মায়ানমার গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে: স্টুডেন্টস ট্রাইবুনাল


প্রকাশিত :১১.১১.২০১৭, ৫:২৫ অপরাহ্ণ

রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর মিয়ানমার সরকার কর্তৃক দীর্ঘদিন ধরে চালানো গণহত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য উপাদান আছে বলে আদেশ দিয়েছেন ‘এসসিএলএস স্টুডেন্টস ট্রাইবুনাল’।

আজ শনিবার (১১ নভেম্বর) এই বিচারিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

তিন বিচারক নিয়ে গঠিত প্যানেলে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের রচয়িতা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার এম আমির-উল-ইসলাম, সঙ্গে ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম মাসুম বিল্লাহ ও আইন বিষয়ক অনলাইন নিউজ পোর্টাল ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডট কমের সম্পাদক অ্যাডভোকেট ড. বদরুল হাসান কচি।

আদেশে আদালত বলেন, সাক্ষ্য ও যুক্তিতে প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, মায়ানমার ঘটনায় গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য উপাদান আছে। একইসঙ্গে আদালত চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্তের জন্য এ বিষয়ে আরও পূর্ণ অধ্যয়ন, মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন।

মিয়ানমারে গণহত্যা বিষয়ে দেশে এটা ছিল প্রথম প্রতীকী ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমারের রাখাইনে গণহত্যা নিয়ে ২৪ জন সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন। এতে জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংস্থার প্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যম তথা বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার-এর প্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী রোহিঙ্গারা মিয়ানমার সেনাদের বর্বরোচিত নির্যাতনের চিত্র ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থীরা এসব সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করেন। ২৪ জনের সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে বাদীপক্ষের (প্রসিকিউশন) চারজন এবং বিবাদীপক্ষের (ডিফেন্স) চারজন যুক্তিতর্কে অংশ নেন।

রোহিঙ্গা সংকটকে প্রতিপাদ্য করে সোসাইটি ফর ক্রিটিকাল লিগ্যাল স্টাডিজ’ (এসসিএলএস) এর আয়োজনে ‘এসসিএলএস স্টুডেন্টস ট্রাইব্যুনাল’ নামে একটি ছায়া ট্রাইবুনাল গঠন করে। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চালানো গণহত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে মায়ানমার সরকারকে অভিযুক্ত রেখেই এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদালতের নিয়ম মেনেই ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের মামলা ট্রাইব্যুনালে পেশ করেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে রোহিঙ্গা সংকটকে প্রতিপাদ্য করে মুক্ত আলোচনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নির্মল কুমার সাহার সভাপতিত্বে উপরোক্ত বিচারকরা ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রতন কুমার রায়, অধ্যাপক ড. রহমান নাছির উদ্দিন ও কমোডোর এস এম মনির, মোঃ আমানুল্লাহ, অ্যাড. আবু তৈয়ব কিরণ, অ্যাড. সাকলান ইমন, আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মাসুমা জামান প্রমুখ।

চট্টগ্রাম থেকে প্রিন্স মাহামুদ আজিম/ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকম



ট্রেডমার্ক ও কপিরাইট © 2016 lawyersclubbangladesh এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত।
Designed By Linckon