প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্রের বিষয়টি জানেন না আইনমন্ত্রী


প্রকাশিত :১১.১১.২০১৭, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) পদত্যাগপত্র পাঠানোর ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) দিনগত রাত ২টার পরে একথা জানান তিনি।

শুক্রবার মধ্যরাতে একটি বেসরকারি চ্যানেলের খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এসকে সিনহা। এ ব্যাপারে জানার জন্য ফোন করা হলে আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি এখনও এ বিষয়ে কিছু জানি না।’

আর এ ব্যাপারে জানার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার পরিবারের এক সদস্য জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল অসুস্থ। তিনি এখন কথা বলতে পারবেন না।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ও তথ্য কর্মকর্তা সাইফুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ-সংক্রান্ত চিঠির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। যদিও প্রধান বিচারপতির ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদত্যাগপত্র পাঠানোর খবরটি তারা শুনেছেন। তবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র পাঠানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুরো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ছুটি শুক্রবার (১০ নভেম্বর) শেষ হয়েছে। ছুটিতে থাকা অবস্থায় গত ১৩ অক্টোবর তিনি অস্ট্রেলিয়া যান।

প্রসঙ্গত, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকারের সঙ্গে এসকে সিনহার টানাপড়েন সৃষ্টি হয় অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ নিয়ে। এই বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের গড়িমসি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন তোলেন এসকে সিনহা।

তবে সর্বশেষ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর আপিলের রায়ের পর সরকারের সঙ্গে এসকে সিনহার সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়। এই রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সৃষ্টি হয় তুমুল বিতর্ক। সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে রায়ে এসকে সিনহার পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে।

এরপর আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটাতে গত ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। আইনমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রধান বিচারপতি অসুস্থ’এই দাবি করার প্রেক্ষিতে এসকে সিনহা বিদেশ যাওয়ার আগে সেই রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। কিন্তু ইদানিং একটা রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী, বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটি মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে পরিবেশন করায় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন। এই অভিমান অচিরেই দূর হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান এসকে সিনহা। তার চাকরির মেয়াদ রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। গত ২ অক্টোবর একমাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠান প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। তিনি ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে চান বলেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছেন।

 

নিজস্ব প্রতিনিধি/ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon