর প্রধান বিচারপতি বলেছেন তিনি অসুস্থ নন। এ কথা বলে সরকার দেশের বিচার বিভাগে ক্যান্সার ছড়িয়ে দিয়েছে।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আমরা সব সময় দেখে আসছি বছরে একবার অথবা দুইবার প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন। আপ্যায়িত হন। কিন্তু গত এক মাসে দাওয়াতের সংখ্যা বেড়ে গেছে। বেড়ে গেছে আপ্যায়ানও।

কী এত আলাপ প্রশ্ন রাখেন তিনি? সংবিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতি, দেশের অভিভাবক। তার কী এখতিয়ার আছে- তা সংবিধানে উল্লেখ আছে। ইদানীং একটু ব্যতিক্রম দেখা গেছে।

সুপ্রিমকোর্টের প্রেসনোটে বলা হয়েছে, বিচারপতিরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। আমাদের প্রশ্ন হলো- রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি ছাড়া অন্যদের ডাকতে পারেন কিনা? কোন অনুচ্ছেদের বলে তাদের ডাকলেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি কী প্রধান বিচারপতির প্রতি পাঁচ বিচারপতিকে সংগঠিত করে আইনি অভ্যুত্থান ঘটাতে বাধ্য করাবেন।

 

সুপ্রিমকোর্ট প্রতিনিধি/ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon